ক্রাইম থ্রিলার- অদৃশ্য আততায়ী : পর্ব ১১

মিজানুর রহমান রানার ধারবাহিক থ্রিলার : অদৃশ্য আততায়ী। আজ লিখেছেন শেষ পর্ব।

এগারো.
রাত ৩:১৮ মি.। টেকনাফ-কঙ্বাজার পুরান লাইটহাউস। ঘড়ির কাঁটা ৩:১৭ তে আটকে গেছে। বাঙ্কারের বাতাস ভারী, বারুদের গন্ধ আর ঘামের সঙ্গে মিশে আছে বিশ বছরের পুরনো প্রতিশোধের ঝাঁজ।

সফিউলের হাতে হ্যান্ডকাফ। তবু তার ঠোঁটে বাঁকা হাসি। সে চিবিয়ে চিবিয়ে বললো, ‘ঘড়ি থামলেও সময় থামে না ইরফান সাহেব। রাজা এখনো বোর্ডের বাইরে।’

ইরফান কপালের ঘাম মুছল না। পিস্তল নামিয়ে বলল, ‘রাজা বোর্ডের বাইরে থাকলে আমরা বোর্ডটাই উল্টে দেব মাস্টার সফিউল।’

ঠিক তখনই তুষারের চিৎকার ওয়াকিটকিতে ফাটল, ‘স্যার, সারফেসে মুভমেন্ট! পেছনের ক্লিফের দিকে! থার্মালে একটা বডি, ক্রল করে সাগরের দিকে যাচ্ছে!’

ইরফানের চোখ ছোট হলো। ‘ইমতিয়াজ, জামশেদকে আর বাকি দুটোকে বাঁধো। অনন্যা, রাশমিকা-আলী নেওয়াজ আর সম্পাকে উপরে তোলো। মেডিকেল কল দাও। আমি আর তুষার যাচ্ছি।’

সফিউল খিকখিক করে কুকুরের মতো হাসল, ‘যাও যাও। ছায়া ধরতে পারবা না। ছায়ার পা থাকে না।’ সে যেনো পুরো ঘটনায় মজা নিচ্ছে ধীরে ধীরে।

৩:২৫ । লাইটহাউসের পেছন, ক্লিফের কিনার।
সমুদ্র ফুঁসছে। নিচে সাদা ফেনা পাথরে আছড়ে পড়ছে। সরু একটা পায়েচলা পথ নেমে গেছে খাঁড়ির দিকে। বিশ বছর আগে জেনারেটরের ডিজেল নামানোর জন্য ব্রিটিশরা করেছিল। ম্যাপে নেই।

তুষার নাইটভিশনে দেখল, ‘স্যার, ওই যে! কালো রেইনকোট, খুঁড়িয়ে হাঁটছে। ডান পায়ে গুলি লেগেছে মনে হয়।’

ইরফান দৌড় দিল। পেছনে তুষার কভার দিচ্ছে। বাতাসে লবণ আর রক্তের গন্ধ মিলেমিশে একাকার।

ক্লিফের মাঝামাঝি একটা গুহার মুখ। ভেতর থেকে টর্চের আলো চমকাল। গুহার ভেতর একটা পুরনো স্পিডবোট বাঁধা। ইঞ্জিনে চাবি।

আর স্পিডবোটের পাশে দাঁড়িয়ে সজল। ক্রাইম ব্রাঞ্চের সজল, যাকে দুদিন আগে সাসপেন্ড করা হয়েছিল ‘তথ্য পাচারের’ অভিযোগে। হাতে গ্লক-১৭, তাক করে আছে রেইনকোট পরা লোকটার দিকে।

রেইনকোটের হুড সরে গেল। ভেজা চুল, কপালের সেই তিন ইঞ্চি কাটা দাগ। সফিউল করিম। আসল সফিউল।

বাঙ্কারে যাকে ধরা হলো সে কে?

সজল থুতু ফেলল, ‘স্যারকে ফোন দিয়েই বুঝছিলাম, আপনি ক্লিফের রাস্তা ইউজ করবেন মাস্টার সাব। ২০০৪ সালে আপনার ফাইল ঘেঁটে এই গুহার কথা পাইছিলাম। অপেক্ষা করছিলাম।’

সফিউল এক পা পিছাল। পেছনেই সাগর। ‘তুই? সজল? তুই তো আমার ছাত্র ছিলি! আমি তোকে চাকরি দিছিলাম!’

‘ছাত্র ছিলাম, স্যার। কিন্তু আমার বোনটা ছাত্রী ছিল না। রুমি আমার খালাতো বোন ছিল। আপনি ওকে সাত নম্বর গুটি বানাইছেন।’ সজলের গলা কাঁপল না। ‘হাত উঠান।’

ঠিক তখনই গুহার মুখে ছায়া পড়ল। সামনে দাঁড়িয়ে আছে ইরফান। পিস্তল তাক করা। ‘সজল, ট্রিগার নামাও। ওকে আমাদের লাগবে। জীবিত।’

সফিউল দুইজনকে দেখল। তারপর পাগলের মতো হাসল। ‘বাহ! গুরু-শিষ্য একসাথে! তা ইরফান সাহেব, বাঙ্কারে কাকে ধরলেন? ওটা আমার জমজ ভাই। কাশেম। ওকে ২০ বছর ধরে লুকায়ে রাখছি। মুখ পাল্টাইছি, দাগ বসাইছি। যাতে আমি মরলে সেও মরে। যাতে পুলিশ ভাবে বিগ বস শেষ।’

ইরফানের মাথায় বিদ্যুৎ খেলে গেল। তাই বাঙ্কারের সফিউল ধরা দিতে এত সহজে রাজি হলো। রাজাকে বাঁচাতে মন্ত্রী কোরবানি।

‘তোর খেলা শেষ সফিউল,’ ইরফান এক পা আগাল। ‘রূপা, রুমি, রেশমা, শায়লা, পপি, জিনিয়া, মিতু-সাতটা মেয়ে। আর আলী নেওয়াজকে ফাঁসাতে গিয়ে তুই নিজেই খুনি হয়ে গেছিস।’

সফিউল হঠাৎ লাফ দিল স্পিডবোটের দিকে। সজল গুলি করল। গুলি লাগল সফিউলের কাঁধে। তবু সে চাবি ঘুরিয়ে দিল। ইঞ্জিন গর্জে উঠল।

ইরফান আর এক মুহূর্তও সময় নষ্ট করল না। ঝাঁপ দিল বোটের উপর। সফিউল বৈঠা দিয়ে বাড়ি মারল। ইরফানের কপাল ফেটে রক্ত বের হতে লাগলো। তবুও ইরফান মরিয়া হয়ে সফিউলের জ্যাকেট খামচে ধরল। দুজনেই পড়ল গুহার ভেজা মেঝেতে।

শুরু হলো ধস্তাধস্তি। বিশ বছরের ক্ষোভ, সাতটা লাশের ভার, একটা বাপের কান্না-সব মিশে গেল দুটো শরীরে। সফিউল ট্রেনিংপ্রাপ্ত, আর ইরফান খ্যাপা বাঘ। যে কিনা দীর্ঘদিন ধরেই এসব পিশাচদেরকে নিয়ে ধরে ধরে গারদে পুরছে, তার সামনে তো এসব কিছুই নয়। সে শুরু করলো ঘুষি, লাথি, কনুই-গুহার দেয়ালে রক্তের ছিটা বেয়ে বেয়ে পড়তে লাগলো

সজল চিৎকার করছে, ‘স্যার, সরে আসেন! ক্লিয়ার শট দেন!’

‘গুলি করবি না!’ ইরফান গর্জাল। ‘ওকে আদালতে নেব!’

সফিউল হঠাৎ কোমর থেকে একটা সরু ছুরি বের করল। ইরফানের পাঁজরে ঢ়ুকিয়ে দিতে গেল। ইরফান কবজি পাকড়ে ধরল। হাড় মড়মড় করে উঠল। ছুরি পড়ে গেল। ইরফান সফিউলের গলা চেপে ধরল-ঠিক ০.৮ সেন্টিমিটার বেশি গভীরে বুড়ো আঙুল বসিয়ে না, আইনের হাত দিয়ে।

‘এইটা রূপার জন্য,’ ইরফান ফিসফিস করল। ‘আর এইটা রুমির জন্য।’

সফিউলের চোখ উল্টে আসছে। তখনই ইরফান ছেড়ে দিল। হ্যান্ডকাফ ক্লিক করে আটকাল দুই হাতে।

‘মরলে তো হিসাব চুকবে না মাস্টার। বাঁচতে হবে। জেলে, প্রতিটা ৩:১৭ তে।’

সফিউল কাশতে কাশতে হাসল। রক্তমাখা দাঁতে বলল, ‘তুই জিতলি ইরফান। কিন্তু আলী নেওয়াজ? ওকে বাঁচাবি কী দিয়ে?’

ভোর ৪:০৫ । লাইটহাউসের উপরে। আলী নেওয়াজের জ্ঞান ফিরেছে। সম্পা বাবাকে জড়িয়ে কাঁদছে। অনন্যা স্যালাইন ধরেছে।

ইমতিয়াজ জামশেদকে টেনে তুলছে। জামশেদ বিড়বিড় করছে, ‘আমারে ছাইড়া দেন স্যার। আমি সব কমু। আরমান ভাই কই।’

তখনই ওয়াকিটকিতে ইরফানের গলা শোনা গেলো, ‘সবাইকে গেটে আনো। মিডিয়া আসছে। আর এসপি স্যারও।’

ভোর ৫:১০ । টেকনাফ থানা। প্রেস ব্রিফিং। সামনে সাতটা ছবি। সাতটা মেয়ে। পেছনে দাঁড়িয়ে ইরফান, ইমতিয়াজ, সজল, তুষার, অনন্যা, রাশমিকা।

এসপি সাহেব বললেন, ‘মাস্টার সফিউল করিম ওরফে বিগ বস, তার জমজ ভাই কাশেম করিম, আরেগ মাফিয়া গ্যাংস্টার জামশেদ এবং আরমান-এই চক্র গত ২০ বছর ধরে টেকনাফ-কঙ্বাজার রুটে খুন, ইয়াবা পাচার, আর প্রতিশোধের নামে সিরিয়াল কিলিং চালিয়েছে। মূল টার্গেট ছিল আলী নেওয়াজ। ২০০৪ সালে রূপা খুনের দায় আলী নেওয়াজের ছিলো না। ফরেনসিক রিপোর্ট চাপা দিয়েছিল তৎকালীন ওসি।’

সাংবাদিকরা গুঞ্জন তুলল। ‘আলী নেওয়াজ নির্দোষ?’

ইরফান মাইক টানল। ‘আলী নেওয়াজ রূপাকে খুন করেনি। কিন্তু সে অপরাধী। সে ২০০৪ সালে মাতাল অবস্থায় রূপাকে ধাক্কা দিয়েছিল। রূপা পড়ে গিয়ে মাথায় আঘাত পায়। ভয়ে আলী নেওয়াজ পালায়। পরে সফিউল এসে শ্বাসরোধ করে মারে, যাতে দোষ আলীর ঘাড়ে পড়ে। আলী নেওয়াজের অপরাধ-সত্য গোপন করা, পুলিশকে টাকা খাওয়ানো। এর জন্য তার বিচার হবে।’

আলী নেওয়াজ মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে। সম্পা বাবার হাত ধরেছে। ‘বাবা ভুল করছে, কিন্তু বাবা খুনি না।’

সকাল ৬:০০ । জিজ্ঞাসাবাদ কক্ষ। সফিউল চেয়ারে বাঁধা। সামনে ইরফান। টেবিলে রূপার ছবি।

‘বলেন মাস্টার সাহেব। শুরু থেকে।’

সফিউল চোখ বন্ধ করল। তারপর বলতে লাগল, ‘২০০৪, ১৭ নভেম্বর। রূপা কোচিং থেকে ফিরছিল। আলী নেওয়াজ মদ খেয়ে গাড়ি চালাচ্ছিল। ধাক্কা লাগে। রূপার মাথা ফাটে। আলী ভয়ে পালায়। আমি খবর পাই। গিয়ে দেখি মেয়ে কাঁপছে। হাসপাতালে নিলে বাঁচতো। কিন্তু আমার মাথায় তখন আগুন। আলী নেওয়াজ আমার জমি মেরেছিল, আমার ভাইকে জেলে দিয়েছিল। আমি রূপার গলা টিপে ধরলাম। ভাবলাম আলী ফাঁসবে। মরে গেল। তারপর নিজেই কেস করলাম। কিন্তু ওসি টাকা খেয়ে আলীকে ছেড়ে দিল। আমার মেয়ে গেল, বিচারও গেল। সেদিন ঠিক করলাম-আইন না, আমি বিচার করব। কাশেমকে নাফ নদীতে মরার নাটক সাজালাম। আমি আন্ডারগ্রাউন্ডে গেলাম। রবিনকে ট্রেনিং দিলাম। প্রতি খুনে আলীর বুড়ো আঙুলের ছাপ বসাতাম। ৩:১৭-রূপা মরার টাইম।’

ইরফান লিখে নিল। ‘আর আরমান?’

‘আরমান এক সময়ে আলীর ছায়া হলেও আমি তাকে টাকা দিয়ে কিনে নেই। ওই লাইট নিভিয়েছিল। ওকে দিয়ে জামশেদকে জেল থেকে বের করছি।’

দরজা খুলে গেল। সজল ঢ়ুকল। হাতে হ্যান্ডকাফ পরা আরমান।

‘স্যার, শহরে পালাচ্ছিল। ধরে ফেলছি।’

আরমান হাঁটু গেড়ে বসল। ‘স্যার, আমারে মাফ করেন। সফিউল স্যার আমার মায়ের অপারেশন করাইছিল। ঋণ শোধ করতে…।’

ইরফান উঠে দাঁড়াল। ‘ঋণ শোধ করতে সাতটা মেয়ে? ঋণ তো এখন ফাঁসির দড়ি আরমান।’

দুই মাস পর । কঙ্বাজার জেলা আদালত। রায়ের দিন। কাঠগড়ায় তিনজন। সফিউল করিম-ডাবল যাবজ্জীবন। কাশেম করিম-যাবজ্জীবন। জামশেদ-১৪ বছর। আরমান-ফাঁসি। আলী নেওয়াজ-প্রমাণ গোপন ও দুর্ঘটনায় দায়িত্ব অবহেলার জন্য ৭ বছর সশ্রম কারাদণ্ড।

রায় শুনে সফিউল চিৎকার করল না। শুধু ইরফানের দিকে তাকিয়ে বলল, ‘ঘড়ি এখন চলছে ইরফান সাহেব। ৩:১৭ আর আসবে না।’

ইরফান বলল, ‘আসবে। প্রতিদিন আসবে। আপনি আর কাশেম সেলের দেওয়ালে দাগ কাটবেন।’

আদালত থেকে বের হয়ে সম্পা ইরফানের সামনে দাঁড়াল। চোখে জল নেই। ‘স্যার, বাবা দোষী। কিন্তু আমি আপনার কাছে কৃতজ্ঞ। আপনি সত্যিটা বের করছেন।’

ইরফান হাসল। ‘সত্যিটা কবর দেওয়া যায় না সম্পা। ২০ বছর লাগুক, সত্য হাঁটতে হাঁটতে ঠিক বের হয়ে আসে।’

পাশে দাঁড়ানো তুষার বলল, ‘স্যার, মিশন ক্লোজ?’

ইরফান আকাশ দেখল। সমুদ্র থেকে মেঘ উঠছে। দূরে সেই পুরান লাইটহাউস। এখন আবার আলো জ্বলে।

‘না তুষার,’ ইরফান বলল। ‘আমরা আমাদের দেশটাকে এই নরপিশাচদের থেকে রক্ষা করছি মাত্র, কিন্তু নতুন নতুন নরপিশাচ তৈরি হচ্ছে, শয়তানরা কখনোই মরে না। ওরা বেঁচেই থাকে।’

এই সময়ে কল এলো মি. আজিমের। ইরফান রিসিভ করতেই তিনি বললেন, ‘পৃথিবীতে খুন-খারাবি, রক্তপাত শেষ হয় নাই। ইজরাইল-ফিলিস্তিন, রাশিয়া-আমেরিকা- একে অন্যের বিরুদ্ধে লেগেই থাকবে কেয়ামত পর্যন্ত। কিন্তু আমরাও আমাদের দেশটাকে শান্তির পরশ বুলিয়ে এসব অপরাধীদের ধরবো আর বিচারের জন্য সোপর্দ করবো। ঠিক আছো তোমরা?’

‘হ্যাঁ, স্যার আমরা ঠিক আছে।’

মিস্টার আজিম গুনগুন করে গান গায় আর ভাবে। যতদিন ভাবনা থাকবে, ততদিন আমাদের কাজও থাকবে।

অনন্যা ফোন দেখাল। ‘স্যার, নতুন কেস। চট্টগ্রাম বন্দরে কন্টেইনারে লাশ। গলায় একই দাগ।’

রাশমিকা দ্রুত বাইক স্টার্ট দিল। সজলও পিস্তল চেক করল। ইরফান গাড়ির দরজা খুলল। ‘চলো। অদৃশ্য আততায়ী মরে, কিন্তু ছায়া মরে না। ছায়া ধরতে হয়।’

গাড়ি ছুটল। পেছনে পড়ে রইল আদালত, কান্না, আর ৩:১৭ তে থেমে থাকা একটা পুরনো কাঁটাঘড়ি। সম্পা ছুটছে, কিন্তু সে জানে না তার জীবনের লক্ষ্য কি? সেকি সকলকেই ভালোবাসবে, আর তাকে আঁকড়ে বেঁচে থাকার চেষ্টা করবে?

শেষ

 

আরও পড়ুন :  ক্রাইম থ্রিলার- অদৃশ্য আততায়ী : ২য় পর্ব

আরও পড়ুন :  ক্রাইম থ্রিলার- অদৃশ্য আততায়ী : ৩য় পর্ব

আরও পড়ুন :  ক্রাইম থ্রিলার- অদৃশ্য আততায়ী : ৪র্থ পর্ব

আরও পড়ুন :  ক্রাইম থ্রিলার- অদৃশ্য আততায়ী : ৫ম পর্ব

আরও পড়ুন :  ক্রাইম থ্রিলার- অদৃশ্য আততায়ী : ৬ষ্ঠ পর্ব

আরও পড়ুন :  ক্রাইম থ্রিলার- অদৃশ্য আততায়ী : পর্ব ৭

আরও পড়ুন :  ক্রাইম থ্রিলার- অদৃশ্য আততায়ী : পর্ব ৮

আরও পড়ুন :  ক্রাইম থ্রিলার- অদৃশ্য আততায়ী : পর্ব ৯

আরও পড়ুন :  ক্রাইম থ্রিলার- অদৃশ্য আততায়ী : পর্ব ১০

 

প্রকাশিত : শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬ খ্রি

You might like

About the Author: priyoshomoy