

দশ.
গুনগুন করে গান গাইছে মি. আজিম। সে ভাবছে পৃথিবীতে এতো খুন-খারাবি আর রক্তপাত কেন? কেনো ইজরাইল বোমা ফাটায় ফিলিস্তিনে, মারা যায় হাজার হাজার নিরীহ মানুষ, কেনো রাশিয়া আমেরিকা বিভিন্ন দেশে আগ্রাসন চালায়, পৃথিবীকে হাতের মুঠোয় বন্দী করে নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব জাহির করতে?
ঠিক এই সময়ই ইরফানের কল। রিসিভ করে বললেন, ‘হ্যালো ইরফান, কী খবর তোমাদের?’ কোনো নতুন ইতিহাস গড়তে যাচ্ছে নাকি?’
‘স্যার, আজ সম্ভবত খেলা ফাইনাল হবে।’
‘তাই নাকি? তাহলে আমি অপেক্ষায় আছি, খুনীদেরকে কোনো চান্স দিবে না, দ্রুত অ্যাকশান নাও, যাতে আমরা ডিপার্টমেন্টের সুনাম ধরে রাখতে পারি?’
‘অবশ্যই স্যার, আমাদের টীম রেডি, এখনই আমরা রাতের অন্ধকার ভেদ করে জোছনার আলোয় পৌঁছে যাবো।’
‘গুড, সে অপেক্ষায় রইলাম ইরফান, তোমার প্রতি আমার বিশেষ আস্থা আছে। মোস্ট ওয়েলকাম।’

রাত ১১:৪৭। টেকনাফ-কঙ্বাজার হাইওয়ে আবার নিস্তব্ধ। শুধু সমুদ্রের গর্জন আর ঝিঁঝিঁর ডাক। বৃষ্টি থেমেছে, কিন্তু রাস্তার গা থেকে ভাপ উঠছে। যেন রাস্তাটা জ্বর গায়ে কাঁপছে।
পুরান লাইটহাউস। ১৯৭১ এর পর থেকে অন্ধ। ইটের গায়ে শ্যাওলা, লোহার সিঁড়িতে মরিচা। দোতলার ভাঙা জানালা দিয়ে হু হু করে বাতাস ঢোকে, বের হয়। মনে হয় কেউ দীর্ঘশ্বাস ফেলছে।
লাইটহাউসের ঠিক নিচে, মাটির বিশ ফুট গভীরে একটা কংক্রিটের ঘর। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের বাঙ্কার। দেয়ালে স্যাঁতসেঁতে দাগ, ছাদ থেকে টুপটাপ পানি পড়ে। মাঝখানে একটা কাঠের চেয়ার। হাত-পা বাঁধা অবস্থায় আলী নেওয়াজ। মুখে রুমাল গোঁজা, চোখ লাল। কপালের ডান পাশ ফুলে আছে। কালশিটে।
সামনে দাঁড়িয়ে কালো কোট, কালো হ্যাট। লাঠির মাথায় সিলভারের বাঘ। বাঘের চোখ দুটো পাথরের, কিন্তু আলো পড়লে জ্বলজ্বল করে। যেন জ্যান্ত।
‘ঘুম ভাঙল আলী ভাই?’ গলাটা শ্মশানের বাতাস। ‘বিশ বছর পর মুখোমুখি। কেমন লাগছে?’
আলী নেওয়াজ গোঁ গোঁ করল। মুখের বাঁধন খুলে দিল লোকটা। নিজ হাতে।
আলী হাঁপাতে হাঁপাতে বলল, ‘তুই… তুই মাস্টার সফিউল? তুই তো মরে গেছিস ২০০৪ সালে! নাফ নদীতে লাশ ভেসে উঠছিল!’
সফিউল হাসল। শব্দ নেই। শুধু ঠোঁট বাঁকা। হ্যাটটা খুলল সে। কপালের ডান পাশে সেই তিন ইঞ্চি কাটা দাগ। সেলাইয়ের দাগ সাদা হয়ে আছে।
‘লাশটা আমার ছিল না আলী ভাই। আমার মতো দেখতে এক বর্ডার ক্রসিং মাল। ওকে মারার আগে এই দাগটা আমিই কেটে দিছিলাম। যাতে তোমরা শান্তিতে ঘুমাও।’ সফিউল লাঠি দিয়ে মেঝেতে ঠক করে শব্দ করল। ‘রূপা আমার বোন ছিল না, আমার মেয়ে ছিল। তেরো বছরের মেয়ে। তুমি ওকে…।’
সফিউলের চোখের মণি ছোট হয়ে এলো। ‘তুমি তওবা করছ? নামাজ পড়ো? আল্লাহ কি রূপার গলার দাগ মুছে দিছে? এই যে দেখো।’ সে পকেট থেকে একটা পুরনো ছবি বের করল। ভাঁজে ভাঁজে ক্ষয়ে গেছে। তেরো বছরের রূপা। স্কুল ড্রেস, দুই বেণী। গলায় কালশিটে। ‘ডাক্তার লিখছিল-ম্যানুয়াল স্ট্র্যাঙ্গুলেশন। বুড়ো আঙুল বাম পাশে ০.৮ সেন্টিমিটার বেশি গভীর। ঠিক রুমির মতো।’
আলী নেওয়াজের চোখে পানি। ‘আমি… আমি শয়তানের ধোঁকায়… আমাকে মাফ করে দে সফিউল ভাই। আমার মেয়েটা… সম্পা…।’
‘চুপ!’ লাঠি দিয়ে বাতাস কাটল সফিউল। ‘নাম নিবি না। তোর মেয়ে এখন আমার রানী। ওকে দিয়েই তোকে চেকমেট দেব।’
ঠিক তখনই লোহার দরজায় ঠক ঠক শব্দ। তিনটা। থেমে আবার দুইটা।
‘আসো।’ সফিউল বলল।
দরজা খুলে ঢুকল জামশেদ। পেছনে দুইজন মুখোশধারী। মাঝখানে সম্পা। হাত পিছমোড়া করে বাঁধা, মুখে টেপ। চোখে আগুন আর পানি একসাথে।
জামশেদ সফিউলের পা ছুঁয়ে সালাম করল। ‘বিগ বস, মাল হাজির। রাস্তায় কোনো ঝামেলা হয় নাই। আরমান হা…জাদা থানায় জিডি করতে গেছে।’
সফিউল সম্পার চিবুক ধরে মুখ তুলল। ‘মায়ের চোখ পাইছো মা। রূপার চোখ। জানো, তোমার বাপ যখন রূপার গলা টিপে ধরছিল, ও ঠিক এইভাবে তাকাইছিল।’
সম্পা গোঁ গোঁ করে উঠল। লাথি মারতে গেল। একজন মুখোশধারী চেপে ধরল।
আলী নেওয়াজ চিৎকার দিল, ‘সম্পাকে ছেড়ে দে জানোয়ার! আমাকে মার! ওর কোনো দোষ নাই!’
‘দোষ?’ সফিউল ঘুরল। ‘দোষ তো রক্তের আলী ভাই। তোমার রক্ত ওর শরীরে। ওই রক্ত দিয়েই তো হিসাব চুকাব।’
জামশেদ পকেট থেকে গোল্ডলিফ বের করল। ‘বস, এখন কী হুকুম? ৩:১৭ বাজতে আর ২ ঘণ্টা ১১ মিনিট।’
‘হুকুম?’ সফিউল ঘড়ি দেখল। পুরনো কাঁটা ঘড়ি। ১:০৬ বাজে। ‘হুকুম হলো, ইরফানকে খবর দে। বল, তার মন্ত্রী আমার কাছে। রাজাকে বাঁচাতে চাইলে রানীকে কোরবানি দিতে হবে।’
জামশেদ দাঁত বের করে হাসল। ‘বস, একটা কথা কই? ইরফান হালায় চালাক। একা আসবে না। টিম নিয়া আসবে।’
‘আসুক।’ সফিউল লাঠি ঘোরাল। ‘এই বাঙ্কারে ঢোকার রাস্তা একটাই। সিঁড়ি সরু। ওরা নামার সময়ই…।’ সে আঙুল দিয়ে গলা কাটার ইশারা করল। ‘আর রবিন? ও তো আমার ছাত্র। ওকে দিয়ে সাতটা খুন করাইছি। হাত পাকাইছি। যাতে পুলিশ ভাবে সিরিয়াল কিলার। আসল খেলা তো আজ।’
সম্পার মুখের টেপ খুলে দিল একজন। সম্পা থুতু ছিটাল সফিউলের মুখে। ‘তুই মানুষ না! তুই পিশাচ!’
সফিউল রুমাল দিয়ে মুখ মুছল। রাগল না। ‘পিশাচ? হতে পারি। বিশ বছর ধরে এই দিনের জন্য বেঁচে আছি মা। প্রতি রাত ৩:১৭ তে ঘুম ভাঙে। রূপা এসে বলে, আব্বা, বিচার করলা না?’
রাত ১:২০। লাইটহাউস থেকে ৫০০ মিটার দূরে।
ঝোপের আড়ালে পজিশন নিয়েছে ইরফানের টিম। সবার গায়ে বুলেটপ্রুফ, হাতে HK MP5। চোখে নাইট ভিশন গগলস।
ইরফান থার্মাল স্কোপে লাইটহাউস দেখছে। ‘হিট সিগনেচার চারটা। নিচে, আন্ডারগ্রাউন্ড। একটা বসা, তিনটা দাঁড়ানো। আর গেটে দুইটা। টোটাল ছয়।’
ইমতিয়াজ ম্যাপ বিছাল। তুষারের হ্যাক করা ব্লু-প্রিন্ট। ‘স্যার, বাঙ্কারে ঢোকার মুখ একটাই। সিঁড়ি ২২ ধাপ। স্ট্রেইট। কভার নাই। ওরা উপরে পজিশন নিলে আমরা মুরগি।’
অনন্যা ল্যাপটপ বন্ধ করল। ‘স্যার, রূপা কেস পাইছি। ২০০৪, ১৭ নভেম্বর। টেকনাফ থানায় ইউডি কেস। গলায় আঙুলের দাগ। সাসপেক্ট ছিল আলী নেওয়াজ, কিন্তু এভিডেন্সের অভাবে খালাস। বাদী ছিল স্কুল মাস্টার সফিউল করিম। কেসের এক মাস পর সফিউল নিখোঁজ।’
রাশমিকা ওয়াকিটকি কানে চেপে ধরল। ‘স্যার, সজল ভাই কনফার্ম। জামশেদ ১টায় জেল থেকে বের হইছে। ড্রাইভার ছিল খোদ জেল সুপারের গাড়ি। টাকার বান্ডিল, স্যার। সিস্টেম।’
ইরফান দাঁত কিটমিট করল। ‘সিস্টেমের মা-রে বাপ। শোনো, প্ল্যান চেঞ্জ। আমরা ফ্রন্ট দিয়ে যাব না।’ সে লাইটহাউসের পেছন দেখাল। সমুদ্রের দিক। ‘পুরনো নকশায় এখানে একটা এয়ার ভেন্টিলেশন শ্যাফট। সাড়ে তিন ফুট বাই সাড়ে তিন ফুট। সোজা বাঙ্কারে নামছে। ১৯৭১ এ জেনারেটরের ধোঁয়া বের করার জন্য।’
তুষার শিষ দিল। ‘স্যার, ওইটা দিয়ে নামতে গেলে…।’
‘রিস্ক নিতে হবে।’ ইরফান উঠে দাঁড়াল। ‘ইমতিয়াজ আর আমি শ্যাফট দিয়ে নামব। সাইলেন্ট এন্ট্রি। তুষার, তুমি ড্রোন উড়াবা। ওদের ডিস্ট্র্যাকশন দিবা। অনন্যা, রাশমিকা, তোমরা গেটে ফায়ার করবা। ব্ল্যাঙ্ক ফায়ার। যাতে ওরা ভাবে আমরা সামনে দিয়ে আসছি। ক্লিয়ার?’
‘স্যার,’ অনন্যার গলা কাঁপল। ‘সম্পা যদি…।’
‘সম্পাকে আমরা নিয়েই ফিরব।’ ইরফানের চোখে কুয়াশা। ‘প্রমিজ।’
রাত ২:৪০। বাঙ্কারের ভেতর।
সফিউল আলী নেওয়াজের গালে লাঠি ঠেকাল। ‘সময় হয়ে আসছে আলী ভাই। ৩:১৭। তোমার তওবার সময়।’
জামশেদ ফোন কানে ধরে আছে। ‘বস, ইরফান সাব ফোন ধরছে। স্পিকারে দিলাম।’
স্পিকারে ইরফানের গলা। শান্ত, কিন্তু ধারালো। ‘বিগ বস, নাকি মাস্টার সফিউল বলব? রূপার বাবা?’
বাঙ্কারে পিনপতন নিস্তব্ধতা। সফিউলের হাত থামল।
‘বাহ।’ সফিউল ফোনের দিকে তাকাল। ‘গোয়েন্দা সাহেব খবর রাখেন দেখি। তা, আমার মেয়ের বদলা নিতে আসছেন? নাকি আলী নেওয়াজের পাপ ধুতে?’
‘আমি আইন নিয়ে আসছি মাস্টার সাহেব।’ ইরফানের গলা বরফ। ‘২০ বছর আগে আপনি আইন পান নাই। তাই আজ আপনি আইন হাতে তুলছেন। রবিনকে দিয়ে আগে ৬টা মেয়ে কাটছেন, আজকে রুমিকে কাটছেন। ওদের কী দোষ ছিল?’
‘যুদ্ধে সাইড ড্যামেজ হয় ইরফান সাহেব।’ সফিউল হাসল। ‘আলী নেওয়াজকে বাঁচাতে চাইলে একা আসেন। অস্ত্র ছাড়া। ৩:১৭ এর আগে। নইলে…।’ সে সম্পার চুলের মুঠি ধরল। ‘নইলে এই মেয়ের গলাতেও আপনার রিপোর্টে লিখবেন-বুড়ো আঙুল বাম পাশে ০.৮ সেন্টিমিটার বেশি গভীর।’
সম্পা চিৎকার দিল, ‘স্যার, আসবেন না! এটা ফাঁদ! ওরা আপনাকে…।’
জামশেদ সম্পার মুখ চেপে ধরল।
ইরফান ফোনে বলল, ‘আমি আসছি। ৩:১৫ তে গেটে থাকব।’
ফোন কেটে গেল।
সফিউল জামশেদের দিকে তাকাল। ‘গেটে পজিশন নে। ও আসার সাথে সাথে…।’
‘ঠুস।’ জামশেদ আঙুল দিয়ে পিস্তল চালানোর ভঙ্গি করল।
রাত ৩:০৫। ড্রোনের ভোঁ ভোঁ শব্দ। লাইটহাউসের মাথায় লাল-নীল আলো। তুষারের ভয়েস চেঞ্জার দিয়ে আওয়াজ: ‘পুলিশ! সারেন্ডার করো! পুরা এলাকা ঘেরাও!’
গেটের দুই মুখোশধারী গুলি ছুঁড়ল আকাশে। জামশেদ দৌড়ে সিঁড়ির মাথায়। ‘বস, ওরা আইসা পড়ছে!’
বাঙ্কারে সফিউল আলী নেওয়াজের বাঁধন খুলছে। ‘উঠেন আলী ভাই। শেষ নামাজটা পড়ে নেন। আপনার মেয়ের সামনে।’
আলী নেওয়াজ কাঁদছে। ‘সম্পা মা, আমাকে মাফ করে দিস।’
ঠিক তখনই।
ভেন্টিলেশন শ্যাফটের জং ধরা লোহার ঢাকনা ক্যাঁচ করে খুলে গেল। ধুলার ঝড়।
ইরফান আর ইমতিয়াজ দড়ি বেয়ে নামল। নিঃশব্দে। হাতে সাপ্রেসর লাগানো পিস্তল।
ইরফান ফিসফিস করল, ‘ফ্রিজ! পুলিশ!’
সফিউল বিদ্যুৎবেগে ঘুরল। লাঠি উঁচাল। লাঠির ভেতর থেকে শাঁ করে বের হলো সরু তলোয়ার।
‘তুই!’
জামশেদ পিস্তল তুলতে গেল। ইমতিয়াজের গুলি। জামশেদের হাতে। পিস্তল ছিটকে পড়ল।
সম্পা সুযোগ পেয়ে মাথা দিয়ে গুঁতো মারল পাশের মুখোশধারীকে।
রুমে এখন তিন দিকে গানপয়েন্ট।
ইরফান বলল, ‘খেলা শেষ মাস্টার সফিউল। অস্ত্র ফেলেন। ২০ বছর অনেক লম্বা সময়। রূপা শান্তি পাবে। কিন্তু এইভাবে না।’
সফিউল হাসল। পাগলের হাসি। ‘শেষ? খেলা তো এখন শুরু ইরফান সাহেব।’ সে আলী নেওয়াজের গলা পেঁচিয়ে ধরল। তলোয়ারের ডগা গলায়। ‘এক পা আগালে ওর গলা দুই ভাগ।’
আলী নেওয়াজ চোখ বন্ধ করল। ‘ইরফান বাবা, গুলি করো। আমাকে মেরে ওকে থামাও। আমি পাপী…।’
‘চুপ!’ সফিউল ধমক দিল। ‘তোর তওবা শুনতে আসি নাই আমি।’
সম্পা কাঁদছে, ‘বাবা!’
দেয়ালের কাঁটা ঘড়িতে টিক টিক শব্দ। ৩:১৪… ৩:১৫… ৩:১৬…
সফিউল ফিসফিস করল, ‘৩:১৭, আলী ভাই। তোমার মৃত্যুর সময়। রূপার মৃত্যুর সময়।’
ইরফানের কপালে ঘাম। ট্রিগারে আঙুল। ইমতিয়াজ বাম দিকে সরছে, ক্লিয়ার শটের জন্য।
৩:১৭ বাজতে আর ১০ সেকেন্ড। হঠাৎ বাঙ্কারের লাইট নিভে গেল। ঘুটঘুটে অন্ধকার। কারো চিৎকার। ধস্তাধস্তি। লাঠির ঠক শব্দ। গুলির আওয়াজ-ঠাস! তারপর নিস্তব্ধতা।
আলো জ্বলল। তুষার সুইচবোর্ড হ্যাক করে আলো জ্বালিয়েছে। মেঝেতে আলী নেওয়াজ। গলায় লাল দাগ, কিন্তু কাটা না। জ্ঞান হারিয়েছে।
পাশে জামশেদ। কাঁধে গুলি, কাতরাচ্ছে। আর কোণায় সফিউল। হ্যাট পড়ে গেছে। কপালের কাটা দাগটা থেকে রক্ত ঝরছে। হাতে এখনো তলোয়ার, কিন্তু কাঁপছে।
ইরফানের পিস্তল সফিউলের কপালে ঠেকানো।
‘খেলা শেষ মাস্টার সাহেব।’ ইরফান বলল। ‘আপনার ৩:১৭ পার হয়ে গেছে। এখন আমার সময়।’
সফিউল হঠাৎ খিলখিল করে হেসে উঠল। ‘পার হয় নাই ইরফান সাহেব। ঘড়ি দেখেন।’
দেয়ালের ঘড়ি বন্ধ। কাঁটা আটকে আছে ৩:১৭ তে।
‘আমার সময় এখানেই থেমে আছে। বিশ বছর ধরে।’ সফিউল তলোয়ার ফেলে দিল। ‘নেন, অ্যারেস্ট করেন। রূপার খুনি আলী নেওয়াজকে আমি মারতে পারলাম না। আপনি জিতছেন।’
সম্পা দৌড়ে বাবাকে জড়িয়ে ধরল। ‘বাবা! বাবা চোখ খোলো!’
রাশমিকা আর অনন্যা হ্যান্ডকাফ নিয়ে নামছে সিঁড়ি দিয়ে। ইমতিয়াজ জামশেদকে বাঁধছে। ইরফান সফিউলকে হ্যান্ডকাফ পরাল। তবু তার চোখে শান্তি নাই।
‘স্যার,’ রাশমিকা বলল, ‘লাইট কে নিভাল?’
ইরফান সফিউলের দিকে তাকাল। সফিউল মাথা নাড়ল। ‘আমি না।’
তুষারের গলা ওয়াকিটকিতে। ‘স্যার, সিস্টেম হ্যাকড। বাইরে থেকে কেউ লাইট অফ করছে। সিগন্যাল ট্রেস করছি… টেকনাফ শহর… আরমান!’
ইরফানের রক্ত হিম হয়ে গেল। আরমান? আলী নেওয়াজের ১৫ বছরের ছায়া?
সফিউল ফিসফিস করল, ‘বলছিলাম না ইরফান সাহেব? খেলা ছায়ার ভেতর ছায়া। আমি শুধু মন্ত্রী। রাজা… রাজা তো এখনো বোর্ডের বাইরে।’
দূরে, টেকনাফ শহরের দিকে পুলিশের সাইরেন বাজছে। কিন্তু সেটা কি আসছে, নাকি যাচ্ছে?
সমুদ্রের ঢেউ আছড়ে পড়ল লাইটহাউসের গায়ে। যেন বলছে, ‘খেলা এখনও শেষ হয় নাই, আরও বাকি আছে মিস্টার।’
চলবে…
আরও পড়ুন : ক্রাইম থ্রিলার- অদৃশ্য আততায়ী : ২য় পর্ব
আরও পড়ুন : ক্রাইম থ্রিলার- অদৃশ্য আততায়ী : ৩য় পর্ব
আরও পড়ুন : ক্রাইম থ্রিলার- অদৃশ্য আততায়ী : ৪র্থ পর্ব
আরও পড়ুন : ক্রাইম থ্রিলার- অদৃশ্য আততায়ী : ৫ম পর্ব
আরও পড়ুন : ক্রাইম থ্রিলার- অদৃশ্য আততায়ী : ৬ষ্ঠ পর্ব
আরও পড়ুন : ক্রাইম থ্রিলার- অদৃশ্য আততায়ী : পর্ব ৭
আরও পড়ুন : ক্রাইম থ্রিলার- অদৃশ্য আততায়ী : পর্ব ৮
আরও পড়ুন : ক্রাইম থ্রিলার- অদৃশ্য আততায়ী : পর্ব ৯
















