

সজীব খান, চাঁদপুর প্রতিনিধি:
দীর্ঘদিনের ময়লা-আবর্জনা ও বর্জ্যে ভরাট হয়ে পড়া চাঁদপুর-কুমিল্লা আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশের খাল পরিষ্কারের উদ্যোগ নিয়েছে সড়ক ও জনপথ বিভাগ। গতকাল রবিবার (৮ নভেম্বর) চাঁদপুরের বাবুরহাট এলাকা থেকে খাল পরিষ্কারের কাজ শুরু করা হয়েছে। সড়ক বিভাগের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তবে খালটি সম্পূর্ণ সচল করতে ময়লা-আবর্জনা অপসারণের পাশাপাশি খালের ওপর নির্মিত অবৈধ ও প্রতিবন্ধকতামূলক ব্রিজগুলো অপসারণের দাবি জানিয়েছেন তারা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে খালটির বিভিন্ন অংশে ময়লা-আবর্জনা, পলিথিন ও নানা ধরনের বর্জ্য জমে থাকায় খালটি প্রায় ভরাট হয়ে পড়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন স্থানে অপরিকল্পিত ও অবৈধভাবে ব্রিজ নির্মাণের কারণে খালের স্বাভাবিক পানি প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এতে খালটি তার স্বাভাবিক কার্যকারিতা হারানোর পাশাপাশি আশপাশের পরিবেশও দূষিত হচ্ছে।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে খালটি যথাযথভাবে পরিষ্কার না করায় বিভিন্ন স্থানে ময়লা-আবর্জনা জমে দুর্গন্ধের সৃষ্টি হয়েছে। বর্ষা মৌসুমে পানি নিষ্কাশন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে। এ অবস্থায় খালটি পরিষ্কারের দাবি দীর্ঘদিনের।
এদিকে সড়ক বিভাগের উদ্যোগে খাল পরিষ্কারের কাজ শুরু হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে আশার সঞ্চার হয়েছে। তবে এলাকাবাসীর মতে, শুধু খালের ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার করলেই সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে না। খালের ওপর নির্মিত অবৈধ ও পানি প্রবাহে বাধা সৃষ্টিকারী ব্রিজগুলো চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। এসব প্রতিবন্ধকতা দূর করা সম্ভব হলে খালের পানি পুনরায় স্বাভাবিকভাবে প্রবাহিত হবে বলে মনে করছেন তারা।
চাঁদপুর সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী জানান, সড়ক বিভাগের অর্থায়নে খালটি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করার কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছে। দীর্ঘদিনের জমে থাকা ময়লা-আবর্জনা অপসারণ করে খালের স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনা এবং পানি প্রবাহ স্বাভাবিক রাখাই এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।
সচেতন মহল মনে করছেন, চাঁদপুর-কুমিল্লা আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশের এ খালটি শুধু পরিষ্কার করলেই চলবে না, এর স্থায়ী রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে খালের ওপর অবৈধ স্থাপনা ও পানি প্রবাহের প্রতিবন্ধকতা দূর করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, সড়ক বিভাগের চলমান উদ্যোগের মাধ্যমে দীর্ঘদিনের অবহেলিত খালটি তার স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরে পাবে। পাশাপাশি অবৈধ ব্রিজ ও অন্যান্য প্রতিবন্ধকতা অপসারণ করে খালের পানি প্রবাহ সচল করা হলে জলাবদ্ধতা নিরসন ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
প্রকাশিত: রোববার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬ খ্রি.














