নেছারাবাদে চার গর্ভবতী ছাগলের মৃত্যুর ঘটনায় সেই এআই কর্মীর বিরুদ্ধে মামলা

নেছারাবাদ (পিরোজপুর) প্রতিনিধি :

পিরোজপুরের নেছারাবাদে ভুল চিকিৎসায় চারটি গর্ভবতী ছাগলের মৃত্যুর অভিযোগে মো. সোহেল নামে এক কৃত্রিম প্রজনন (এআই) কর্মীর বিরুদ্ধে মামলা করেছেন ভুক্তভোগী। এতে প্রায় পৌনে দুই লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন ছাগলগুলোর মালিক ভ্যানচালক শহিদুল ইসলাম।

শনিবার (১০ অক্টোবর) দুপুরে ভুক্তভোগী শহিদুল ইসলাম বাদী হয়ে নেছারাবাদ থানায় মামলাটি করেন। এর আগে শুক্রবার (৯ অক্টোবর) বিকেলে উপজেলার সমুদয়কাঠী ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের মেসন্ডা গ্রামে ছাগলগুলোর মৃত্যুর ঘটনা ঘটে।

মামলার অভিযোগ ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা যায়, ভ্যান চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন শহিদুল ইসলাম। কষ্ট করে দুটি ছাগল কিনে লালন-পালন শুরু করেন তিনি। একপর্যায়ে তাঁর খামারে ছাগলের সংখ্যা বেড়ে সাতটিতে দাঁড়ায়। এর মধ্যে চারটি ছাগল ছিল গর্ভবতী। হঠাৎ ছাগলগুলো অসুস্থ হয়ে পড়লে তিনি কৃত্রিম প্রজনন কর্মী মো. সোহেলকে বাড়িতে ডেকে আনেন। সোহেল ছাগলগুলোকে একাধিক ইনজেকশন ও কৃমিনাশক ওষুধ প্রয়োগ করেন। অভিযোগ অনুযায়ী, ইনজেকশন দেওয়ার পরপরই তিনটি ছাগল কাঁপতে কাঁপতে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে মারা যায়। অপর ছাগলটি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে নেছারাবাদ উপজেলা প্রাণিসম্পদ ও ভেটেরিনারি হাসপাতালে নেওয়ার পথে সেটিও মারা যায়। মারা যাওয়া ছাগলগুলো উন্নত জাতের যমুনাপাড়ি বলে দাবি করেছেন মালিক শহিদুল ইসলাম।

তিনি বলেন, “আমি কষ্ট করে প্রথমে দুটি ছাগল কিনে লালন-পালন শুরু করি। এখন আমার সাতটি ছাগল হয়েছে। এর মধ্যে চারটি ছিল গর্ভবতী। হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে সোহেলকে ডেকে আনি। তিনি ওষুধ দেওয়ার পরপরই ছাগলগুলো মারা যায়। এতে আমার প্রায় পৌনে দুই লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।”

স্থানীয় ইউপি সদস্য গৌতম পাল চাংকি বলেন, শহিদুল ইসলামের চারটি ছাগল মারা যাওয়ার বিষয়টি তিনি শুনেছেন। ভ্যান চালিয়ে কষ্ট করে ছাগলগুলো লালন-পালন করছিলেন শহিদুল। ছাগল চারটির বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় পৌনে দুই লাখ টাকা। তিনি বলেন, গ্রামে কিছু অদক্ষ ব্যক্তি যথাযথ প্রশিক্ষণ ছাড়াই গবাদিপশুর চিকিৎসা দিয়ে আসছেন। বিষয়টি প্রশাসনের নজরে নেওয়া দরকার। ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক।

অভিযুক্ত মো. সোহেল বলেন, ছাগলগুলো পিপিআর রোগে আক্রান্ত হয়েছিল। তাই তিনি প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়েছেন। ছাগলগুলোর পাতলা পায়খানা হওয়ায় কৃমিনাশক ওষুধও দিয়েছিলেন। তাঁর দাবি, ওই ওষুধে ছাগল মারা যাওয়ার কথা নয়। চিকিৎসাসংক্রান্ত প্রশিক্ষণের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।

নেছারাবাদ উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. তাপস কুমার ঘোষ বলেন, গর্ভবতী ছাগলকে কৃমিনাশক ওষুধ প্রয়োগের ক্ষেত্রে কিছু বিধিনিষেধ রয়েছে, যা মেনে চলা জরুরি। পিপিআর রোগে আক্রান্ত ছাগলের মধ্যে নির্দিষ্ট কিছু লক্ষণ দেখা যায়। সেসব লক্ষণ পর্যবেক্ষণ না করে চিকিৎসা দেওয়া হলে ছাগলের মৃত্যু হতে পারে। ছাগলগুলোর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়েছে। পরীক্ষার ফল পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।

তিনি আরও বলেন, কৃত্রিম প্রজনন (এআই) কর্মীদের কাজ হলো গাভির কৃত্রিম প্রজনন কার্যক্রম পরিচালনা করা। এ প্রশিক্ষণ গবাদিপশুর চিকিৎসা দেওয়ার যোগ্যতা নিশ্চিত করে না।

নেছারাবাদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মেহেদী হাসান বলেন, এ ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। আসামিকে গ্রেপ্তারের জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

 

প্রকাশিত: রোববার, ১১ অক্টোবর ২০২৬ খ্রি.

You might like