গ্রামের মুঠোফোন হোক মেধা বিকাশের সোপান: আগামীর প্রযুক্তি-নেতৃত্বে চাঁদপুর

সম্পাদকীয়
একবিংশ শতাব্দীর এই চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের যুগে প্রযুক্তির ছোঁয়া কেবল শহুরে কাচঘেরা দালানকোঠায় সীমাবদ্ধ নেই; এটি এখন হাতের মুঠোয় থাকা স্মার্টফোনের পর্দায় উন্মুক্ত। সম্প্রতি প্রীতম সময়ে প্রকাশিত মিজানুর রহমান রানার একটি নিবন্ধে চাঁদপুরের তরুণ প্রজন্মের সম্ভাবনা নিয়ে যে আশাজাগানিয়া চিত্র ফুটে উঠেছে, তা আমাদের প্রচলিত ধ্যান-ধারণাকে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করে। হাজীগঞ্জের এক সাধারণ কিশোরের মুঠোফোনে গেম খেলার বদলে প্রাত্যহিক প্রযুক্তি ও ব্যবহার-সামগ্রী (অ্যাপস) তৈরির কৌশল শেখার গল্পটি আজ গোটা দেশের মফস্বল ও গ্রামবাংলার লাখো তরুণের জন্য এক উজ্জ্বল অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত।

আজকের দিনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (অও), ডেটা সায়েন্স, ক্লাউড কম্পিউটিং এবং সাইবার সিকিউরিটির মতো প্রযুক্তিগুলোর চাহিদাপূর্ণ বিস্তার ঘটছে। আগামী কয়েক বছরের মধ্যে প্রচলিত শ্রমবাজারের আমূল পরিবর্তন ঘটবে। এই বাস্তবতায় রাজধানী ঢাকা বা বিদেশে পাড়ি জমানো এখন আর সফলতার একমাত্র শর্ত নয়। চাঁদপুরের মতো জেলা বা মফস্বল অঞ্চলে বসেও ঘরে বসেই আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন কাজ করা এবং ডলারে আয় করা সম্ভব—যদি সঠিক দিকনির্দেশনা ও প্রবল ইচ্ছাশক্তি থাকে। নিবন্ধটিতে খুব সুন্দরভাবে তুলে ধরা হয়েছে যে, প্রযুক্তি শিক্ষার জন্য অংকের জাদুকর কিংবা উচ্চবিত্ত পরিবারের সন্তান হওয়ার প্রয়োজন নেই; দরকার কেবল একটি ডিভাইস, ইন্টারনেট সংযোগ এবং প্রতিদিনের নির্দিষ্ট কিছু সময়।

বিশেষ করে, আমাদের নারী সমাজ এবং কওমি বা ধর্মীয় মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের নিয়ে যে আশার বাণী শোনানো হয়েছে, তা অত্যন্ত সময়োপযোগী। পর্দা রক্ষা করে বা ঘরে বসে দেশের নারী সমাজ আজ ফ্রিল্যান্সিংয়ে নিজেদের শক্ত অবস্থান তৈরি করেছে। অন্যদিকে, মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের ধৈর্য, একাগ্রতা এবং আরবি ভাষার মতো আন্তর্জাতিক ভাষার দখল তাদের মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্ববাজারে প্রযুক্তি খাতে এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে দিতে পারে। এছাড়া স্থানীয় ছোট ব্যবসা বা বিপণীবিতানের জন্য আধুনিক সফটওয়্যার ও ওয়েবসাইট তৈরি করে চাঁদপুরের তরুণরা নিজেদের কর্মসংস্থানের পাশাপাশি স্থানীয় অর্থনীতিতেও বড় ভূমিকা রাখতে পারে।

তবে এই সম্ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দিতে প্রয়োজন সম্মিলিত উদ্যোগ। উপজেলা আইসিটি ল্যাব বা সরকারি বিভিন্ন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রগুলোকে আরও জনমুখী ও কার্যকর করতে হবে। তরুণদের মাঝে সঠিক পন্থায় প্রযুক্তি শিক্ষার আগ্রহ জাগাতে স্থানীয় সচেতন মহল ও অভিজ্ঞদের নিয়ে মেন্টরশিপ বা গাইডেন্স গ্রুপ গড়ে তোলা যেতে পারে।

মুঠোফোন বা ইন্টারনেটকে কেবল বিনোদন বা সময় নষ্টের মাধ্যম না বানিয়ে, একে আত্মোন্নয়ন ও জ্ঞানার্জনের হাতিয়ার হিসেবে বেছে নেওয়ার এখনই উপযুক্ত সময়। চাঁদপুরের মাটি যেমন সুস্বাদু ইলিশ ও উর্বর ফসলের জন্য পরিচিত, তেমনি এই মাটির সন্তানরাই একদিন বিশ্বমঞ্চে প্রযুক্তির নতুন কর্মসূচি নির্মাতা হয়ে দেশের পতাকা সমুন্নত করবে—এটাই আমাদের দৃঢ় প্রত্যাশা। তরুণদের এই জয়যাত্রায় আজ থেকেই শুরু হোক সঠিক প্রস্তুতি।

প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬ খ্রি.

You might like

About the Author: priyoshomoy