

সম্পাদকীয়
কুড়িগ্রামে সম্প্রতি সাড়ম্বরে উদযাপিত হলো ‘বিশ্ব হাত ধোয়া দিবস ২০২৬’। জেলা প্রশাসন ও জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে শোভাযাত্রা, শিক্ষার্থীদের হাত ধোয়ার কৌশল প্রদর্শন এবং আলোচনা সভার মধ্যদিয়ে দিবসটির তাৎপর্য তুলে ধরা হয়।

আয়োজকদের এ উদ্যোগ অত্যন্ত সময়োপযোগী ও প্রশংসনীয়। তবে প্রতিবছরের মতো কেবল দিবস উদযাপনের আনুষ্ঠানিকতার মধ্যেই এ কার্যক্রম সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না, সুস্থ ও রোগমুক্ত জীবনের জেন্যে সঠিক নিয়মে হাত ধোয়ার অভ্যাসকে সর্বস্তরের মানুষের দৈনন্দিন জীবনের অংশ করে তুলতে হবে।
হাত ধোয়া কোনো জটিল বা ব্যয়বহুল বিষয় নয়, অথচ এর স্বাস্থ্যগত সুফল অপরিসীম। চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের মতে, কেবল সাবান দিয়ে সঠিকভাবে হাত ধোয়ার অভ্যাস গড়ে তোলার মাধ্যমে ডায়রিয়া, নিউমোনিয়া ও কৃমি সংক্রমণের মতো নানা ঘাতক ব্যাধি থেকে খুব সহজেই সুরক্ষা পাওয়া সম্ভব। বিশেষ করে শিশু ও সাধারণ মানুষের মাঝে এ সচেতনতা ছড়িয়ে দেয়া অত্যন্ত জরুরি।
ছোটবেলা থেকেই শিশুরা যাতে সঠিকভাবে হাত ধোয়ার চর্চা শুরু করে, সেদিকে অভিভাবক ও শিক্ষকদের বিশেষভাবে নজর দিতে হবে। এ বিষয়ে বিদ্যালয়গুলোতে নিয়মিত হাত ধোয়ার কার্যকর ব্যবস্থা রাখা ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালু রাখা প্রয়োজন।
সুস্থ জাতি গঠনে ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতার ভূমিকা অনন্য। কুড়িগ্রামের এ আয়োজন প্রমাণ করে যে, প্রান্তিক অঞ্চলগুলোতেও স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধির সচেতন প্রয়াস তৈরি হয়েছে। তবে শুধু সরকারি বা বেসরকারি সংস্থার ওপর নির্ভর না করে, সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে এ কার্যক্রমে সম্পৃক্ত হতে হবে।
কুড়িগ্রামসহ সারা দেশে স্বাস্থ্যের এ প্রাথমিক সুরক্ষাকবচ ছড়িয়ে দিতে পারলে আমরা একটি সুস্থ, সবল ও সংক্রামক ব্যাধিমুক্ত ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে পারবো। সঠিক নিয়মে হাত ধোয়ার এ সামাজিক আন্দোলন অব্যাহত থাকুক—এটাই আমাদের প্রত্যাশা।
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬ খ্রি.












