আদালতের নির্দেশ অমান্য ও জবরদখল: আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় চরম অবনতি

সম্পাদকীয়
প্রিয় সময়ে প্রকাশিত ‘ চৌগাছা পলুয়ায় আদালতের নির্দেশ অমান্য করে জমি জবর দখল ও বাড়ি নির্মাণ’ শিরোনামে সংবাদটি পাঠক সমাজ পড়েছেন। আমরা জানতে পেরেছি, যশোর জেলার চৌগাছা উপজেলার পাশাপোল ইউনিয়নের পলুয়া গ্রামে বিজ্ঞ আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে জমি জবরদখল ও পাকা বাড়ি নির্মাণের যে ঘটনা ঘটেছে, তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। আইনের শাসন ও বিচার বিভাগের নির্দেশকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে কীভাবে একটি প্রভাবশালী মহল গায়ের জোরে অন্যের জমি দখল করে চলেছে, এই সংবাদটি তারই এক নগ্ন চিত্র ফুটিয়ে তুলেছে।

সংবাদে প্রকাশ, জমি নিয়ে বিরোধের জেরে বিজ্ঞ অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালত উভয় পক্ষকে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে নির্দেশ দিয়েছিলেন। আগামী ০৬/০১/২০২৭ পর্যন্ত এই নির্দেশ বহাল থাকার কথা। অথচ সেই নির্দেশকে সম্পূর্ণ উপেক্ষা করে আসামিপক্ষ দিবালোকে নির্মাণ কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। সবচেয়ে লজ্জাজনক বিষয় হলো, যে পুলিশ প্রশাসনের দায়িত্ব আদালতের আদেশ কার্যকর করা এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, সেই পুলিশেরই একটি মহলের বিরুদ্ধে আসামিদের সহযোগিতার অভিযোগ উঠেছে। দশপাখিয়া পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই বায়েজিদের বিরুদ্ধে কোনো বৈধ কাগজপত্র বা সার্ভেয়ার ছাড়াই একপক্ষকে বাড়ি নির্মাণের অনুমতি দেওয়ার যে অভিযোগ উঠেছে, তা প্রশাসনিক নিরপেক্ষতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার সদস্য হয়ে যদি কেউ আদালতের আদেশের বিপক্ষে অবস্থান নেন, তবে সাধারণ মানুষ কোথায় ন্যায়বিচার পাবে?

একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে আদালতের নির্দেশ অমান্য করা অপরাধের শামিল। অথচ পলুয়া গ্রামের ভুক্তভোগী কালাচাঁদের পরিবার পুলিশ ও কতিপয় রাজনৈতিক ব্যক্তির মদদপুষ্ট সন্ত্রাসীদের ভয়ে আজ চরম আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছেন। পুলিশ প্রশাসনের নীরব ভূমিকা ও সন্ত্রাসীদের ধৃষ্টতা সমাজে আইনহীনতার সংস্কৃতিকেই উৎসাহিত করছে। আমরা অবিলম্বে এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই এবং সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের উচ্চপর্যায়ের হস্তক্ষেপ কামনা করি। আদালতের নির্দেশ অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যের ভূমিকা তদন্ত করে নিরপেক্ষ পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। একই সঙ্গে ভুক্তভোগী পরিবারটির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনকে দ্রুত এগিয়ে আসতে হবে। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় এর কোনো বিকল্প নেই।

প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬ খ্রি.

You might like

About the Author: priyoshomoy