
মো. শিপন, নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি :
লকডাউনে স্থবির জনজীবন। তবে করোনার সাথে সাথে দিন এনে দিন খাওয়া মানুষকে লড়তে হচ্ছে ক্ষুধার সাথে। সরকার অসহায় ও দুস্থ মানুষের জন্য ত্রাণের ব্যবস্থা করছেন। তবে সুষ্ঠু বন্টনের অভাবে অনেকেই বাদ পড়ে যাচ্ছেন। এমনই বাদ পড়ে যাওয়া এক মধ্যবয়সী নারী তাঁর ক্ষুধার্ত দুই সন্তানের জন্য খাবারের খোঁজে রাত দুইটার দিকে খালি ব্যাগ হাতে ঘুরছিলেন। তখন র্যাব-১১’র টহলরত একটি টিমের নজরে পড়েন তিনি।

মধ্যবয়সী ওই নারী র্যাব সদস্যদের জানান, আমার দুইটা বাচ্চা। না খাইতে পাইয়া কাঁনতে কাঁনতে ঘুমিয়ে পড়ছে। তারা ঘুমিয়ে যাওয়ার পর আমি চেয়ারম্যানের কাছে গেছি ত্রাণের জন্য। তারা বলছে, ভোটার আইডি কার্ড, জন্ম নিবন্ধন লাগবো। নয় তো, যেই এলাকায় থাকোস ওই এলাকার একটা সিগন্যাচারটা নিয়ে আয়।
আমি কইলাম আমরা তো থাহি ভারা। আফনেরা যদি এমন করেন তয় আমরা কই যামু। এই কতা ক বলায় ওখানকার কয়েকটা পোলাপানে মারছে। বলে, আপনে এনতে সরেন,
র্যাব কর্মকর্তারা রাত ২টার সময় কেন ঘুরছেন এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, আমরা দুইডা বাচ্চা না খাইয়া খাইয়া ঘুমাইয়া রইছে, বাজান।আমি মা, আমার বাচ্চাগুলার লাইগা কষ্ট লাগে। আমি কারে কমু এই কতা ডা! না পারি কারো কাছে একটা টাকা চাইতে! চাইতে গেলে দুনিয়ার কতা হুনি!

তিনি জানান, শাক বিক্রি করেই তার সংসার চলতো। চিটাগাংরোড এলাকায় বিক্রি করতাম। আমার স্বামী মাদকাসক্ত হওয়ায় তিনি সন্তানদের নিয়ে আলাদা হয়ে যান। হুট করে লকডাউন এসে পড়ায় দুই সন্তানকে নিয়ে বিপদে পড়েছেন তিনি।
রাতে র্যার-১১’র কর্মকর্তারা খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করতে বের হলে রাস্তায় এই নারীকে খালি ব্যাগ হাতে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে গাড়ি থামান। পরে নারীর মুখে দুর্দশার কথা শুনে তারা খাদ্যসামগ্রী ওই নারীর হাতে তুলে দেন।

অসহায় ওই নারীর দুর্দশার কথাটি তুলে ধরে র্যাব-১১ এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আলেপ উদ্দিন তার ফেসবুক ওয়ালে লিখেন, দেখুন, চেয়ারম্যান সাহেব, কাউন্সিলর সাহেব আরো যত সাহেব আছেন, রাত দুইটায় একজন মধ্যবয়সী নারী কখন বাজারের খালি ব্যাগ হাতে রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে বলেন তো?তার সন্তান দুটি পানি পান করে ঘুমিয়েছে, হয়তো ঘুম থেকে উঠে ক্ষুধার জালায় কাঁদবে, অবুঝ শিশু জানেওনা মায়ের সাধ্য! হঠাৎ রাস্তায় তাকে দেখে গাড়িটা না থামালে হয় তো…অার খাওয়া হতো তার সন্তানদের।








