
হুমায়ুন কবির বেপারী :
মধ্যবিত্ত মানেই নির্লোভ সুখের ঠিকানা! আয়ের ওপর চলে মধ্যবিত্তের সু-সম বন্টন। শিক্ষা, চিকিৎসা, খাদ্যসহ বিভিন্ন খরচাদি মাসিক তালিকা ভুক্ত থাকে। সমাজ ও রাষ্ট্র এ শ্রেণীর লোকদের আলাদা মূল্যায়ন করে।

মধ্যবিত্তদের নিয়ে রাষ্ট্র কখনও চিন্তিত নয়। যদি কোন কারণে মাসিক আয়ের উৎস থমকে যায় তবে এ শ্রেণির মানুষের কপালে দুশ্চিন্তার ভাঁজ জেগে উঠে। যেমন পারিবারিক অসুস্থতা, অতিরিক্ত শিক্ষা, চিকিৎসা ও আপ্যায়ন ব্যয়, অথবা মহামারি ইত্যাদি।তবে জন্ম ও শিক্ষা সংস্কৃতি থেকে মধ্যবিত্তের চক্ষু লজ্জা অনেক বেশি।
অভাব ও আর্থিক সংকটে তারা ধু্ঁকে ধুঁকে মরতে পারে কিন্তু এদের বুক ফাটলেও মুখ ফুটে চাওয়া কখনও হয়ে উঠে না। এরা নির্লোভ মনুষ্যত্বের অধিকারী। সমাজে এরাই বেশি সম্মানের অধিকারী হয়ে থাকে।
এক অদৃশ্য ভয়াল করোনার কালো থাবা থমকে দিলো নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষের রুজি-রুটির চাকা। যত দিন যায় ততই ঘণীভূত হচ্ছে তাদের খাদ্য ও আর্থিক সংকট। অসহায় মানুষ গুলো চারদিকে ত্রাণ সন্ধানের দিকে ছোটাছুটি করছে।
গরিব তো জন্ম থেকেই দুঃখী। তারা হাত পেতে খাওয়াতে অভ্যস্ত। কিন্তু মধ্যবিত্তের জন্য মাসব্যাপী লকডাউন গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
গভীর সংকটে না খেয়ে ধুঁকে ধুঁকে মরা মধ্যম আয়ের মানুষরা আজ বড় অসহায়। কি করে চলছে তাদের সংসার। সরকার বা সমাজ তাদের আর খবর রাখেনা। একদিকে ত্রাণের হরিলুট দেশ জুড়ে অন্যদিকে নিত্যপণ্যের বাজারে সিন্ডিকেটের জুয়া খেলা চলছে।
৬০ টাকার ডাল ১১০টাকা, ৫০ টাকার চাল ৬০ টাকা, চিনি,৭০ টাকা। মাছ, সবজির দাম লাগামহীন। মধ্যবিত্তরা যাবে কোথায়? এদের অভাব আলিঙ্গন আজ জীবন্ত লাশের প্রতিচ্ছবি।
আমরা আশা করি সরকার প্রধান এ সংকট মোকাবেলায় এখনি মধ্যম আয়ের মানুষের জন্য বিশাল প্রণোদনা প্যাকেজ থেকে একটি অংশ সুদমুক্ত ঋণ হিসেবে সহায়তা প্রদান করবেন। নতুবা এ শ্রেণির মানুষের মৃত্যুর মিছিল দীর্ঘ হবে।
ভাল থেকো মধ্যবিত্তরা।
লেখক : হুমায়ুন কবির বেপারী, নির্বাহী সম্পাদক, সাপ্তাহিক সাদা কাগজ।








