পর্যটকদের হাতছানি দিয়ে ডাকছে মনপুরা, বাড়ছে পর্যটকদের ভীড়

রাকিবুল হাসান, মনপুরা (ভোলা) সংবাদদাতা :

বাংলাদেশের একমাত্র ব-দ্বীপ ভোলা জেলা। যে যেখানে রয়েছে প্রকৃতির নানা বৈচিত্র্য অতিথি পাখির সমাহার। বন্যপ্রাণী অবাধ চলাফেরা। সত্যিই এখানে আসলে যে কারো মন ভরে যাবে। ভোলা জেলার মূল-ভূখন্ড থেকে বিচ্ছিন্ন দ্বীপ মনপুরা।

এ দ্বীপের প্রকৃতির অপরূপ শোভায় শোভায়িত সৌন্দর্য্য মন্ডিত মনপুরা দখিণা হাওয়া সী বিচ। জীববৈচিত্র্যপুর্ণ ঘেরা এ দ্বীপে বিচরণ করলে দেখা যায় নানা প্রজাতির পাখি, মাছ, কচ্ছপ, শামুক, ঝিনুক, মাছ ধরার নৌকার সারি,চিত্র হরিণ,অতিথি পাখি,লাল কাঁকড়া, রুপালি ইলিশ।

সরকারি এবং বেসরকারিভাবে উদ্যোগ নিলেই হতে পারে বাংলাদেশের আকর্ষণীয় পর্যটন কেন্দ্র দ্বীপ মনপুরা। কর্মব্যস্থতার এক ফাঁকে বুকের পাথর চাপা কষ্ট গুলো ভুলে মন মানসিকতাকে সতেজ করতে প্রাকৃতিক অপরূপ সৌন্দর্যের রানী মনপুরা ভ্রমণে আসলে নিঃসন্দেহে মন প্রাণ জুড়িয়ে যায় এমন উক্তি করেছেন অনেক জ্ঞানী ব্যক্তিগণ।

মনপুরা দ্বীপে চলাফেরার যথেষ্ট সুযোগ সুবিধা ও আবাসনের জন্য জেলা পরিষদের একটি ডাকবাংলো এবং ব্যক্তি মালিকানাধীন বেশ কয়েকটি আবাসিক হোটেলে রয়েছে ।মনপুরা দ্বীপ থেকে ২০ কিলোমিটার দূরে জাতীয় উদ্যান নিঝুম দ্বীপ । হরিণের অবাধ চলাচল ও বনের সৌন্দর্য উপভোগে ছুটে আসে নিঝুম দ্বীপে অনেকে।

মনপুরা থেকে নিঝুম দ্বীপ যেতে সময় লাগে স্পীড বোটে১০/১৫ মিনিট। ট্রালর বা বোটে যেতে সময় লাগে ৩০/৪০ মিনিট।তাছাড়া মনপুরা দ্বীপের মানুষ নিতান্ত সহজ-সরল, তাঁদের উষ্ণ আতিথেয়তা পর্যটকদের প্রধান আকর্ষণ। স্বল্প খরচে পর্যটকদের জন্য থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে এখানে। আরো রয়েছে সবুজ বাগান অতিথি পাখির কলকাকলীতে মুখর।

মনপুরা দ্বীপে যে ভাবে আসবেন, বাংলাদেশের যেকোনো স্থান থেকে ঢাকা সদরঘাট থেকে বিকাল সাড়ে পাঁচ টায় ও বিকাল ৬টায় মনপুরার উদ্দেশ্য এমভি ফারহান ও এমভি তাসরিফ ছেড়ে আসেন।সারা রাত লঞ্চ জার্নি উপভোগ করে সকালে মনপুরা দ্বীপে এসে ঘুরতে তেমন একটা মন্দ না। শীত মৌসুমে নদী শান্ত থাকে। ওই মৌসুম পর্যটকদের জন্য উপযুক্ত সময় হলেও পুরো বছরই পর্যটকদের আনাগোনা থাকে এই দ্বীপে। পর্যটকদের নিরাপত্তায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে সার্বিক ব্যবস্থা রয়েছে। বছরের যেকোনো সময় নির্বিঘ্নে বেড়ানো বা ঘুরে যেতে পারেন দ্বীপ উপজেলা টি।

মনপুরা কে পর্যটন কেন্দ্র ঘোষনা করার জন্য স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের দীর্ঘদিন দাবীর করে আসছে। কিন্তু আশ্চর্য্যরে বিষয় মনপুরার মত একটি দারুণ সম্ভাবনাময় পর্যটন কেন্দ্র থাকার পরে ও এর উন্নয়নে কোন পদক্ষেপ এ পর্যন্ত নেয়া হয়নি। পর্যটন মন্ত্রণায়ের উদ্যোগে মনপুরা কে পর্যটন কেন্দ্র ঘোষনার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করার দাবী জানান স্থানী ও আগত পর্যটক। এতে দেশের সম্ভাবনাময় পর্যটনখাতকে আরো প্রসারিত করে পৃথিবীর বুকে বাংলাদেশকে তোলে ধরার পাশাপাশি অর্থনীতিতে বড় ধরনের ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।

সাম্প্রতিক মনপুরা ও মনপুরা দখিণা হাওয়া সী বিচ ঘুরতে আসেন নড়াইল জেলা দায়রাজজ ও ভোলা জেলা দায়রাজজ। তারা বলেন দ্বীপ সৌন্দর্য আমাদের কে মুগ্ধ করেছে।

ট্রাভেলার্স নাজমুস সাকিব মনপুরা দ্বীপে ক্যাম্পিং করেন,তার সাথে দ্বীপের সৌন্দর্য নিয়ে আলাপচারিতা কালে তিনি বলেন,মনপুরা দ্বীপের মাঝে সব চেয়ে সৌন্দর্য স্থান মনপুরা দখিণা হাওয়া সী বিচ। যেখানে কোন কোলাহল নেই।শান্ত একটা পরিবেশ যাহা অন্য পর্যটন কেন্দ্রে গুলোতে পাওয়া যাবে না।তিনি আরো বলেন এ দ্বীপের সৌন্দর্য্য বর্ধণ যে কোন ভ্রমন প্রিয়সী মানুষ দেখলে মন কেড়ে নেয়। আকর্ষন আর সৌন্দর্য্য পর্যটকদের হাতছানি দিয়ে আহবান করলেও প্রচার প্রচারনার দিক দিয়ে অনেক পিছিয়ে থাকায় এ দ্বীপের আকর্ষনের কদর ভ্রমন প্রিয়সীদের মনে নাড়া দিচ্ছে না। অপরূপ সৌন্দর্য্য মেঘনার উপকুলে বালু চরে সারিসারি কেওড়া বন, লাল কাকঁড়ার ছুটাছুঠি, সাগর থেকে মাছ আহরণ করে উপকূলে ফিরে আসা সারিসারি ফিশিং ট্রলারের পাল তোলা নৌকার বহর,সোনালী হরিণের অবাধ বিচরণ,অতিথি পাখির চেচাচেছি শব্দ,প্রকৃতি প্রেমিকদের কে আকর্ষণ করে তোলে। মনপুরা দ্বীপে সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে দৃশ্যয়মান পর্যটকদের আকর্ষনীয় স্থাপনা গড়ে উঠলে সরকার এ দ্বীপ থেকে শত শত কোটি টাকা পর্যটন খাতে আয় করতে পারবে।

ইতোমধ্যে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মনপুরা দখিনাহাওয়া সী বিচে পর্যটক এসে মুগ্ধ হয়েছেন বলে জানান তারা।

মনপুরা দখিণা হাওয়া সী বিচ সেচ্ছাসেবী সংগঠন এর সভাপতি রাকিবুল হাসান বলেন,অনেক পুরনো দ্বীপ মনপুরা। একসাথে সূর্য উদয় ও অস্ত দুটি উপভোগ করার যায়।এবং এখানে সোনালী হরিণের অবাধ বিচরণ যাহা পর্যটকদের জন্য আকর্ষণের।এবং দখিনা হাওয়া সী বিচে সম্ভাবনা একটা স্থান। এখানে আমরা পর্যটকদের নিরাপত্তা নিয়ে কাজ করি।পর্যটকদের গাইডলাইন দিয়ে দিয়ে দ্বীপটি ঘুরিয়ে দেখায়।

দক্ষিণ সাকুচিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব অলিউল্লাহ কাজল বলেন,মনপুরা পর্যটন কেন্দ্রে ঘোষণা করার জন্য পর্যট মন্ত্রণালয়ের প্রতি দুষ্টি আকর্ষণ করছি।সী বিচের বিষয় জানতে চাইলে তিনি বলেন, সী বিচে নানা স্থাপনা গড়ে তোলা হয়েছে। ব্যক্তি গত উদ্দেশ্যে চেষ্টা করছি।তবে সরকারের সুদৃষ্টি হলে বাংলাদেশ অন্যতম পর্যটন কেন্দ্রে হবে মনপুরা।

মনপুরা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সেলিনা আক্তার চৌধুরী বলেন,পর্যটন মন্ত্রণালয়ের আবেদন পত্র পাঠানো হয়েছে। তবে মনপুরা দখিনাহাওয়া সী বিচে বিভিন্ন উপকরণ আছে যাহা পর্যটকদের আকর্ষণ করবে।

আরো পড়ুন : শ্বেতী রোগের কারণ, লক্ষ্মণ ও চিকিৎসা

আরো পড়ুন : মেহ-প্রমেহ ও প্রস্রাবে ক্ষয় রোগের প্রতিকার

আরো পড়ুন : অর্শ গেজ পাইলস বা ফিস্টুলা রোগের চিকিৎসা

আরো পড়ুন : ডায়াবেটিস প্রতিকারে শক্তিশালী ভেষজ ঔষধ

আরো পড়ুন : যৌন রোগের শতভাগ কার্যকরী ঔষধ

You might like