

মোঃ হৃদয় হোসেন, রায়পুর প্রতিনিধি :
লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলায় গত দুই মাসে (মে ও জুন) একের পর এক হত্যাকাণ্ড ও রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় জনমনে চরম উদ্বেগ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। শিশু থেকে বৃদ্ধ, নারী থেকে তরুণ—বিভিন্ন ঘটনায় অন্তত ৯ জনের প্রাণহানি হয়েছে। পারিবারিক বিরোধ, জমি-সংক্রান্ত সংঘর্ষ, ছুরিকাঘাত এবং নৃশংস হত্যাকাণ্ডের মতো ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন স্থানীয়রা। অধিকাংশ ঘটনার তদন্ত চলমান থাকলেও দ্রুত বিচার এবং অপরাধ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন তারা।

গত ২ মে উপজেলার দফাদার বাগান এলাকায় নিখোঁজ হওয়ার কয়েক ঘণ্টা পর অটোরিকশাচালক কিশোর রাজিব (১৩)-এর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরিবারের অভিযোগ, তাকে হত্যার পর মুক্তিপণ দাবি করা হয়েছিল।
এরপর ২৯ মে কেরোয়া ইউনিয়নের নয়ারহাট এলাকায় নিখোঁজের একদিন পর ফারাবি (৩) নামে এক শিশুর মরদেহ একটি খাল থেকে উদ্ধার করা হয়। পরিবারের দাবি, শিশুটিকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। তবে পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।
সবচেয়ে আলোচিত ঘটনা ঘটে ২৫ জুন। রায়পুর পৌর শহরের গোডাউন রোড এলাকার একটি ভাড়া বাসায় শাহিনুর বেগম (৩৮), তার বড় মেয়ে সায়মা আক্তার (২১) ও ছোট মেয়ে শিফা আক্তার (৯)-কে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। গুরুতর আহত হন আরেক মেয়ে ইকরা আক্তার (১৭)। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনিও মারা যান। এ ঘটনায় উত্তেজিত জনতার গণপিটুনিতে অভিযুক্ত অন্তর মজুমদারও নিহত হন। এই এক ঘটনায় প্রাণহানি ঘটে পাঁচজনের।
এর কয়েকদিন পর, ৩০ জুন ঢাকার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান টাইলস মিস্ত্রি সাগর (৩২)। গত ১২ জুন রায়পুর পৌর শহরের হল রোড এলাকায় ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত হওয়ার পর তিনি টানা ১৮ দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করেছিলেন।
অন্যদিকে, চরপাতা ইউনিয়নে জমি-সংক্রান্ত বিরোধের জেরে মো. হানিফ (৬২) নামে এক বৃদ্ধের মৃত্যুর ঘটনাও এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। পরিবারের অভিযোগ, মারধরের কারণেই তার মৃত্যু হয়েছে। তবে পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।
গত দুই মাসে বিভিন্ন ঘটনায় নিহতরা হলেন— রাজিব (১৩), ফারাবি (৩), শাহিনুর বেগম (৩৮), সায়মা আক্তার (২১), শিফা আক্তার (৯), ইকরা আক্তার (১৭), গণপিটুনিতে নিহত অন্তর মজুমদার, সাগর (৩২) এবং মো. হানিফ (৬২)।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ধারাবাহিক এসব ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা বেড়েছে। তারা পুলিশের টহল জোরদার, দ্রুত তদন্ত সম্পন্ন এবং জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে রায়পুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহিন মিয়া বলেন, “প্রতিটি ঘটনার পরপরই পুলিশ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়েছে। মামলা গ্রহণ করা হয়েছে, আসামি গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। পুলিশের কোনো গাফিলতি বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কোনো দুর্বলতা নেই। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, মাদকের অর্থের জোগান দিতে গিয়ে কিছু অপরাধ সংঘটিত হতে পারে।”
তিনি আরও বলেন, অন্যান্য ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন এবং জড়িতদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

















