মনপুরা নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মেঘনা নদীতে জেলেদের মাছ শিকার

রাকিবুল হাসান,মনপুরা সংবাদদাতা।

সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ভোলার মনপুরা মেঘনা নদীতে জেলেরা মাছ শিকার করতে দেখা গেছে।এসব মাছ বিক্রিও করা হচ্ছে প্রকাশ্যে। জেলেরা বলছেন, সরকারি সহযোগিতা অপর্যাপ্ত হওয়ায় বাধ্য হয়েই মাছ আহরণে যেতে হচ্ছে তাদের। এদিকে, মাছ শিকার বন্ধে মেঘনা হচ্ছে না কোন অভিযানও।এতে জেলেরা সাধারণ আগের মত অবলীলায় নদীতে মাছ শিকার করছেন।

মেঘনা নদীর সকল প্রকার মাছ শিকারে সরকারি নিষেধাজ্ঞাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন করছে কতিপয় জেলে ও মহাজন।

অভিযোগ রয়েছে,মনপুরা মেঘনা নদীর ৯০ কিঃমি অভয়াশ্রমে নানা প্রজাতির মাছ শিকার করা হচ্ছে অবাধে। কর্তৃপক্ষ নির্বিকার রয়েছে এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণে।

ইলিশ রক্ষায় ভোলা ইলিশা থেকে মনপুরা চরপিয়াল পর্যন্ত ৯০ কিঃমিঃ মাছ উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে ১লা মার্চ থেকে ৩০শে এপ্রিল পর্যন্ত মৎস্য আহরণে ২মাস নিষেধাজ্ঞা। এসময় জেলেদের সহায়তা করতে সরকারের পক্ষ থেকে নানা পদক্ষেপও নেয়া হয়েছে।তবে সে সহয়তা ১১ দিন অতিবাহিত হলো এখনো পায় নি জেলোরা। জেলেরা বলছেন, প্রয়োজনের তুলনায় সরকারি সহযোগিতা অনেক কম হওয়ায় বাধ্য হয়েই মাছ শিকারে যেতে হচ্ছে তাদের।

অনেক জেলে বলেন,তাদের আড়ৎদার ও জনপ্রতিনিধি প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের সাথে যোগসাজশে করে তাদের কে নদীতে মাছ শিকার এর অনুমতি দেন।

মনপুরা মেঘনা নদী তীরবর্তী এলাকায় প্রকাশ্যেই চলছে নদীর মাছ বেচাকেনা। প্রজনন মৌসুমে ইলিশ ও অন্য মাছ শিকার ও বেচাকেনায় নিষেধাজ্ঞা থাকলেও তা মানা হচ্ছেনা।

সরজমিনে গিয়ে দেখা যায় উপজেলার জনতা বাজার,নয়া বাজার,লতাক্ষালি,সহ পুরো অভয়াশ্রমে বেহেন্দী জালে মাছ শিকার করছেন জেলেরা। আগের মতই মাছ শিকার করছেন জেলেরা দিন রাত।নয়া বাজার থেকে কিছুটা পশ্চিম দিকে জেলেরা নদীতে মাছ ধরছে, কেউ কেউ জাল পরিষ্কার করছে এবং নদীর পাড়েই মাছের পাইকারি বিক্রির আড়ৎ বসেছে এসবই যেন একসঙ্গে।

সচেতন মহল বলেন, এভাবে চলতে থাকলে সরকারের লক্ষ্য মাত্রা বাস্তবায়ন করা কখনো সম্ভব হবে না।

মনপুরা মৎস্য কর্মকর্তা ভিক্টর বাইন বলেন, জেলেদের নামে বরাদ্দকৃত মৎস বিজিএফের চাল দ্রুত বিতরণের জন্য ইউনিয়ন পরিষদের চেয়রম্যানদের কে চিঠি দিয়েছি।মনপুরা নিবন্ধনকৃত জেলে রয়েছে ১০ হাজার ৫শত জন।নিষেধাজ্ঞায় ৭ হাজার জেলে পরিবার কে খাদ্য সহয়তা প্রদান করা হবে। আশাকরি দ্রুত সময়ের মধ্যে জেলে পরিবাবের মাঝে এই চাল বিতরণ শুরু করা হবে।

তিনি আরও বলেন, গত ১১ মার্চ পর্যন্ত নদীতে অভিযান চালিয়ে অবৈধভাবে মাছ ধরার অপরাধে ১০ জন জেলেকে আটক করা হয়েছে।অপ্রাপ্ত বয়স্ক হওয়া ৫০ হাজার ৫শত টাকা মুচলেকা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। এবং তাদের ব্যবহার করা জব্দকৃত ৩টি ট্রলার নিলামে বিক্রি করে সরকারি কোষাগারে ৫০ হাজার পাঁচ শত টাকা জমা দেওয়া হয়। নিষেধাজ্ঞা সফল করতে এ অভিযান অব্যাহত থাকবে।

You might like