

রাকিবুল হাসান,মনপুরা সংবাদদাতা :
ভোলার মনপুরা উপজেলা উত্তর সাকুচিয়া মহিলা দাখিল মাদ্রাসায় জরাজীর্ণ ভবনে ঝুঁকি নিয়ে পাঠদান চলছে।এতে আতঙ্কে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির ভবন এতই ঝুঁকিপূর্ণ যে, সবসময় দুর্ঘটনার আতঙ্কে থাকেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। তবে ভবনটি দূর থেকে দেখে বিষয়টি বোঝার উপায় নেই, কিন্তু ভেতরে গেলে চোখে পড়ে আরসিসি পিলার ও গ্রেট বিমগুলোতে বিস্তৃত ফাটল।নেই দরজা জানালাও। দোতলা ১টি ভবন ৪কক্ষ বিশিষ্ট। এই ভবনে ৪ কক্ষের অবস্থায় জরাজীর্ণ। মাদ্রাসার শিক্ষকরা বলেন,বিকল্প কোনো ব্যবস্থা না থাকায় বাধ্য হয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ভবন জেনেও সেখানে ক্লাস নেওয়া হচ্ছে। এ কারণে সন্তানদের স্কুলে পাঠিয়ে আতঙ্কে থাকেন অভিভাবকরাও।মাদ্রাসার সাবেক দুইটি টিন সেট ঘরে কোন রকমে ক্লাস করছেন শিক্ষকরা ।

দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয়রাও এই মাদ্রাসাটির দুরবস্থা থেকে উত্তরণের দাবি জানিয়ে আসছেন এলাকাবাসি।
জানা জায়,মনপুরা ৩নং উত্তর সাকুচিয়া ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের মাষ্টার হাট এলাকায় ১৯৯৬সালে উত্তর সাকুচিয়া মহিলা মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা হয়। ২০০৮ সালে ৪ কক্ষের দ্বিতল ভবনটি নির্মাণের পর থেকে এখানেই মাদ্রাসার কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছে।এর আগে টিন সেট ঘরে পাঠদান চলছিলো।
মাদ্রাসাটিতে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৪২০ জন। শিক্ষক রয়েছেন ১৬ জন।কর্মচারী রয়েছে ৫জন।
সরেজমিনে দেখা গেছে, ২০০৮সালে নির্মিত মাদ্রাসা ভবনে ২০১৮ সালে ত্রুটি দেখা দেওয়ার পর ধীরে ধীরে শ্রেণিকক্ষগুলো জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে। ছাদ ও দেওয়ালের পলেস্তারা খসে পড়ছে। বৃষ্টির সময়ে ছাদ চুয়ে পানি পড়ছে মেঝেতে। অনেক কক্ষের দরজা-জানালা নেই। ফলে সবসময় দুর্ঘটনার আতঙ্কে থাকেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।পাঠদান চালু রাখার স্বার্থে ঝুঁকিপূর্ণ ৪টি কক্ষেই চলছে ক্লাস।সেই সাথে মাদ্রাসাটিতে স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী শাখা চালু রয়েছে। কোমলমতি শিক্ষার্থী জন্য রয়েছে একটি টিন সেট ঘড়।সেটিও জরাজীর্ণ অবস্থা। ঘূর্ণিঝড় আম্পানের সময় স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসা ঝড়ের কবলে পড়ে তছনছ হয়ে পরে।মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ কোন রকম মেরামত করলেও শষ্কায় কাটেনি এখনও।
দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী খাদিজা আক্তার জানান, ভবনে ফাটল দেখা দিয়েছে। ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ে। ঝুঁকিপূর্ণ ভবনটিতে তারা ভয়ে ভয়ে ক্লাস করে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, আরসিসি পিলার ও গ্রেট বিমগুলোতে বিস্তৃত ফাটল দেখা দেওয়ায় ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে।মাল্টি প্লাস কক্ষে নেই কোনো দরজা জানালা।বৃষ্টি হলে এই সব মালামাল নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। শিক্ষার্থীরা ভয়ে ভয়ে ক্লাস করে থাকে। ভবন ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় অনেক অভিভাবক তাদের মেয়েদেরকে মাদ্রাসায় আসতে দিতে চান না।

ইউপি সদস্য সোহেল বলেন,অনেক দিন মহিলা মাদ্রাসার অবস্থা জরাজীর্ণ ।এলাকার অনেক মেয়েরা এই মাদ্রাসায় পাঠদান করেন।বিষয় টি কর্তপক্ষের নজরে আনার জন্য আমরা কাজ করছি।
এ বিষয়ে প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ মাওলানা শামসুদ্দিন বলেন, মাদ্রাসার ভবন বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। যে কারণে ভয়ে শিক্ষার্থীরা মাদ্রাসা আসতে চায় না। দ্রুত এ বিষয়ে একটি পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।
এ বিষয়ে মাদ্রাসার ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি আব্দুর রহমান রাসেদ মোল্লা বলেন, পুরো ভবনটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করে বিকল্প কোনো ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষর কাছে আবেদন করবো। ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে রাখা সম্ভব নয়। যে কোনো সময় বড় কোনো দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।










