

রাকিবুল হাসান ,মনপুরা ভোলা প্রতিনিধি ::
ভোলার মনপুরা উপজেলা অসহায় সেবা বঞ্চিত তৃণমূল পর্যায়ের নারীদের কাছে বেশ জনপ্রিয় নাম তথ্য আপা।
তথ্য আপা সেবাটি দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।মুজিব বর্ষে আশ্রয় প্রকল্পের অসহায় নারীদের কাছে তথ্য আপা এখন উপকারী নাম।

ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির মাধ্যমে নারীদের ক্ষমতায়নের উদ্দেশ্যে এ প্রকল্প হাতে নিয়েছে সরকার। মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে জাতীয় মহিলা সংস্থা।
জানা গেছে, উপজেলা সুবিধাবঞ্চিত নারীদের সমস্যায় পাশে দাঁড়ান তথ্য আপা। প্রয়োজনে বাড়ি বাড়ি গিয়েও সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করেন তারা।বিশেষ করে স্কুল-কলেজ ও মাদ্রাসার ছাত্রীদের কাছে জনপ্রিয়।
তথ্য সেবা কেন্দ্র থেকে জানান,মোট ৬টি বিষয়ের উপর ভিত্তি করে তাদের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
তাছাড়া কৃষি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, আইন সহায়তা, জেন্ডার ও ব্যবসায় উন্নয়ন, নির্যাতিত নারী, সুবিধাবঞ্চিত নারীদের চাহিদা অনুযায়ী বিভিন্ন তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করা।
মনপুরা উপজেলা প্রায় ৬৫ হাজার নারী রয়েছে।এ পর্যন্ত ১৬ হাজার নারী তথ্য আপা’র কাছ থেকে বিভিন্ন সেবা গ্রহণ করেছে।
সরেজমিন গিয়ে জানা যায়,তথ্য আপা’ যৌতুক নিরোধ, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মেয়েদের বিনামূল্যে কম্পিউটার প্রশিক্ষণ ও প্রতি মাসে উঠান বৈঠক করে তৃণমূল নারীদের সচেতন করছেন। এতে বিশেষ করে এই উপজেলা জুড়ে ‘তথ্য আপা’র সেবায় আলোকিত হচ্ছেন সেবা বঞ্চিত নারীরা ।
তথ্য কর্মকর্তা তৃণমূলের নারীদের উন্নয়নে ইন্টারনেটের মাধ্যমে তথ্য সেবা দেয়াসহ প্রাথমিক স্বাস্থ্য সেবা, উঠান বৈঠক, মুক্ত আলোচনা ও সচেতনতামূলক কার্যক্রমের আয়োজন করছেন তারা। আর এসব উঠান বৈঠকে সরকারের বিভিন্ন সংস্থার কমকর্তারা অংশ নিয়ে গ্রামের নারীদের বিভিন্ন বিষয়ে অবহিত করছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অনেক নারী বলেন, আমি বড় ধরনের সমস্যায় পড়ে তথ্য আপার সহযোগিতায় বিনামূল্যে আইনি সহায়তা পেয়েছি।
উপজেলা ‘তথ্য আপা’ কেন্দ্রে কর্মরত রয়েছেন তথ্যসেবা কর্মকর্তা আফনান হল, তথ্যসেবা সহকারী সামিয়া সুলতানা (নিসি)।তবে তথ্যসেবা সহকারী একটি পোষ্ট এখন খালি রয়েছে,অফিস সহায়ক জীবন দাস নিয়জিত রয়েছে।

সোবাহান পুর আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দা হালিমা, জোৎসনা সহ অনেকে বলেন,আমরা মোবাইল সম্পর্কে জানতাম না। আমরা অন্ধকারে ছিলাম। তথ্য আপা আমাদের চোখ খুলে দিয়েছেন।এখন আমরা আর বসে থাকি না। যেকোন প্রয়োজনে আপার সাথে দেখা করি ও ফোনের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় সেবা গ্রহণ করি। এবং মোবাইলে মাধ্যমে ইউটিউব দেখে দেখে বিভিন্ন কুটি শিল্প, খাতা সেলাই, হাঁস পালন পদ্ধতি শিখি। স্বামীর পাশাপাশি আমাদের আয়ের উৎস বাড়ছে।
উপজেলা তথ্যসেবা কর্মকর্তা আফনান হক বলেন, বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে ডিজিটাল সেবা কী, কীভাবে সেবা পাওয়া যাবে- এসব বিষয়ে আলোচনা করে থাকি। এতে নারীরা বিভিন্নভাবে উপকৃত হচ্ছেন।প্রকল্প চলাকালীন সময় পযন্ত সেবার মান আরও বাড়ানো হবে। বর্তমানে এ কার্যালয়ে নারীদের সব ধরনের সেবা বিনামূল্যে দেয়া হচ্ছে।










