সুদর্শনা, কোনো এক রূপালি নদীর তীরে

যুবক অনার্য

মানুষের ভাবনাগুলো প্রায়শ এরকম হয়: মনে হয়- অনেক বছর পর যখোন মৃত্যু খুব কাছাকাছি- এসেছে দাঁড়িয়ে দুয়ারে,লোডশেডিং শেষে হঠাৎ ইলেক্ট্রিসিটি চলে আসবার মতোন একদিন সুদর্শনা ফোন করে বোলবে: দাদা,আমি তোমার সেই সুদর্শনা,আমাকে ভুলে গেছো নিশ্চয়ই!
মনে পড়ে- সেই যে বোলতে তুমি: সমুদ্রতীর জোছনা রাত ঝিরিঝিরি বাতাস একটি নারী মানে তুমি প’রে আছো সাদা জর্জেট, আকাশ থেকে জোছনা নেমে এসে ভর করেছে তোমার
সাদা জর্জেটে- মনে হচ্ছে একটি জোছনা
হেঁটে হেঁটে হারিয়ে যাচ্ছে ক্রমশ দূরত্ব মাড়িয়ে
অন্য কোনো দূরে—। আর এই দৃশ্যটি পেছন থেকে অসহ্য যন্ত্রণামাখা অনুভূতি নিয়ে

দেখে নিচ্ছে ভস্মাধার পরিবৃত এক যুবক যে- যুবক জন্ম নিয়েছিলো শুধু এই আশ্চর্য সুন্দর আর হাহাকারময় দৃশ্যটি দেখে নেবে বোলে।বোলেছিলে: জীবনে অন্তত একবার হলেও আসবে আমাদের বাড়ির পাশের রূপালি নদীটির পাড়ে।এসে আমার হাতে হাত রেখে বোলবে- এই পৃথিবীতে আমার কাছে একমাত্র সত্য ও একমাত্র সুন্দর – তুমি,শুধুই তুমি।এছাড়া আমার জীবনে আর কোনো সত্য নেই,আর কোনো সুন্দর।

দাদা,সেতো বহুদিন হলো কিন্তু তুমি আসোনি কোনোদিন।সেই যে সমুদ্রতীর জর্জেট শাড়ি জোছনা রাত রূপালি নদী- সবকিছুই না দেখা
রয়ে গেলো।দাদা,আজ তোমাকে ডাকছি।
তুমি কি একবার এসে দেখে যাবে
তোমার সেদিনের সেই ছোট্ট বোনটা দাঁড়িয়ে আছে কীরকম এক অরন্তুদ ধ্বংস্তুপের উপর!

সুদর্শনার এই কথাগুলো শেষ হলে আমি বোলবো: সেই যে তুই হারিয়ে গিয়েছিলি আমার বিমর্ষ আর- অসতর্ক মুহুর্তের একটি ‘ভুল’ ক্ষমা করতে না পেরে- আমিও পারি নি নিজেকে ক্ষমা ক’রে দিতে মনের অজান্তেই তোকে কষ্ট দিয়েছিলাম বোলে।তারপর একটু একটু ক’রে নিজেকে সম্পুর্ন শেষ ক’রে দিয়েছি।শেষ হয়ে যাবার এক ভয়ংকর
নেশা যেনো আমাকে চেপে ধরেছিলো।আজ আমি পুরোদস্তুর শয্যাশায়িত কৃত্রিম মেডিকেটেড বেডে।আমাকে সারাক্ষণ কেবলি শুয়ে থাকতে হয়।

নাকে নল লাগানো,বিশেষ অঙ্গে লাগানো আছে ক্যাথেটার।আমার এখন ” এখন- তখোন অবস্থা” – ডাক্তারবাবু বোলে দিয়েছেন স্ট্রেইট!
সত্যিই খুব ইচ্ছে ছিলো জীবনে একবার অন্তত একবার দেখা হোক কিন্তু বড্ড দেরি হয়ে গেছে বোন।তোর একটা ফোনের জন্য আমি অনন্তকাল অপেক্ষা ক’রে থাকবো – বোলেছিলাম।গুণে গুণে অনন্তকাল পরেই ফোন দিলি তুই।কী অপুর্ব আর বেদনাপ্রধান অভিমান তোর!
তোকে দেয়া কথা রাখবার আর কোনো সুযোগ রইলো না আমার।সেদিনের মতোন আজকেও করজোরে ক্ষমা চাইছি।ক্ষমা করে দিস
অক্ষম এই অবিনাশদাকে যে- অবিনাশ
কবিতার মতোই নিষিদ্ধ হয়ে গিয়েছিলো একদা সুদর্শনার করুণার কাছে।

কিন্তু,কিন্তু – অই যে একটা কথা আছে না- Man proposes God disposes! এই পড়ন্ত বেলায় এসেও ঘটে যাচ্ছে ঠিক তাই।পৃথিবীর কোনো সুদর্শনাই ফোন করে নি অবিনাশদাকে– যে- সুদর্শনা চিরদিন থেকে যায় কোনো এক
রূপালি নদীর তীরে!

You might like