

রাকিবুল হাসান, মনপুরা প্রতিনিধি :
দ্বীপ উপজেলা মনপুরা যার চারপাশে মেঘনা নদী। নদীর সাথে সক্ষতা করে বেঁচে থাকা এখানকার মানুষের নিত্যদিনের কাজ।মনপুরার চতুর্পাশে রয়েছে বেড়িবাঁধ। কিন্তু সে বেড়িবাঁধ অধিকাংশ খুব নাজুক। বেড়িবাঁধের কোথাও কোথাও মাত্র ৩-৪ ফুট চওড়া মাটির বাঁধ রয়েছে।এরইমধ্যে ঘূর্ণিঝড় মোখার আভাস দিয়েছে আবহাওয়া অফিস।এমন দুর্বল বেড়িবাঁধ নিয়ে সৃষ্টি হওয়া ঘূর্ণিঝড় এর আতঙ্কে নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছে মনপুরার দ্বীপ উপজেলার প্রায় দেড়লক্ষাধিক মানুষ।

মনপুরার বেড়িবাঁধ রয়েছে ১০ ফুট উচ্চতা,কোথাও কোথাও ৫-৬ ফুট রয়েছে।কিন্ত ঘূর্ণিঝড় মোখা ৮-১২ ফুট উচ্চতা জলোচ্ছ্বাস হওয়াই দুশ্চিন্তায় পড়েছে এখান কার মানুষ।
বেড়িবাঁধ নির্মাণকারী পানি উন্নয়ন বোর্ড পুরো উপকূল রক্ষায় টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ প্রকল্প হাতে নিয়েছেন বলে জানান উপ-প্রকৌশলী আব্দুর রহমান।দীর্ঘদিন মনপুরার মানুষের একটি দাবি করে আসছেন টেকসই বেড়িবাঁধ। কিন্তু বর্ষা আসলে কেবল জোড়াতালি দিয়েই সময়টা পার করে পানি উন্নয়ন বোর্ড। ফলে সরকারি বরাদ্দের কোনো সুফল মেলে না এলাকাবাসীর ।
সাবেক উপজেলার চেয়ারম্যান আলহাজ্ব নজির আহম্মেদ মিয়া বলেন,ঘূর্ণিঝড়ের এর কথা শুনলে মনেপড়ে যায় সেই প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড়ের শোকাহত দিন তখা ১৯৭০ সালের সেই রাত এর কথা। সেই রাতে ঘূর্ণিঝড় ও ভয়াবহ জলোচ্ছ্বাস কেড়ে নেয় উপকূলের লাখো মানুষের প্রাণ। তাদের মধ্যে অনেক মানুষের মৃত্যু হয়। একই সঙ্গে প্রাণ যায় হাজার হাজার গবাদিপশুর। প্রাকৃতিক সম্পদ ও পর্যটন সমৃদ্ধ উপকূলীয় এলাকা কয়েক ঘণ্টার মধ্যে পরিণত হয় বিরাণভূমিতে।ফলে ঘূর্ণিঝড়-জলোচ্ছ্বাসের খবর শুনলেই আতঙ্কে দিন কাটে মনপুরার লাখো মানুষের।
ঘূর্ণিঝড় মোখার খবর ঘিরে উপকূলীয় উপজেলা মনপুরার মানুষের হারানো স্বজনদের স্মরণ করে সেই ১৯৭০ এর রাতের বিভীষিকা আজও শিউরে ওঠে উপকূলের মানুষ। মূলত সেই সময়ে টেকসই বেড়িবাঁধ না থাকায় উপকূলীয় এলাকা রাতের মধ্যেই বিরাণভূমিতে পরিণত হয়েছিল বলে জানান প্রবীন অনেকে। সেই প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড় এর ৫৩ বছর শেষ হলেও নির্মাণ হয়নি টেকসই বেড়িবাঁধ।
আবহাওয়া অফিস বলছে, আগামী রোববার উপকূলে আঘাত হানতে পারে মোখা। ঘূর্ণিঝড়টি মিয়ানমারের রাখাইন ও বাংলাদেশের উপকূলে আঘাত হানতে পারে। এটির বাতাসের সম্ভাব্য গতিবেগ থাকতে পারে ১৫০ থেকে ১৮০ কিলোমিটার।
স্থানীয় এলাকাবাসী সাথে কথা হলে তারা জানান, ২৪শে অক্টোবর উপকূলীয় এলাকার ঘূর্ণিঝড় সিত্রাং অতিক্রম করেন।সিত্রাংয়ে মনপুরার অনেক স্থানের বেড়িবাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।কিন্তু সিত্রাং ক্ষতিগ্রস্ত বেড়িবাঁধ এখনো মেরামত করা হয়নি। কিছু কিছু স্থানে মাত্র কয়েক কিলোমিটার ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধে মাটি ফেলে সংস্কার করা হয়।বেড়িবাঁধ নির্মাণকারী পানি উন্নয়ন বোর্ড পুরো উপকূল রক্ষায় টেকসই কোনো প্রকল্প এখনো বাস্তবায়ন করেনি। বর্ষা আসলে কেবল জোড়াতালি দিয়েই সময়টা পার করে। ফলে সরকারি বরাদ্দের কোনো সুফল মেলে না এই উপজেলার মানুষের।
শনিবার সরজমিন গিয়ে দেখা গেছে দক্ষিণ সাকুচিয়া রহমানপুর গ্রামের প্রায় ৩ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ ক্ষতবিক্ষত। স্থানীয় চেয়ারম্যান আলহাজ্ব অলিউল্লাহ কাজল এর নিজ উদ্যোগে ও এলাকায় বাসির সেচ্ছা শ্রমে মাটি পালানোর কাজ শুরু করেছেন।
উপজেলা পাউবো সূত্রে জানাজায়, মনপুরা উপজেলায় ঘূর্ণিঝড় সিত্রাং এর প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৩৬শত মিটার বেড়িবাঁধ। এতে ২৮ শত মিটার বেড়িবাঁধ সংস্করণ করা হয়েছে। বাকি ৮শত মিটার এর কাজ চলমান রয়েছে। এছাড়াও টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ এর কাজ চলমান রয়েছে।

স্থানীয় অনেকে জানান, প্রতিবছর মনপুরার বাঁধ ভাঙছে। কেউ না কেউ নিঃস্ব হচ্ছে।ঘূর্ণিঝড় সিত্রাংয়ে ক্ষতিগ্রস্ত বেড়িবাঁধ দিয়ে লোকালয়ে লবন পানি প্রবেশ এর আশংঙ্কা করছে। বর্তমানে যে কয়েক জায়গায় বাঁধ ধসে গেছে। নদীতে জোয়ার বাড়লে বড় ক্ষতি হতে পারে।গতবছর উপজেলা প্রাণ কেন্দ্র হাজিরহাট ইউনিয়নের বেড়িবাঁধ এর উপর দিয়ে লোকালয়ে পানি ডুকে অনেক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মোখার প্রভাবে মেঘনা নদীর পানি বৃদ্ধি হলে মনপুরার বেড়িবাঁধ দিয়ে লোকালয়ে পানি প্রবেশ করবে।










