মনপুরায় অপহরণের পর দেড় লাখ টাকা মুক্তিপণে ২ জেলে উদ্ধার 

মনপুরা ভোলা প্রতিনিধি :

ভোলার মনপুরায় মেঘনা নদীতে অপহৃত দুই জেলে মাঝিকে একদিন পর মুক্তিপণের টাকা দেওয়ার পর ছেড়ে দিয়েছে হাতিয়ার জলদস্যু মহিউদ্দিন বাহিনী।

অপহৃত জেলেদের উদ্ধার হওয়ার বিষয়টি সময়ের আলোকে নিশ্চিত করেন উদ্ধার হওয়া জেলেদের আড়তদার বাবু মোহরলাল চক্রবর্তী। মনপুরায় আসার সঙ্গে সঙ্গে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে নিজ নিজ বাড়ী চলে গেছেন বলে নিশ্চিত করেন জেলে পরিবারের সদস্যরা । মুক্তিপণে উদ্ধার হয়ে ফিরে আসায় জেলে পরিবারের মাঝে স্বস্তি বিরাজ করছে। অপহরণে এসব ঘটনায় এখন পযন্ত জেলেরা থানায় কোন অভিযোগ দায়ের করেনি ।

উদ্ধার জেলেরা হলেন মনপুরার রহমনপুর গ্রামের ইউসুফ মাঝি ছেলে সুজন মাঝি, চিটু মাঝির ছেলে রহিম মাঝি । বৃহস্পতিবার (৬জুলাই) সকাল ৭টায় ট্রলারযোগে মনপুরায় আসে মুক্তিপণে উদ্ধার হওয়া জেলেরা।

মৎস্য আড়তদার ও জেলেদের পরিবার সূত্রে জানা যায়, অপহৃত ২ জেলের মুক্তিপণ হিসেবে ৩ লাখ টাকা দাবি করে জলদস্যু মহিউদ্দিন বাহিনী। পরে দর কষাকষি করে দেড় লাখ টাকায় মুক্তি দেয় জলদস্যু বাহিনী।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে জেলেদের একটি সূত্রে জানা যায়, অপহরণের পর থেকে মুক্তিপণ নিয়ে দর কষাকষি হয়। রাতে অপহৃত ২ জেলের মুক্তিপণের টাকা নিয়ে ট্রলারে করে হাতিয়ায় যায় অপহৃত জেলে পরিবারের সদস্যরা। পরে জলদস্যু মহিউদ্দিন বাহিনীর প্রধান মহিউদ্দিনকে ২ মাঝির মুক্তিপণ বাবদ ১ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা দিলে ২ মাঝিকে ছেড়ে দেয় জলদস্যু বাহিনী। পরে ট্রলারযোগে উদ্ধার হওয়া জেলেরা মনপুরায় ফিরে আসেন। মনপুরায় এসে তারা খুব অসুস্থ হয়ে পরেছেন ।

এ ঘটনায় উদ্ধার জেলে সুজন মাঝি বলেন, বুধবার ভোর রাতে বালুয়ার(নিঝুমদ্বীপ) এর দক্ষিন পাশে উড়ির চর এলাকায় নদীতে মাছ ধরার সময় হাতিয়ার জলদস্যু মহিউদ্দিন বাহিনীর ১০-১২ জন সদস্য ধারালো অস্ত্র দেখিয়ে আমার ট্রলারে আইসা জাল, মাছ ও মোবাইল নিয়ে যায়। এ সময় আমার পাশে অন্য ট্রলারেও একইভাবে হামলা চালায় তারা।

হামলা শেষে যাওয়ার সময় দুই ট্রলারের আমাদের দুই জন কে চোখ বেঁধে জঙ্গলের ভেতর নিয়ে যায়।’এর পর থেকে আমাদের বাড়ি ও আড়তদারের নম্বর নিয়ে মুক্তিপণ দাবি করে অনেকবার কল দেয়। পরে আমার পরিবার এর সদস্য টাকা নিয়ে গেলে আমাদেরকে ছেড়ে দেয়। আমরা মনপুরা ফিরে আসি।কিন্তু আমাদের এখন আর নদীতে গিয়ে যে মাছ শিকার করবো সেই সম্বল আর নেই ।

তবে পরিবারের সদস্যরা জানান, মুক্তিপণের বিনিময়ে ২ মাঝিকে উদ্ধার করে মনপুরায় নিয়ে আসা হয়েছে।

পুলিশ ও কোস্টগার্ডকে জানান না কে এমন প্রশ্নের জবাবে অপহরণের শিকার জেলে পরিবারের সদস্যরা জনান, পুলিশ ও কোস্টগার্ডকে জানালে অপহৃত জেলেদের মেরে ফেলার হুমকি দেয় জলদস্যু বাহিনী। তাই তারা পুলিশ ও কোস্টগার্ডকে না জানিয়ে জলদস্যুদের মুক্তিপণের টাকা দেয়।

উপজেলার জেলে ও মৎস্য ব্যবসায়ীরা জানান, মেঘনা নদীতে ইলিশের বৃদ্ধি পাওয়ার সাথে সাথে হাতিয়ার মহিউদ্দিন বাহিনীর জলদস্যুতা বেড়ে যায়। কয়েকদিন পর পর মেঘনায় জেলেদের ট্রলারে ডাকাতি ও অপহরণের ঘটনা ঘটে। তাই রাতের অরক্ষিত মেঘনায় কোস্টগার্ড ও নৌ-পুলিশের টহলের দাবি  জানান জেলে ও মৎস্য ব্যবসায়ীরা।

নাম না প্রকাশ করার শর্তে জেলেরা বলেন, ‘যেখানে জলদস্যুরা জেলেদের ওপর হামলা চালায় সেখান থেকে নিঝুমদ্বীপ নৌ-পুলিশ ক্যাম্প মাত্র দেড় কিলোমিটার। নৌ-পুলিশ যদি ইচ্ছে করে তাহলে এক ঘন্টার মধ্যে জলদস্যুদের আটক করতে পারেন।

এই দিকে মনপুরা কোস্টগার্ড কোন প্রকার জেলেদের সহযোগীতা করে না বলেও অভিযোগ। মেঘনা নদীতে ইলিশের বৃদ্ধি পাওয়ার সাথে সাথে হাতিয়ার মহিউদ্দিন বাহিনীর জলদস্যুতা বেড়ে যায়।মেঘনা নদীতে বেশ কয়েক বার জলদস্যুদের আক্রমণের শিকার হয়েছে অনেকে। কিন্তু কোন প্রকার ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি মনপুরা কোস্টগার্ড।

এ ব্যাপারে হাতিয়ার নিঝুম দ্বীপের নৌপুলিশ ফাঁড়ির দায়িত্বে থাকা এসআই আলামিন জানান, অপহৃত জেলেরা উদ্ধার হয়েছে কি না আমাদের জানান নাই। আপনারা হাতিয়া কোস্টগার্ড এর সাথে যোগযোগ করেন । আমরা ও চেষ্টা করছি ।

এ ব্যাপারে মনপুরা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জহিরুল ইসলাম জানান, জেলেরা ফিরে এসেছে। তবে জেলে পরিবারের কেউ অভিযোগ করেনি।

উল্লেখ্য, গত ৫ই জুলাই বুধবার ভোর ৫টায় হাতিয়ার উড়ির চরসংলগ্ন মেঘনায় মাছ শিকারে যান সুজন মাজি,রহিম মাঝি ও নিজাম মাঝি । পরে হাতিয়ার জলদস্যু মহিউদ্দিন বাহিনী ৩ জেলে ট্রলারে হামলা চালিয়ে মাছ, নগদ টাকাসহ দুই জেলে ট্রলার থেকে ২ মাঝিকে অপহরণ করে মুক্তিপণ দাবি করে। নিজাম মাঝি ট্রলার থেকে সকল মালামাল নিয়ে মাঝ নদী ছেড়ে দিয়ে চলে যায় জলদস্যুরা । যাওয়ার সময় তাদের ট্রলার থেকে কোন মাঝি বা ভাগি নেননি ।

You might like