

স্বরূপকাঠি প্রতিনিধি :
স্বরূপকাঠির বলদিয়া ইউনিয়নে ৫টি হাটবাজার ও ৬টি খেয়াঘাট ২টি কুদঘাট থাকলেও কোন রাজস্ব পায় না ইউনিয়ন পরিষদ। এলাকাবাসীর অভিযোগ খেয়াঘাটগুলোর ইজারা দিয়ে চেয়ারম্যান সাহেব লাখ লাখ টাকা আদায় করছেন। শুধু জিলবাড়ী খেয়াঘাটের ডাক দিয়ে চলতি বছর ৩ লাখ ৬০ হাজার টাকা আদায় হয়েছে। চেয়ারম্যান ৩ টিঘাট থেকে ৫২ হাজার এবংএকটি ঘাট থেকে প্রতিদিন ২০০ বা ২৫০ টাকা করে পান বলে স্বীকার করলেও কোন টাকা পয়সা ক্যাশ বইতে জমা করা হয়নি। এমনকি কোন রেজুলেশনও নেই।

২০০১ সাল থেকে ইউনিয়ন পরিষদের খাতাপত্র ঘেটে জানা যায় ২০১৯ সালে ২০ হাজার টাকা জমা আছে। এছাড়া আর কোন টাকা পয়সা জমা নেই।পরিষদের সচিব আতিকুল ইসলাম দিদার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
সরেজমিনে জানা গেছে, গত মঙ্গলবার সহ বেশ ক’দিন বলদিয়া ইউনিয়নে বিভিন্ন হাটবাজার ও খেয়াঘাট ঘুরে জানাযায় সব চেয়ে বেশি টাকার ডাক হয় জিলবাড়ী(জিরবাড়ী) খেয়াঘাটে। ওই ঘাটের এবছর যোগাযেগের মাধ্যমে ডাক হয়েছে ৩ লাখ ৬০ হাজার টাকা। ইজারা নেন কবির হোসেন ও মিঠুমিয়া। মিঠুমিয়াসাংবাদিকদের স্বাক্ষাত দিতে রাজি হননি। তিনি বারবারই বলেন চেয়ারম্যান সাহেব বলবেন। তার অংশীদারকবির হোসেন বলেন, তার ভাগের অর্ধেক ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা চেয়ারম্যান সাহেবকে দিয়েছেন।ওয়ার্ডের মেম্বার মো. মিজানুর রহমান বলেন, মাঝিরা গোপনে গোপনে গিয়া ডাক আনে আমাকে জানায় না। কত দিয়ে ডাক দিয়েছেন তা চেয়ারম্যান সাহেব ভাল জানেন।
চৌদ্দ রশি খেয়াঘাটের বিষয়ে এলাকাবাসীর অভিযোগ ওই ঘাট থেকে লক্ষাধিক টাকা রাজস্ব আদায় হয়। এলাকার মেম্বার সামসুল হক জানান এ পাড়ের মসজিদে ১৫ হাজার ও পশ্চিম পাড়ের মসজিদে ১০ হাজার টাকাএবংএলাকার আওয়ামীলীগের অফিসভাড়া বাবদ বছরে ৭/৮ হাজার টাকা দেন। বাকী ৪০/৪৫ হাজার টাকা যাই হয় তা চেয়ারম্যান সাহেবের কাছে আছে এ পর্যন্ত আমি জানি। মেম্বার মিজানুর রহমান ও সামসুল হক আরো বলেন, আমাদের সম্মানী বাবদ চেয়ারম্যান সাহেব সব মেম্বারদের ১০ হাজার টাকা করে দিয়েছেণ্। এবং কাগজ পত্রে সই স্বাক্ষরও নিয়েছেন।
এ ছাড়া কাটাপিটানিয়া ও লেবুবাড়ী দুটি খেয়াঘাট এলাকাবাসী ধান ও বার্ষিক হিসেবে টাকা দিয়ে চালায়। কাটাপিটানিয়ার ও কাটাখালী খালর মুখে টোল (কুদ) আদায় করা হয়। ওই ইউনিয়নের সবগুলো হাটের ইজারা ভূমিঅফিসের তত্বাবধানে খাস কালেকশন করা হয়।
এ বিষয়ে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. সাইদুর রহমানের সাথে তার অফিসে কথা বললে তিনি জানান, হাটবাজার থেকে কোন রাজস্ব পাননা। সব হাটবাজার খাস কালেকশন করা হয়। জিলবাড়ী খেয়াঘাটের ইজারা নিয়ে জটিলতায় আছি। কোন ডাক দেওয়া হয়নি। টাকা নেওয়ার কথা অস্বীকার করেন।
একপর্যায়ে স্বীকার করেন ওদেরকে প্রতিদিন ২৫০ টাকা করে জমা দিতে বলে ছিলাম ওরা ২৫০ টাকাও দেয় আবার ২০০ টাকা করেও দেয়। বৈঠাকাটা খেয়াঘাট থেকে ১৫ হাজার, মেধাঘাট থেকে ২ হাজারএবং চৌদ্দরশি ঘাট থেকে দুই পাড়ের মসজিদে ও এলাকার আওয়ামীলীগের অফিসভাড়া বাবদ কিছু টাকা দিয়ে ৩৫ হাজার টাকা পেয়েছি। সব টাকাই অফিসে জমা আছে।
আপনার সচিব বলেছেন অফিসে কোন টাকা পয়সা জমা হয়নি। এমন প্রশ্নে জবাবে তিনি বলেন, উনি বলতে পারেন, আমি জানি না। কাটাখালী ও কাটাপিটানিয়ার খালমুখ থেকে কোন টাকা নেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেন।










