মনপুরায় ৫দিন ধরে পানিবন্দি ১০ গ্রাম, জোয়ারে তলিয়ে গেছে পর্যটন এরিয়া দখিনা হাওয়া সী বিচ

মনপুরা প্রতিনিধি :

ভোলার মনপুরায় গত পাঁচ দিন ধরে টানা প্রবল বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পানিতে মেঘনার পানি বিপদসীমার ওপর প্রবাহিত হয়ে ১০ গ্রাম প্লাবিত হয়।

এতে কয়েক হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে অসহায় হতদরিদ্র মানুষগুলো।দিনরাত বৃষ্টি হওয়ায় উপজেলার বিভিন্ন জায়গায়ও জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। তলিয়ে গেছে বসতঘর, রাস্তাঘাট ও ফসলি জমি। এমন পরিস্থিতিতে গত পাঁচ দিন ধরে কাজে যেতে পারছে না খেটে খাওয়া মানুষ। দুর্দশায় দিন কাটছে দিনমজুরদের। দুর্ভোগে পড়েছেন চাকরিজীবীরাও।

এদিকে রোববার টানা বর্ষণ ও জোয়ারের পানিতে তলিয়ে গেছে মনপুরা দ্বীপের একমাত্র পর্যটন এলাকা মনপুরা দখিনা হাওয়া সীবিচ এলাকা। এই বিচ এলাকায় শীতকালের পাশাপাশি বর্ষা মৌসুমে দখিনা হাওয়া সীবিচের সৌন্দর্যের মুখরিত হত পর্যটক।

এছাড়াও টানা বর্ষণ ও জোয়ারে ভেসে গেছে উপজেলার চারটি ইউনিয়নের অসংখ্য পুকুর ও ঘেরের মাছ। উপজেলার হাজিরহাট ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নিজাম উদ্দিন হাওলাদারের মাছের ঘেরও জোয়ারের পানিতে ভেসে গেছে।

এদিকে রোববারও মনপুরা উপজেলা থেকে বিচ্ছিন্ন চরকলাতলী, কাজীরচর ও ঢালচরে জোয়ারের পানিতে প্লাবিত হয়েছে বলে জানিয়েছেন চরে বসবাসরত ইউপি সদস্য আবদুর রহমান।

এদিকে রোববার মেঘনার পানি বিপদসীমার ৫০ সেন্টিমিটার ওপর প্রবাহিত হচ্ছে। টানা বর্ষণে মেঘনার পানি বিপদসীমার ওপর প্রবাহিত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের ডিভিশন-২ এর নির্বাহী প্রকৌশলী হাসান মাহমুদ।

সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, জোয়ারে তলিয়ে গেছে পর্যটন এলাকা দখিনা হাওয়া সীবিচ। এছাড়াও বুধবার থেকে রোববার পর্যন্ত জোয়ারে প্লাবিত হয়েছে হাজিরহাটের দাসেরহাট, চরযতিন, চরজ্ঞান, চরফৈজুদ্দিন, সোনারচর এলাকা। এছাড়াও টানা বর্ষনে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে উপজেলার বেড়ীর ভিতরের অসংখ্য এলাকা। এছাড়াও জোয়ারে পানিতে তলিয়ে গেছে মাছের ঘের, ফসলি জমি, সবজি ক্ষেত, আমনের বীজতলা। ভেসে ঘেছে অসংখ্য মাছের পুকুর ও ঘের। গত চারদিনের মত একই অবস্থা বিরাজ করছে মনপুরা ইউনিয়নের তুলাতলী, কাউয়ারকে ও পূর্ব আন্দিরপাড় গ্রাম।

এই ব্যাপারে দক্ষিণ সাকুচিয়া ইউপি চেয়ারম্যান অলি উল্লা কাজল জানান, উপজেলার দক্ষিণ সাকুচিয়ার দখিনা হাওয়া সীবিচটি জোয়ারের পানিতে তলিয়ে গেছে। সেই সাথে ভেঙ্গে গেছে সী বিচের অনেক স্থাপনা ।

এই ব্যাপারে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা ফজলুল হক জানান, দুর্গত এলাকায় মানূষের তালিকা করে উপজেলা নির্বাহী অফিসে প্রেরণ করা হয়েছে। সরকারী সহযোগীতা আসলে তা ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারের মাঝে বিতরণ করা হবে ।

এই ব্যাপারে মনপুরা উপজেলার দায়িত্বে থাকা চরফ্যাসন উপজেলার নির্বাহী অফিসার নওরীন হক জানান, দুর্গত এলাকার ক্ষতিগ্রস্থদের তালিকা করা হয়েছে। সরকারিভাবে সাহায্য সহযোগিতা করা হবে।

You might like