

রাকিবুল হাসান, মনপুরা (ভোলা) প্রতিনিধি :
আশ্রয়হীনেরা ছুটে চলে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে। কখনো জলোচ্ছ্বাসের তাণ্ডব, কখনোবা অতিরিক্ত জোয়ারের পানিতে বাড়িঘর ডুবে যায়। বর্ষায় ভাঙণের চিত্রটা এখন একেবারেই স্বাভাবিক।বাপ-দাদার পুরোনো ভিটে ছেড়ে দিয়ে মাথা গোঁজে বাঁধের ধারে। কারও ঠিকানা মেলে শহরের রাস্তার ধারে। সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে উপকূলে বাড়ছে এই দুর্যোগের ঝুঁকি। দুর্যোগ মৌসুমে মনপুরার বাসিন্দাদের দুশ্চিন্তার শেষ থাকে না। ঝুঁকি বাড়তে থাকে প্রতিনিয়ত। তবু উপকূল থেকে যায় অরক্ষিত।
গত ৫ মাস আগে ঘূর্ণিঝড় রেমাল আঘাত হানার ভোলার মনপুরা উপজেলায় বেশিরভাগ বেড়িবাঁধই রয়ে গেছে সংস্কারহীন। এতে করে বেশি আতঙ্কে রয়েছেনে এই উপজেলা বসবাসরত বাসিন্দারা। গ্রামগঞ্জের ক্ষতিগ্রস্ত বেড়িবাঁধগুলো আংশিক মেরামত করা হলেও অজানা কারণে উপজেলার প্রধান শহর রক্ষা বেড়িবাঁধটি এখনো অরক্ষিতই রয়ে গেছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের এমন উদাসীনতাকে চরম অবহেলা বলেই দুষছেন এলাকাবাসী।

এলাকা ঘুরে মানুষের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ঘূর্ণিঝড় রেমালে উপজেলার হাজীরহাট ইউনিয়নের ১১টি পয়েন্ট ভেঙে অন্তত ৪ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয় । এ ছাড়া দক্ষিণ সাকুচিয়া ইউনিয়নের ৯টি পয়েন্ট ভেঙে ৩ কিলোমিটার, উত্তর সাকুচিয়া ইউনিয়নের ৩টি পয়েন্ট ভেঙে ১ কিলোমিটার ও ১ নং মনপুরা ইউনিয়নের ৩টি পয়েন্ট ভেঙে ১ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এগুলো পানি উন্নয়ন বোর্ডের অবহেলা, উদাসীনতা ও অব্যবস্থাপনার কারণে এখনো অরক্ষিতই রয়ে গেছে।ফলে মেঘনার জলোচ্ছ্বাস ও ঘূর্ণিঝড়ের ঝুঁকিতে রয়েছে উপকূলের প্রায় দেড় লক্ষাদিক মানুষ।
আবহাওয়া অফিসের তথ্য মতে, পূর্বের ঘূর্ণীঝড় থেকে শক্তিশালী হতে পারে “ডানা” এমন আশংকা করছেন আবহাওয়াবিদরা। এতিমধ্যে এটি লঘুচাপ থেকে নিম্নচাপে পরিণত হয়েছে। এদিকে মঙ্গলবার চট্রগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্র বন্দরকে ১ নম্বর দূরবর্তী সংকেত দেখাতে বলেছে আবহাওয়াবিদ। ঘূর্ণীঝড়টি বুধবার ও বৃহস্পতিবার আরও ভয়ংকর রুপ ধারন করে উপকূল অতিক্রম করতে পারে। এদিকে আসন্ন ঘূর্ণিঝড় ‘ডানা’কে কেন্দ্র করে দ্বিগুণ আতঙ্ক বিরাজ করছে উপকূলজুড়ে। সে আশঙ্কা থেকেই আতঙ্ক বেড়ে গেছে দ্বীপ উপজেলা মনপুরার মানুষের মধ্যে।
উপকূলের মানুষ দুর্যোগ থেকে বাঁচার নিরাপত্তা চেয়ে সরকারের কাছে দাবি তুলছে।উপকূলী দ্বীপ এই উপজেলা ঘূর্ণিঝড় বিধ্বস্ত মানুষদের কাছে এখনও নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণের দাবিটাই প্রধান হয়ে আছে। তারা বলেন, ‘যা হারিয়েছি তা কেউ ফেরত দিতে পারবে না। বাকি জীবনটা বেঁচে থাকার নিরাপত্তা চাই। শুধু ঘূর্ণিঝড়ের আগে-পরে নয়, সারাবছররের জন্য টেকসই বাঁধ চাই ।
দক্ষিণ সাকুচিয়া ইউনিয়নের বেড়িবাঁধে বসবাসকারী বাসিন্দা,ইমাইল,বিদ্যু চন্দ্র দাস,অপু রানী দাসসহ আরো অনেকে বলেন, ‘রেমালে আমাদের দখিনা হাওয়া সী-বিচসহ বেশ কয়েকটি বেড়িবাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আমাদের মাথা গোঁজার ঠাই হারিয়ে এখন আমরা বিভিন্ন বাড়ীতে আশ্রয় নিয়েছি । কিন্তু বহুবার অফিসে জানানোর পরও মেরামত করা হয়নি।দুর্যোগে সব হারানোর কথা মনে করে চোখ ভিজে ওঠে উপকূলের মানুষের।
তবে পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্মকর্তারা বলছেন,মনপুরায় নদী ভাঙন রোধ প্রকল্পের কাজ চলমান রয়েছে । নদী ভাঙন রোধ প্রকল্পের কাজ শেষ হলেই এসব বেড়িবাঁধের কাজ হয়ে যাবে।
উপজেলার সদরে শহর রক্ষা বাঁধের আশে পাশে বসবাসরত, সজিব,আমেনা, মজিদ,রুলআমিন, মমেনা বেগম,ইলিয়াস সহ অনেকে জানান, শহর রক্ষা বাঁধটি ঘূর্ণীঝড় রেমালের আঘাতে বিধ্বস্ত হয়ে পড়ে রয়েছে। এখন পর্যন্ত পাউবো বাঁধটি মেরামত করেনি। শুনেছি ঘূর্ণীঝড় ডানা আগের ঘূর্ণীঝড় থেকে শক্তিশালী। এতেই পুরো এলাকায় বাসিন্দাদের মধ্যে আতংক বিরাজ করছে। এবার ঘূর্ণীঝড়ে জোয়ারে মেঘনার পানি বৃদ্ধি পেয়ে পুরো উপজেলা তলিয়ে যেতে পারে, এমনকি প্রাণহানির আশংকা করছেন তারা। তাই তারা দ্রুত শহর রক্ষা বাঁধটি মেরামতের দাবী করেন।
মনপুরার দায়িত্বে থাকা পানি উন্নয়ন বোর্ড ভোলা-২-এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আসফাউদদৌলা জানান, ‘মনপুরার মূল ভূখন্ডে ক্ষতিগ্রস্ত বেড়িবাঁধগুলো সংস্কারের ব্যাপারে প্রকল্পের প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। তবে নতুন দায়িত্ব গ্রহণ করায় অনেক বিষয়ে আমি অবগত নই। বেড়িবাঁধটি দ্রম্নত সংস্কার করা হবে।
মঙ্গল বার, ২২ অক্টোবর ২০২৪
স্ক্যাবিস বা চুলকানি থেকে রক্ষা পেতে কী করবেন?
ডায়াবেটিস প্রতিকার ও প্রতিরোধে শক্তিশালী ঔষধ
শ্বেতী রোগের কারণ, লক্ষ্মণ ও চিকিৎসা
যৌন রোগের কারণ ও প্রতিকার জেনে নিন
শ্বেতীর সাদা দাগ দূর করার উপায় কি?








