

ক্ষুদীরাম দাস
যোগাযোগের অভাব হলে যে কোনো সম্পর্কের ইতি ঘটে, এটি একটি প্রাকৃতিক সত্য। যেমন একটি গাছের নিয়মিত পরিচর্যা না করলে, তাতে জল না দিলে এবং আলো-বাতাস থেকে বঞ্চিত রাখলে তার বৃদ্ধি থেমে যায় এবং একসময় তা শুকিয়ে যায়, ঠিক তেমনি মানুষের সম্পর্কের ক্ষেত্রেও যদি যোগাযোগের ধারাবাহিকতা না থাকে, তবে সেই সম্পর্কটিও ধীরে ধীরে তার সজীবতা হারায়। এটি কেবল একটি সাধারণ ঘটনা নয়, বরং এটি সম্পর্কের স্বাভাবিক বিবর্তন।

সম্পর্কের মূল ভিত্তিই হলো নিয়মিত যোগাযোগ। যখন দুটি মানুষ একে অপরের সঙ্গে নিজেদের জীবনের ছোট-বড় ঘটনা, আনন্দ-বেদনা, বা চাওয়া-পাওয়া ভাগ করে নেয়, তখনই তাদের মধ্যে একটি গভীর বন্ধন তৈরি হয়। এই আদান-প্রদান সম্পর্কের শিকড়কে মজবুত করে এবং তা সময়ের পরীক্ষাতেও টিকে থাকে। কিন্তু আধুনিক জীবনের ব্যস্ততা এবং দূরত্বের কারণে যখন এই যোগাযোগের প্রবাহ বন্ধ হয়ে যায়, তখন সেই বন্ধন আলগা হতে শুরু করে। একসময় যে মানুষগুলো একে অপরের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ ছিল, তারা ধীরে ধীরে নিজেদের জগতে নিজেদের মধ্যে সীমাবদ্ধ হয়ে পড়ে।
যোগাযোগহীনতার এই নীরবতা সম্পর্কের মধ্যে এক অদৃশ্য দেয়াল তৈরি করে। এই দেয়াল ভুল বোঝাবুঝির জন্ম দেয় এবং পুরোনো মিষ্টি স্মৃতিগুলো সময়ের সঙ্গে সঙ্গে মলিন হতে থাকে। মনে হয় যেন এক গভীর খাদ তৈরি হয়েছে, যা পার করা আর সম্ভব নয়। একসময় যে মানুষগুলো একে অপরের ওপর ভরসা করত, তারাই অজানা দূরত্বে হারিয়ে যায়।
সম্পর্কের এই স্বাভাবিক মৃত্যুর প্রধান কারণ হলো যোগাযোগের অভাবে পারস্পরিক বোঝাপড়া এবং মানসিক নৈকট্য কমে যাওয়া। সম্পর্ককে যদি একটি জীবন্ত সত্তা হিসেবে দেখা হয়, তবে নিয়মিত যোগাযোগ হলো তার জন্য জীবনদায়ী অক্সিজেন। এই অক্সিজেন সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেলে সম্পর্ক শুধু দুর্বলই হয় না, বরং তার স্বাভাবিক মৃত্যু ঘটে। তাই, সম্পর্কের দীর্ঘায়ু নিশ্চিত করতে হলে, নিয়মিত যতœ, সময়, এবং ভালোবাসার আদান-প্রদান অপরিহার্য।










