

একটি সচেতনতামূলক মন্তব্য প্রতিবেদন
ঢাকা শহরসহ বাংলাদেশের বিভিন্ন শহরে ফুটওভার ব্রিজগুলো পথচারীদের নিরাপদ সড়ক পারাপারের জন্যে নির্মিত হয়েছে। কিন্তু বর্তমানে এসব ব্রিজগুলো অবৈধ দখল, অপরিচ্ছন্নতা এবং রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে অকেজো হয়ে পড়েছে। এ প্রতিবেদনের উদ্দেশ্য হলো এ সমস্যা সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানো, যাতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এবং সাধারণ মানুষ এ বিষয়ে সক্রিয় হয়।

ঢাকায় প্রায় ৮৫টি ফুটওভার ব্রিজ রয়েছে, যা’ ১ থেকে ৫ কোটি টাকা খরচে নির্মিত। কিন্তু এগুলোর অধিকাংশই অবৈধ দখলের শিকার। ফেরিওয়ালা, ভিক্ষুক এবং অন্যান্য অবৈধ ব্যবসায়ীরা ব্রিজের সিঁড়ি এবং উপরের অংশ দখল করে রেখেছে, যার ফলে পথচারীদের প্রবেশপথ বন্ধ হয়ে যায়। সিঁড়িগুলো নোংরা, দুর্গন্ধযুক্ত এবং ভাঙা। উপরের অংশগুলো ক্ষতিগ্রস্ত এবং আবর্জনায় ভর্তি। এছাড়া, অনেক ব্রিজের এসকেলেটর দীর্ঘদিন ধরে অকেজো, যেমন এয়ারপোর্ট ফুটব্রিজের এসকেলেটর দু’বছরেরও বেশি সময় ধরে বন্ধ। আলোকসজ্জার অভাব এবং মেরামতের কাজ স্থগিত থাকায় এগুলো আরো অসুরক্ষিত হয়ে উঠেছে।
এ সমস্যার মূল কারণগুলো হলো: ফেরিওয়ালারা ব্রিজগুলোকে ব্যবসায়ের স্থান হিসেবে ব্যবহার করে, যা’ কর্তৃপক্ষের দুর্বল নজরদারির কারণে চলতে থাকে। নির্মাণের পর কোনো নিয়মিত পরিদর্শন বা মেরামত হয় না, ফলে কাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি বাড়ে। অনেকে ব্রিজ ব্যবহার না করে সরাসরি সড়ক পার হন, যা’ দুর্ঘটনা ঘটায় এবং ব্রিজগুলোকে অবহেলিত করে। একটি গবেষণায় দেখা গেছে, ঢাকায় ৫৪টি চৌরাস্তায় ৩০৩টি দুর্ঘটনার মধ্যে ৪৯.১৭% পথচারী-সংশ্লিষ্ট। অনেক ব্রিজে লিফট বা এসকেলেটর নেই, যা’ বয়স্ক বা প্রতিবন্ধীদের জন্যে অসুবিধাজনক।
দখলীয় ফুটওভার ব্রিজগুলোর কারণে পথচারীদের নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়ে। লোকজন সড়ক পার হতে গিয়ে দুর্ঘটনায় পড়ে, যা’ মৃত্যু বা আহতের কারণ হয়। শহরের যানজট বাড়ে, পরিবেশ দূষিত হয় এবং শহরের সৌন্দর্য নষ্ট হয়। এছাড়া, এসব ব্রিজ অব্যবহার্য হয়ে পড়ায় সরকারের বিনিয়োগ বৃথা যায়। চট্টগ্রামের মতো অন্যান্য শহরেও একই সমস্যা দেখা যাচ্ছে, যেখানে চৌকবাজার গুলজারের মতো স্থানে ফুটব্রিজের অভাবে দুর্ঘটনা ঘটে।
এ সমস্যা সমাধানের জন্যে যেসব পদক্ষেপ নেয়া যেতে পারে: অবৈধ দখলকারীদের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান চালিয়ে ব্রিজগুলো পরিষ্কার রাখা। নিয়মিত পরিদর্শন এবং মেরামত, এসকেলেটর সচল রাখা। গণমাধ্যম এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচারণা চালিয়ে পথচারীদের ব্রিজ ব্যবহারে উৎসাহিত করা। পুরনো ব্রিজগুলো এসকেলেটর এবং লিফট দিয়ে প্রতিস্থাপন করা। ফেরিওয়ালাদের জন্যে নির্দিষ্ট স্থান বরাদ্দ করে দখল কমানো।
দখলে থাকা ফুটওভার ব্রিজগুলো শহরের নিরাপত্তা এবং উন্নয়নের পথে বড় বাধা। সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এই সমস্যা সমাধান করে আমরা একটি নিরাপদ এবং সুন্দর শহর গড়ে তুলতে পারি। সচেতনতা এবং কর্মের মাধ্যমে পরিবর্তন সম্ভব।
বুধবার, ২২ অক্টোবর ২০২৫













