মা ইলিশ রক্ষায় কঠোর অভিযান: নদী ও জীবিকার সুরক্ষায় আমাদের দায়িত্ব

সম্পাদকীয়

প্রিয় সময়ে ‘মতলব উত্তরে দুই দিনে ৫০ হাজার মিটার কারেন্ট জাল জব্দ’ শিরোনামে সংবাদটি আবারো চাঁদপুরবাসীকে হতবাক করেছে। অবাধ্য জেলেরা বিধিনিষেধ অমান্য আবারো নদীতে মা ইলিশ ধরতে নদীতে জাল ফেলেছে। এ ধরনের অবাধ্যতায় তাদেরকে আরো কঠোরভাবে আইনের আওতায় আনা উচিত। প্রকাশিত সংবাদের মাধ্যমে আমরা জানতে পেরেছি, চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলায় মেঘনা নদীতে টানা দু’দিনে মোট ৫০ হাজার মিটার অবৈধ কারেন্ট জাল জব্দ ও ধ্বংস করা হয়েছে, এ সংবাদটি যেমন উদ্বেগজনক, তেমনি আশার আলোও জাগায়। কারণ এটি প্রমাণ করে যে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মা ইলিশ সংরক্ষণে সক্রিয়ভাবে কাজ করছে।

আমরা জানি, ইলিশ বাংলাদেশের জাতীয় মাছ। এটি শুধু আমাদের গর্বই নয়, নদীকেন্দ্রিক জীববৈচিত্র্য ও লক্ষাধিক মানুষের জীবিকার অবিচ্ছেদ্য অংশ। প্রতি বছর ইলিশের প্রজনন মৌসুমে সরকার নির্দিষ্ট সময়ের জন্যে মাছ ধরা, পরিবহন, মজুত ও বিক্রয় নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। কিন্তু কিছু অসাধু জেলে ও ব্যবসায়ী অবৈধভাবে কারেন্ট জাল ব্যবহার করে মা ইলিশ নিধন করে যাচ্ছে, যা’ ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যে ভয়াবহ সঙ্কট সৃষ্টি করছে। কারেন্ট জাল এতো সূ² যে এতে ছোট মাছ ও পোনা পর্যন্ত রক্ষা পায় না। এর ফলে প্রাকৃতিক প্রজনন চক্র নষ্ট হয়, নদীর ভারসাম্য নষ্ট হয়, এবং কয়েক বছরের মধ্যেই ইলিশ উৎপাদনে মারাত্মক ধস নামে। তাই এ জাল ব্যবহারের বিরুদ্ধে কঠোর আইন প্রয়োগ ও নিয়মিত অভিযান চালানো সময়ের দাবি।

আমরা নাগরিক হিসেবে এ প্রচেষ্টাকে শুধু দেখেই নয়, সহযোগিতা করেও সফল করতে পারি। অবৈধ জাল ব্যবহারের তথ্য প্রশাসনকে জানিয়ে তাদের সহযোগিতা করতে পারি। নিষিদ্ধ মৌসুমে ইলিশ ক্রয়-বিক্রয় থেকে বিরত থাকলে জেলেরা হতাশ হবে ও নিরুৎসাহ পাবে। পাশাপাশি জনসচেতনতা বাড়াতে আশেপাশের মানুষকে উদ্বুদ্ধ করতে পারি। মা ইলিশ রক্ষা মানে দেশের খাদ্য নিরাপত্তা রক্ষা। এ নদী আমাদের জীবনের অংশÑতাকে বাঁচাতে হলে সবাইকে একসাথে কাজ করতে হবে। প্রশাসনের পাশাপাশি জনগণের সহযোগিতাই হতে পারে প্রকৃত পরিবর্তনের চাবিকাঠি।

মঙ্গলবার, ২১ অক্টোবর ২০২৫

ডায়াবেট্সি হলে কি করবেন?

শেয়ার করুন
প্রিয় সময় ও চাঁদপুর রিপোর্ট মিডিয়া লিমিটেড

You might like

About the Author: priyoshomoy