

সম্পাদকীয়:
প্রিয় সময়ে ‘মতলব উত্তরে আলু বপনে ব্যস্ত কৃষকরা, ভালো দামের আশায় অপেক্ষা’ প্রকাশিত সংবাদটি কৃষির সবজি চাষের মধ্যে গুরুত্ববহ ‘আলু’র বিষয়ে আমরা জানতে পেরেছি। সত্যিকারে ‘আলু’ সব তরকারিতে মিশেল ও তরকারিকে স্বাদযুক্ত করে। কেননা আলু ছাড়া রাধুনীদের সবজির তরকারি চিন্তাও করা যায় না। চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলায় শীতের শুরুতেই মাঠজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে আগাম জাতের আলু বপনের উৎসব। কৃষকরা বর্তমান বাজারের কম দামের মুখোমুখি হলেও ভালো মূল্যের আশায় মাঠে নেমেছেন। এ দৃশ্য কৃষক সম্প্রদায়ের অদম্য আশাবাদের প্রতীক। উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্যমতে, চলতি মৌসুমে ৫৯৫ হেক্টর জমিতে আলু চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারিত হয়েছে। ইতোমধ্যে উঁচু জমি, নদীর তীরবর্তী এলাকা ও চরাঞ্চলে বীজ বপন শুরু হয়েছে। ডিসেম্বর থেকে জানুয়ারি মধ্যদিয়ে চলবে এ রোপণ কার্যক্রম।

মতলব উত্তরের অধিকাংশ জমি উঁচু হওয়ায় আগাম আলু চাষ এখানে সম্ভাবনাময়। শীতের শুরুতেই বপন করলে দু’মাসের মধ্যে ফসল বাজারজাত হয়, ফলে তুলনামূলক ভালো দাম পাওয়া যায়। বোরচর এলাকার কৃষক আমান উল্ল্যা ১২ একর ২৫ শতাংশ জমিতে আলু লাগিয়েছেন। তিনি বলেন, এ মাটি আলু চাষের জন্যে উপযোগী হওয়ায় কৃষকরা অন্য ফসলের চেয়ে আলুতে বেশি ঝুঁকছেন। গত বছর অতিরিক্ত বৃষ্টিতে ক্ষতি হয়েছিলো, তবে এবার আবহাওয়া অনুক‚লে থাকলে ভালো লাভের আশা করছেন। চরাঞ্চলের কৃষক আলী আজ্জম মাষ্টার, আলমগীর বেপারী ও ওয়াসিম বেপারীও বলছেন, আগাম চাষে শ্রম বেশি হলেও প্রথম বাজারে বিক্রি করতে পারলে লাভ হয় বেশি। তাই সময়ের সাথে পাল্লা দিয়ে মাঠে কাজ করছেন।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ফয়সাল মোহাম্মদ আলী জানান, আলু চাষ এ এলাকায় অত্যন্ত লাভজনক। কৃষকরা এখন স্বাবলম্বী। উৎপাদন বৃদ্ধি ও রোগবালাই ব্যবস্থাপনায় মাঠ পর্যায়ে সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। প্রশিক্ষণ, বীজ সংগ্রহে পরামর্শ, সুষম সার প্রয়োগ, কীটনাশক ব্যবস্থাপনা ও আধুনিক প্রযুক্তির দিকনির্দেশনা চলছে নিয়মিত। আবহাওয়া অনুক‚লে থাকলে বাম্পার উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে। কৃষকদের এ উদ্যোগ দেশের কৃষি অর্থনীতির জন্যে উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। তবে সরকারি সহায়তা আরো বাড়ানো দরকার বীজ, সার ও বাজার সংযোগ নিশ্চিত করতে। আলু চাষের মাধ্যমে কৃষকরা শুধু লাভ নয়, খাদ্য নিরাপত্তাও নিশ্চিত করবেন। শীত শেষে ঘরে উঠুক লাভের ফসল এমনটাই আশা করি।
শনিবার, ১৩ ডিসেম্বর ২০২৫















