পুষ্পিত রাধিকা ও এক ধর্মহীন বালক

যুবক অনার্য

তারপর আমি লিখতে শুরু করি – যান্ত্রিক জটাজালে পুড়ে গেছে আমাদের অতিন্দ্রীয় মেঘ। তবুও চলছে একটানা বৃষ্টির ডামাডোল। বেদনা বিদেয় হল তবু কেঁদেই চলেছে কে এক পড়শি বাড়ির পারুল যার চোখ দেখে মনে হয়েছিলো পুষ্পিত রাধিকা কিংবা রাধা যাকে তার সুজনের কাছ থেকে ছিনিয়ে নিতে চায় তাবৎ প্রেমিকেরা যাদের মুখ আর মুখোশের কাছে হেরে গেছে প্রকৃত প্রেম – ভালোবাসা সেইহেতু আপাতত হে বিভাবরি তোমার কথা বলি

– ভরা মরশুমে ভরা যমুনার মতো তোমার যৌবন আজ কোথায় দাঁড়াবে বলো কেননা এই যে তল্লাট যে-তল্লাটে প্রতিজন বিশেষ অঙ্গের ঐতিহাসিক প্রথাচারে লেপ্টে রেখেছিলো দাসপ্রথা যেখানে দাসীর কৌমার্যের দোহাই দিয়ে ক্রীতদাসকে খোজা করে রাখাই ছিলো রাজাদের প্রাত্যহিকী কামনা বাসনার হো হো অট্টহাসির গোপন সারগাম আর সেই রাণীগণ যারা ছিলো পুতুলের মতো অদ্ভুত যেনো শোকেসে সাজিয়ে রাখা প্লাস্টিক মানবী কোনো- এসব ইতিহাস পুনরায় বলে আমি করছি কি রাষ্ট্রদ্রোহীতার পুরাতন পাপ! পাপ

– বস্তুত যে শব্দটি রাষ্ট্রযন্ত্রের মতন শোষণ যন্ত্র এক, তাই আমি চিরদিন থেকে গেছি এ সকল রাষ্ট্রায়াত্ব-শব্দের বিপরীতে যেভাবে আমাকে থেকে যেতে হয়েছিলো পুষ্পিত রাধিকার কাছে দ্বিতীয় পুরুষের যন্ত্রণা মেনে নিয়ে হাতে – ‘বুকে’ উচ্চারণ না করে হাতের প্রসংগ এলো যেহেতু এই হাতে হাত রেখে রাধিকা কেঁদেছিলো খুব আর আমি তার কান্না ধুতে গিয়ে দেখি – তার চোখে ছিলো কুমিরের জল

– একদিন তারপর বহুদিন চলে গেলে রাধিকা – সে-বুঝে নিতে পেরেছিলো এমতো জল জলসায় আমি মোটেই প্রাসঙ্গিক কোনো পটভুমি নই। হে রাবণ হে সীতা হে রাম আর হনুমান তোমরাই বলো – আমি বাল্মিকী কিংবা রামায়ণ বহির্ভুত বলে আমাকে কেবলি থেকে যেতে হবে নমঃ – শুদ্রের ভূমিকায় বুঝি চিরদিন! জেনে নাও তবে -জগতের তাবৎ ব্রাহ্মণ্য প্রথা ভেঙে দিয়ে আমি কেবলি ধর্মহীন বালক কিংবা মানুষ হতে চেয়েছিলাম!

প্রকাশিত : বুধবার, ১৪ জানুয়ারি ২০২৬ খ্রি.

ডায়াবেট্সি হলে কি করবেন?

শেয়ার করুন
প্রিয় সময়-চাঁদপুর রিপোর্ট মিডিয়া লিমিটেড.

You might like

About the Author: priyoshomoy