

সম্পাদকীয়
একটি অঞ্চলের সমাজগঠন, সংস্কৃতির বিকাশ এবং মুক্তবুদ্ধির চর্চায় সংবাদপত্রের ভূমিকা অনস্বীকার্য। আর সেই সংবাদপত্রের হাত ধরে যিনি একটি পুরো জনপদের আধুনিক সাংবাদিকতার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন, তিনি কেবল একজন সম্পাদক নন, বরং একটি জীবন্ত কিংবদন্তি প্রতিষ্ঠান।
চাঁদপুর জেলার সাংবাদিকতা ও সামাজিক অঙ্গনের তেমনই এক প্রবাদপ্রতিম ব্যক্তিত্ব রোটারিয়ান কাজী শাহাদাত। সম্প্রতি চাঁদপুর জেলা সদর থেকে প্রকাশিত পাঠক সমাদৃত ও বহুল প্রচারিত পত্রিকা ‘দৈনিক চাঁদপুর প্রবাহ’-এর গৌরবময় অগ্রযাত্রার ২৫ বছরপূর্তি তথা রজতজয়ন্তী উৎসবে তাঁকে ‘রজতজয়ন্তী আজীবন সম্মাননা’য় ভূষিত করা হয়েছে। এই সম্মাননা কাজী শাহাদাতের অনন্য ও অবিস্মরণীয় অবদানের প্রতি একটি অত্যন্ত যোগ্য স্বীকৃতি।

চাঁদপুরের স্থানীয় সংবাদপত্রের বিকাশে কাজী শাহাদাত সুদীর্ঘকাল ধরে যে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে চলেছেন, তা’ এককথায় অনন্য। চাঁদপুরের প্রথম দৈনিক পত্রিকার প্রধান সম্পাদক হিসেবে তাঁর হাত ধরেই এ অঞ্চলে আধুনিক সাংবাদিকতার সূচনা হয়েছিলো।
তাঁর বলিষ্ঠ দিকনির্দেশনায় ও স্নেহে এ অঞ্চলের বহু নিবেদিতপ্রাণ সাংবাদিকের হাতেখড়ি হয়েছে। চাঁদপুরের সাংবাদিকতা জগতে তাঁর এই অভিভাবকত্ব ও আজীবনের সাধনাকে চিরস্মরণীয় করে রাখতেই চাঁদপুর প্রবাহ কর্তৃপক্ষ তাঁদের রজতজয়ন্তী উৎসবের মূলমঞ্চে এই সর্বোচ্চ সম্মাননা স্মারক তুলে দিয়েছে, যা’ অত্যন্ত গৌরব ও আনন্দের বিষয়।
কাজী শাহাদাতের জন্যে এমন আজীবন সম্মাননা প্রাপ্তি এটিই প্রথম নয়, এটি তাঁর অনুরূপ চতুর্থ অর্জন। এর পূর্বে ২০১০ সালে জেলাব্যাপী বিতর্ক আন্দোলন ছড়িয়ে দেয়ার স্বীকৃতিস্বরূপ বাংলাদেশ ডিবেট ফেডারেশনের তৎকালীন সভাপতির হাত থেকে তিনি প্রথম আজীবন সম্মাননা লাভ করেন।
এরপর ২০২০ সালে চাঁদপুর প্রেসক্লাবের সুবর্ণজয়ন্তী অনুষ্ঠানে এবং ২০২৩ সালে শাহরাস্তি প্রেসক্লাবের পক্ষ থেকেও তাঁকে আজীবন সম্মাননা প্রদান করা হয়।
সাংবাদিকতায় ব্র্যাক মিডিয়া অ্যাওয়ার্ড এবং সাহিত্যচর্চার জন্যে জাতীয় সাহিত্য পরিষদ পদকসহ বহু জাতীয় ও স্থানীয় পুরস্কারে তিনি ভূষিত হয়েছেন, যা’ তাঁর বহুমাত্রিক প্রতিভারই পরিচয় বহন করে।

কাজী শাহাদাত শুধু সাংবাদিকতাতেই সীমাবদ্ধ থাকেননি, তিনি একজন সৃজনশীল ও সামাজিক সংগঠক। বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ সমাজসেবামূলক সংগঠন রোটারী ইন্টারন্যাশনালের আওতাভুক্ত ‘দি রোটারী ফাউন্ডেশন’-এর পল হ্যারিস ফেলো (পিএইচএফ) হওয়া এবং রোটারী জেলা ৩২৮২-এর বেস্ট লেফটেন্যান্ট গভর্নর হিসেবে পুরস্কৃত হওয়া তাঁর সামাজিক দায়বদ্ধতারই প্রমাণ।
অত্যন্ত আনন্দের বিষয় যে, তাঁর সুযোগ্য সহধর্মিণী মাহমুদা খানম এবং সন্তান কাজী আজিজুল হাকিম নাহিনও নিজ নিজ ক্ষেত্রে সামাজিক ও মানবিক কাজের মাধ্যমে চাঁদপুরের মুখ উজ্জ্বল করে চলেছেন।
একটি সমাজের সার্বিক উন্নতির জন্যে কাজী শাহাদাতের মতো গুণী ও বরেণ্য মানুষের ভীষণ প্রয়োজন। দৈনিক চাঁদপুর প্রবাহের এ মহতী উদ্যোগ চাঁদপুরের গুণীজনদের মূল্যায়নের এক অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।
কাজী শাহাদাতের এই চতুর্থ আজীবন সম্মাননা প্রাপ্তিতে আমরা তাঁর সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করি। চাঁদপুরের আধুনিক সাংবাদিকতার এ অভিভাবক তাঁর আলো ও দিকনির্দেশনা দিয়ে আমাদের সমাজকে আরও বহু বছর সমৃদ্ধ করবেন- এটাই আমাদের প্রত্যাশা।














