কুমিল্লায় ৬ লাখ টাকার মাছ চুরির অভিযোগে আদালতে মামলা

কুমিল্লা জেলা প্রতিনিধি

কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার যাত্রাপুর গ্রামে সরকারি ইজারাকৃত পুকুর থেকে দুই দফায় ৬ লাখ টাকার মাছ চুরি, বিষপ্রয়োগ এবং চাঁদা দাবি করার অভিযোগে ৩ জনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে। কুমিল্লার বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ১১নং আমলী আদালতে মামলাটি দায়ের করেন ভুক্তভোগী ইজারাদার আলাউদ্দিন মিয়া (৪৩)।

মামলায় অভিযুক্ত আসামিরা হলেন, যাত্রাপুর গ্রামের মৃত হারুন মিয়ার ছেলে দুলাল মিয়া (৫০), মৃত নেপাল চন্দ্র দাসের ছেলে অজিত চন্দ্র দাস (৪৫) এবং মৃত ইউনুছ মিয়ার ছেলে শাহাদাত হোসেন (৪৫)।

মামলার আরজি ও ইজারাদার আলাউদ্দিন মিয়া সূত্রে জানা যায়, তিনি ২০২৬-২৭ অর্থ বছরের জন্য যাত্রাপুর মৌজার ৩৪৮ খতিয়ানের ২৫৩৮ দাগের এক একরের সরকারি পুকুর বিধিমোতাবেক লিজ নেন। লিজ বাবদ তিনি ভ্যাট ও আয়করসহ সর্বমোট ৩ লাখ ৬৬ হাজার টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দেন। পরবর্তীতে পুকুরে বিপুল পরিমাণ রুই, কাতলা, মৃগেল ও সিলভার কার্পসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছের পোনা ছেড়ে পরিচর্যা করে আসছিলেন।

অভিযোগে বলা হয়, লিজ গ্রহণের পর থেকেই আসামিরা বাদীর কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিল। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে আসামিরা পুকুরের মাছ চুরি ও ক্ষতিসাধনের হুমকি দেয়। পরবর্তীতে বাদী বাড়িতে না থাকার সুযোগে আসামিরা গত ৩ আগস্ট রাতে জাল ফেলে আনুমানিক ৩ লাখ টাকা মূল্যের মাছ চুরি করে কোম্পানীগঞ্জের একটি আড়তে বিক্রি করে দেয়। এর দু’দিন পর ৫ আগস্ট রাতে আবারো একইভাবে পুকুরে জাল ফেলে আনুমানিক আরো ৩ লাখ টাকার মাছ চুরি করে হোমনার একটি আড়তে বিক্রি দেয়। আসামিরা কয়েকজন স্থানীয় জেলেকে ভাড়া করে এবং পিকআপ ও সিএনজি ব্যবহার করে রাতের আঁধারে এই মাছ পাচার করে বলে অভিযোগ করা হয়।

ঘটনার পর ৭ আগস্ট বাদী পুকুরে খাদ্য দিতে গিয়ে পানিতে বিষাক্ত ওষুধের খালি বোতল এবং কিছু মরা মাছ ভাসতে দেখেন। পরে স্থানীয়দের মাধ্যমে খোঁজ নিয়ে তিনি জানতে পারেন, দুই দফায় আসামিরা তার পুকুর থেকে প্রায় ৪০ মণেরও বেশি প্রায় ৬ লাখ টাকার মাছ চুরি পর বিক্রি করে দিয়েছে।

ভুক্তভোগী বাদী আলাউদ্দিন মিয়া জানান, ঘটনাটি নিয়ে মুরাদনগর থানায় অভিযোগ জানালে পুলিশ মামলা নেয়নি। পরবর্তীতে বাধ্য হয়ে তিনি ন্যায়বিচারের আশায় ৩০ আগষ্ট বিজ্ঞ আদালতের শরণাপন্ন হয়েছেন। আদালত মামলাটি গ্রহণ করে তদন্ত করে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ-৭ কুমিল্লাকে নির্দেশ দেয়। মামলা তুলে নিতে আসামীরা হুমকি-ধমকি দিচ্ছে। তাদের ভয়ে চরম আতংক ও উৎকন্ঠার মধ্যে দিনাতিপাত করছি।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত দুলাল মিয়া বলেন, আমাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগসমুহ সঠিক নয়। আমরা একসাথে ব্যবসা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। সে আমাদেরকে বাদ দিয়ে একক ভাবে ব্যবসা করার পায়তারা করছে। এ নিয়ে মনোমালোন্য হওয়ায় আক্রোশমূলক ভাবে আমাদেরকে হয়রানি করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। তবে তিনি কোন প্রকার কাগজপত্র দেখাতে পারেননি।

ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ-৭ কুমিল্লার ওসি নিজাম উদ্দিন পিপিএম জানায়, বিষযটি তদন্তসাপেক্ষে আদালতের নির্দেশ বাস্তবায়ন করা হবে।

প্রকাশিত :  ‍মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

You might like