

ফরিদগঞ্জ (চাঁদপুর) সংবাদদাতা:
উপজেলাধীন ফরিদগঞ্জ পৌরসভার কেরোয়া গ্রামের উত্তরের নামার চরে শুক্র ও শনিবার ৫০ লাখ টাকার মাছ মরাসহ গত ১৫দিনে কমপক্ষে ২ কোটি টাকার মাছ মরে দিশেহারা মৎস্য চাষী। কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে চরের প্রায় সব মাছ মরে যাওয়ায় চাষি হানিফ ভূঁইয়া ৫০ লাখ টাকা ক্ষতি হয়েছে।
এর আগে মটকির চরের চাষী আ: রব, চরগুদাড়া দক্ষিণ অংশের চাষী সোহেল হামিদ, চরগুদাড়া গজারিয়া অংশের চাষী নাজিমউদ্দিন ভূঁইয়ার প্রায় দেড় কোটি টাকার মাছ মরে নিরুপায় হয়ে পড়েছে।

শুক্রবার (২৮ আগস্ট) শনিবার (২৯ আগষ্ট) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট শত শত মানুষ চরে নেমে মাছ ধরতে শুরু করেন। এ সময় সেখানে মাছ ধরতে প্রায় এক হাজার মানুষ জড়ো হয়।
শনিবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, মাছের প্রজেক্টগুলোর (চরের) পানিতে তেলাপিয়া, কার্ফু ,রুই, কাতল, মৃগেলসহ বিভিন্ন প্রজাতির শত শত চাষকৃত মাছ মরে ভেসে থাকতে। পঁচা মাছের দুর্গন্ধ ছড়িয়ে এলাকার পরিবেশ বিষভাষ্পে পরিণত হয়ে পড়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা তারেক , শামীম, মানিক ও টিপু বলেন, সকালে হঠাৎ জানতে পারেন হানিফ ভূঁইয়ার চরে মাছ মারা যাচ্ছে।
পরে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখতে পান, বিপুলসংখ্যক মাছ পানিতে ভেসে আছে। খবর পেয়ে এলাকার প্রায় এক হাজার মানুষ মাছ ধরতে আসে।
মৎস্য চাষি হানিফ ভূঁইয়া, আঃ রব, সোহেল হামিদ, নাজিদউদ্দিনের প্রায় দু’কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। ওষুধ ছিটিয়ে ও অক্সিজেন সঞ্চালন করেও মাছগুলো বাচাঁনো সম্ভব হয়নি।
গত দু’দিনসহ ১৫দিনে মাছ মরার কারণে আমাদের প্রায় ২ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। আমরা ধার-দেনা করে মাছ চাষ করে এখন নিরুপায় হয়ে পড়েছি।
উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা বেলায়েত হোসেন বলেন, অতি বৃষ্টি বা অতি গরমের মধ্যে মাছকে খাবার দেওয়ার কারণে অক্সিজেন সংকটে মাছ মরার ধারণা করা যাচ্ছে। আমরা মৎস্য চাষির সাথে যোগাযোগ করে জানতে চেষ্টা করবো কি কারণে এত বিপুল পরিমাণ মাছ মরছে।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সেটু কুমার বড়ুয়া জানান, তাৎক্ষণিক মৎস্য কর্মকর্তাকে বলেছি, করণীয় ঠিক করে মাছ মরার প্রকৃত কারণ উৎঘাটন করতে।
প্রকাশিত : শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬

















