

ফরিদগঞ্জ (চাঁদপুর) সংবাদদাতা:
যে সংসারে ছিল শান্তি আর স্বপ্ন, আত্মত্যাগ, সেখানে এখন আস্থাহীনতা আর আইনি জটিলতা। চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জের গোবিন্দপুর দক্ষিণ ইউনিয়নের পশ্চিম লাড়ুয়া গ্রাম। সেখানে বসবাস করেন দিনমজুর বাবুল মিয়া শেখ।
সংসারের বড় ছেলে মাসুদ হোসেনকে স্বাবলম্বী করার স্বপ্নে নিজের জমি-জমা বিক্রি ও ধার-দেনা করে তাঁকে দুবাই প্রবাসে পাঠান এই বাবা। প্রবাসে থেকে মাসুদ স্বাবলম্বী হয়েছেন ঠিকই, কিন্তু শোধ করেননি বাবার করা ধার-দেনা, ধরেননি পরিবারের হালও। ক্ষীপ্ত হয়ে বৃদ্ধ বাবা তাঁর ছোট ছেলের কাছে বাকি সম্পত্তি বিক্রি করে দেন। ছোট ছেলে সেই সম্পত্তি দখলে নেওয়ায় বন্ধ হয়ে যায় দুবাই প্রবাসী মাসুদের সন্তানদের টয়লেটে যাতায়াতের পথ।

এই নিয়ে বাড়িতে শুরু হয় পারিবারিক দ্বন্দ্ব। পিতা-পুত্রের দ্বন্দ্বে যেন ঘি ঢালছে স্থানীয় একটি ‘মামলা-বাণিজ্যকারী চক্র’। মনগড়া গল্প রচনা করে ঘটনাস্থল বসত বাড়িতে দেখিয়ে দূর দূরান্ত থেকে স্বাক্ষীদের নাম দিয়ে বৃদ্ধ শ^শুর, কলেজ পড়ুয়া ভাগনে ও ভগ্নিপতির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে বড় ছেলে মাসুদ হোসেনের স্ত্রী ভুক্তভোগীর পুত্র বধূ রুমা আক্তার। মামলাটিকে সাজানো বলে স্থানীয় এলাকা জুড়ে আলোচনা-সমালোচনা চলছে। ভুক্তভোগী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবী মামলাটিকে উদ্দেশ্য হাচিলের চাবি হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। সঠিক তদন্তের মাধ্যমে মামলা বাণিজ্যের চক্রসহ সকল অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা হোক।
ভুক্তভোগী বৃদ্ধ বাবুল মিয়া শেখ বলেন, অনেক স্বপ্ন নিয়ে ধার-দেনা ও জমি বিক্রয় করে বড় ছেলেকে বিদেশ পাঠিয়েছি। এখন আমার বড় ছেলে ও তার বউয়ের কারণে সাজানো সংসারটা ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। তাঁর ধার-দেনা মেটাতে ছোট ছেলের কাছে জমি বিক্রি করেছি। ছোট ছেলে তার দখল বুঝে নিয়েছে। আমার বাড়িতে কোন মারামারির ঘটনা ঘটেনি, কিন্তু ভুয়া সাক্ষী ব্যবহার করে আমাদের নামে মামলা দেয়া হয়েছে। আমরা উচিত বিচার চাই।
এদিকে মামলাটির বাদী মাসুদের স্ত্রী রুমা আক্তার বলেন, আমি এবং আমার স্বামী ভুল করেছে, এতে আমার শিশু বাচ্চাদের দোষ কোথায়। জমি আমার দেবরের কাছে বিক্রয় করে দেয়ায় তারা আমাদের টয়লেটে যাতায়াতের পথটিও বন্ধ করে দেয়। আমরা অন্যদের টয়লেট ব্যবহার করতে হয়। মামলার বিষয়ে তিনি বলেন, আগের দিন বিকেলে বাড়িতে ঝগড়া হয়েছে, পরদিন ফোনে হারুন মামাকে ডেকে এনে সাক্ষী হিসেবে নাম ব্যবহার করেছি। তিনি আমাদের সব জানেন।
স্থানীয়বাসিন্দা আবুল খায়েরসহ আরো অনেকেই বলেন, ঘটনাস্থলে বাড়িতে মারধরের কোনো ঘটনাই ঘটেনি। দূর-দূরান্তের মানুষের নাম ব্যবহার করে সাজানো মামলা করা হয়েছে। এখানে আইন-আদালতকে উদ্দেশ্যহাসিলের টোপ হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।
স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. মামুন হোসেন বলেন, বাড়িতে কোনো মারামারির ঘটনা ঘটেনি, কিন্তু হাসপাতালের চিকিৎসা সনদ কোথা থেকে এলো, আবার মামলাও হলো এমন নেক্কারজনক ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিচার হওয়া প্রয়োজন।
প্রকাশিত : শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬

















