

সম্পাদকীয়
সড়ক পরিবহন খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এবং ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা জোরদার করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) একটি অত্যন্ত সময়োপযোগী ও গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। সাম্প্রতিক এক গণবিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, এখন থেকে মোটরসাইকেলের পেছনের ডিজিটাল নম্বরপ্লেটের পাশাপাশি সামনের দিকেও বাধ্যতামূলকভাবে নম্বরপ্লেট লাগাতে হবে। মালিকদের নিজ উদ্যোগে আগামী ১৫ নভেম্বরের মধ্যে এই নির্দেশনা বাস্তবায়ন করতে বলা হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তা না মানলে আইনি ব্যবস্থা নেয়ার হুঁশিয়ারিও দেয়া হয়েছে।
আমাদের দেশে দীর্ঘদিন ধরে মোটরসাইকেলের শুধু পেছনের অংশে নম্বরপ্লেট লাগানোর নিয়ম চালু ছিল। কিন্তু বর্তমান সময়ে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন সড়কে মোটরসাইকেলের সংখ্যা বহুগুণ বেড়েছে। পাশাপাশি অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে কিংবা ট্রাফিক আইন অমান্য করে পালিয়ে যাওয়ার সময় মোটরসাইকেল শনাক্ত করা কঠিন হয়ে দাঁড়ায়, কারণ কেবল পেছন থেকে চলন্ত গাড়ির নম্বরপ্লেট পড়া বা ক্যামেরায় ধারণ করা সব সময় সম্ভব হয় না। ট্রাফিক নজরদারি ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এই ব্যবধান দূর করা অত্যন্ত জরুরি ছিল। বিআরটিএ-এর এই নতুন পদক্ষেপের ফলে সড়কে নজরদারি যেমন আরো কার্যকর হবে, তেমনি অপরাধ রোধেও বড় ধরনের সহায়তা মিলবে।

নতুন নির্দেশনায় নম্বরপ্লেটের আকার, উপাদান ও রঙের বিষয়ে স্পষ্ট রূপরেখা দেয়া হয়েছে। স্টেইনলেস স্টিল বা অ্যালুমিনিয়ামের তৈরি সাদা পটভূমির ওপর কালো রঙে বাংলা অক্ষর ও সংখ্যা দিয়ে এই ম্যানুয়াল প্লেট তৈরি করতে হবে। স্কুটার এবং সাধারণ মোটরসাইকেলের জন্য মাপ আলাদা নির্ধারণ করে দেয়াতে চালকদের জন্য এটি স্থাপন করা আরো সহজ হবে। এছাড়া প্লেটে কোনো ধরনের বাড়তি সাজসজ্জা বা নকশা নিষিদ্ধ করার ফলে নম্বরপ্লেটের দৃশ্যমানতা ও গ্রহণযোগ্যতা উভয়ই নিশ্চিত হবে।
তবে যেকোনো নতুন নিয়ম বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে জনসচেতনতা এবং এর সহজলভ্যতা নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ১৫ নভেম্বরের সংক্ষিপ্ত সময়সীমার মধ্যে দেশের কোটি কোটি মোটরসাইকেল মালিক যেন কোনো ধরনের ভোগান্তি ছাড়া এই প্লেট সংযোজন করতে পারেন, সে বিষয়ে বিআরটিএ ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। একই সঙ্গে এই নির্দেশনার অপব্যবহার বা অতিরিক্ত আয়ের সুযোগ যেন কেউ নিতে না পারে, সেদিকেও নজর রাখা প্রয়োজন।
সড়ক দুর্ঘটনা ও অপরাধ প্রবণতা কমাতে ট্রাফিক আইনের কঠোর প্রয়োগের বিকল্প নেই। বিআরটিএ-এর এই নির্দেশনা শুধু একটি আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং এটি আমাদের সামগ্রিক সড়ক নিরাপত্তাকে আরো সুদৃঢ় করার একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। একটি নিরাপদ ও শৃঙ্খলিত ট্রাফিক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সকল মোটরসাইকেল মালিক নিজ দায়িত্ববোধ থেকে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই এই নির্দেশনা মেনে চলবেন—এটাই আমাদের প্রত্যাশা।
প্রকাশিত: শুক্র বার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬ খ্রি.












