

সম্পাদকীয় …
আবারও শুরু হয়েছে আগুন সন্ত্রাস। আগুনের লেলিহান দাবানল জ্বলে উঠেছে রাজধানীর ৯টি স্থানে, বাসে। এ আগুনে পুড়েছে ৮টি বাস। সাথে সাথে মানুষের স্বপ্নও পুড়েছে। মানুষের আশা-ভরসাও পুড়েছে। মানুষ ভীত হয়ে এ আগুন থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য পালিয়েছে। ১২ নভেম্বর (বৃহস্পতিবার) রাজধানীর অন্তত ৯ স্থানে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় শুক্রবার দুপুর পর্যন্ত দেড় শতাধিক ব্যক্তিকে আসামি করে মোট ৮টি মামলা করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৮ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
শুক্রবার দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) মো. ওয়ালিদ হোসেন জানান, বৃহস্পতিবার বাসে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় মতিঝিল, শাহবাগ ও পল্টনসহ মোট ৫ থানায় ৮টি মামলা করা হয়েছে। এসব মামলায় আসামি দেড় শতাধিক। ইতোমধ্যে আসামিদের ১৮ জনকে গ্রফতার করা হয়েছে। গ্রেফতারদের অধিকাংশই রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী। তিনি আরও বলেন, ঘটনাস্থলের ফুটেজ সংগ্রহ করে জড়িতদের শনাক্ত এবং তাদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

এর আগে ঢাকা মহানগর পুলিশের ক্রাইম কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল সেন্টার সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টা ৫ মিনিটে পল্টন থানাধীন বিএনপি পার্টি অফিসের উত্তর পাশে কর অঞ্চল ১৫-তে পার্কিং করা সরকারি গাড়িতে (ঢাকা-মেট্রো-জ-১১-০৪৭৪) অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। দুপুর ১টার দিকে মতিঝিল থানাধীন মধুমিতা সিনেমা হলের সামনে অগ্রণী ব্যাংকের স্টাফ বাস (ঢাকা-মেট্রো-ব-১১-৭৫১৫), ১টা ২৫ মিনিটে রমনা হোটেলের সামনে চলন্ত গাড়ি (ঢাকা-মেট্রো-গ-১৫-০৫৮৯) ভিক্টর ক্লাসিক পরিবহনে, শাহবাগ আজিজ সুপার মার্কেটের সামনে দেড়টার দিকে দেওয়ান পরিবহন (ঢাকা-মেট্রো-ঘ-১৩-১৫৭২), ২টা ১০ মিনিটে বাংলাদেশ সচিবালয়ের উত্তর পাশে রজনীগন্ধা পরিবহন (ঢাকা-মেট্রো-ব-১২-০৬৪৪) এবং বংশাল থানাধীন নয়াবাজার এলাকায় দুপুর ২টা ২৫ মিনিটে দিশারী পরিবহনে (ঢাকা-মেট্রো-ব-১১- ৯২৫৫) অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে।
এদিন দুপুর ২টা ৪৫ মিনিটে পল্টন থানাধীন এলাকায় জৈনপুরী পরিবহন (চট্ট-মেট্রো-জ-১১-০৭১৮), ৩ টায় মতিঝিল থানাধীন পূবালী পেট্রল পাম্প সংলগ্ন দোতলা বিআরটিসি বাসে (ঢাকা-মেট্রো-ব-১৫-৫০০১), ভাটারা থানাধীন কোকাকোলা মোড়ে ভিক্টর ক্ল্যাসিক পরিবহনে (ঢাকা-মেট্রো-ব-১৫-৫৩২৫) দুষ্কৃতকারীরা আগুন দেয়।
ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের চেষ্টায় এসব বাসের আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। বেশিরভাগ গাড়ির অধিকাংশ পুড়ে যায় এবং ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তাৎক্ষণিকভাবে থানা পুলিশের মোবাইল টিম এবং সিনিয়র অফিসাররা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। বাসে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় কোনো হতাহতের সংবাদ পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশনস বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) মো. ওয়ালিদ হোসেন বলেন, ‘নিঃসন্দেহে সহিংসতার উদ্দেশেই পার্কিং করা সরকারি যানবাহনে এবং রাস্তায় চলমান গণপরিবহনে অগ্নিসংযোগ করা রয়েছে।’
একটি রাষ্ট্রে এভাবে হঠাৎ করে অস্থিতিশীলতা তৈরি করা মোটেও সমীচিন নয়, সেটা যে-ই হোক। রাজনীতি মানুষের মঙ্গলের জন্যে, মানুষের ক্ষতি বা রাষ্ট্রীয় ক্ষতির জন্যে নয়। আমাদেরকে মনে রাখতে হবে, রাষ্ট্রীয় সম্পদ নষ্ট করা, পুড়িয়ে দেওয়া, সহিংসতা তৈরি করা কোনো দেশপ্রেমিকের কাজ নয়। আর যাদের বুকে দেশপ্রেম নেই, তারা রাজনীতিবিদ হতে পারে না। তাই আমাদেরকে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে এসব অনাকাঙ্খিত কাজ থেকে বিরত থাকতে হবে।
আমরা খবরের বস্তুনিষ্ঠতায় বিশ্বাসী, সঠিক সংবাদ পরিবেশনই আমাদের বৈশিষ্ট্য
আপডেট সময় : ০৩:৪০ পিএম
১৩ নভেম্বর ২০২০ খ্রি. ২৮ কার্তিক ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ২৬ রবিউল আউয়াল ১৪৪২ হিজরি, শুক্রবার





