
সম্পাদকীয় …
পৃথিবীকে রক্ষার জন্যে আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম শিশুদের রক্ষা করতে হবে। আর সেজন্যে শিশুদের মস্তিষ্কে যদি পরিবেশ রক্ষার উপায় ঢুকিয়ে দেয়া যায়, তাহলে আগামীর পৃথিবীর পরিবেশ হবে আরো উন্নত ও সুরক্ষিত। পৃথিবী হবে বসবাসের উপযোগী।
এমনিতেই আমরা পরিবেশ রক্ষায় খুবই দুর্বল। আমরা পরিবেশকে বিভিন্নভাবে নষ্ট করে ফেলছি। আমাদের পরিবেশ হয়ে যাচ্ছে দিনে দিনে দুষিত। আর পরিবেশকে রক্ষার জন্যে আমাদের সকলকেই এগিয়ে আসা উচিত। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে আমাদের পরিবেশের অনেক ক্ষতি হচ্ছে। যদি দ্রুতই জেগে না উঠি তাহলে পৃথিবী বসবাসের অযোগ্য হয়ে যাবে। যদি আমরা প্রতি মৌসুমে প্রত্যেকে তিনটি করে গাছ লাগাই; দেখা যাবে পরিবেশ ও জীববৈচিত্রের মাঝে একটা ব্যালান্স স্থাপন হবে। তাহলে আগামী প্রজন্মের জন্যে রেখে যেতে পারবো বেঁচে থাকার উপযুক্ত পরিবেশ। তাই আমাদের উচিত হবে একটি গাছ কাটলে কম করে হলেও তিনটি গাছ লাগানো। যদি আমরা বনায়নে আগ্রহী হই, তাহলে আগামী প্রজন্মের জন্যে বাসযোগ্য পরিবেশ গড়ে তোলা সম্ভব হবে।

প্রিয় সময়ে ‘কুমিল্লায় টিফিনের টাকায় গাছের চারা বিতরণ’ শিরোনামে প্রকাশিত সংবাদের মাধ্যমে আমরা জানতে পেরেছি পৃথিবীকে রক্ষার জন্যে এ প্রজন্মের সন্তানরা এগিয়ে আসছে। এক হাতে গাছের চারা, অন্য হাতে লাল কার্ড নিয়ে বাল্যবিয়ে ও ধর্ষণকে লাল কার্ড প্রদর্শন করে সবুজ বাংলা গড়ার শপথ নিয়েছে একদল শিক্ষার্থী। স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন লাল সবুজ উন্নয়ন সংঘের উদ্যোগে কুমিল্লার বুড়িচংয়ে বিশেষ কর্মসূচি পালন করে শিক্ষার্থীরা। তখন গাছের চারা রোপণ করে কর্মসূচির উদ্বোধন করেন বুড়িচং থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মোহাম্মদ মাসুদ খান। সেই সাথে সবচেয়ে বড় আকর্ষণীয় ও উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, শিক্ষার্থীদের টিফিনের টাকায় পরিচালিত লাল সবুজ উন্নয়ন সংঘের সদস্যরা টিফিনের টাকায় গাছ কিনে শিক্ষার্থী ও পথচারীদের মধ্যে বিতরণ করেন। বিষয়টি দৃষ্টি কেড়েছে সকলের। আরো আকর্ষণীয় বিষয় ছিলো, শিক্ষার্থীরা গাছের চারা হাতে নিয়ে মাদক, বাল্যবিয়ে ও ধর্ষণকে লাল কার্ড প্রদর্শন করে সবুজ বাংলা গড়ার শপথ নেয় ও এর মধ্য দিয়ে সকলকে উৎসাহিত করেছে।
আমরা জানি, পৃথিবীর মানুষের বেঁচে থাকার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হলো অক্সিজেন, যার সবটাই জোগান দিয়ে থাকে বৃক্ষ। অথচ আমরা বৃক্ষকে রক্ষা করতে পারছি না। আমরা নির্বিচারে বৃক্ষ নিধন করে চলেছি। খাদ্য, বস্ত্র, আশ্রয়, স্বাস্থ্য ও আসবাবপত্র থেকে শুরু করে প্রায় সব ক্ষেত্রেই বৃক্ষ আমাদের পরম বন্ধুর মতো সাহায্য করে। অপরদিকে তার সৌন্দর্যে আমাদের হƒদয় আপ্লুত হয়। আবার বৃক্ষ থেকে ফুল, ফল, ছাল, কাঠ প্রভৃতি সরবরাহ করে আমরা প্রতিনিয়তই পূরণ করছি নানা চাহিদা। অর্থাৎ বাসস্থান থেকে শুরু করে ওষুধ তৈরি এবং অক্সিজেন সরবরাহ পর্যন্ত বৃক্ষের অবদান রয়েছে।
একবিংশ শতাবন্দী ছুঁই ছুঁই করছি। অথচ আমরা পৃথিবীর অস্তিত্ব রক্ষা করতে পারছি না, সবুজ-শ্যামল পৃথিবীর অস্তিত্ব আজ বিপন্ন। বিষাক্ত গ্যাসের কবলে পৃথিবীর বাতাস হয়ে উঠেছে ভারী এবং প্রাণীর জীবনকে তা করে তুলছে দুর্বিষহ। ফলে নিজেদের বেঁচে থাকার তাগিদে, সুন্দর ভুবনকে রক্ষা করার লক্ষ্যে, প্রাণিজগতের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার জন্যে একটি সুন্দর উপায় আবিষ্কার করেছেন, আর তা হলো ‘বৃক্ষরোপণ’।
তবে এটি একটি অনুকরণীয় ও স্মরণীয় বিষয় যে, ‘শিক্ষার্থীদের টিফিনের টাকায় পরিচালিত লাল সবুজ উন্নয়ন সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি কাওসার আলম সোহেল বলেন, তাঁরা প্রতিবছর টিফিনের টাকা বাঁচিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে এক লাখ গাছের চারা বিতরণ করেন। করোনাকালে স্কুল-কলেজ বন্ধ থাকার পরও ৫৫টি জেলায় এ পর্যন্ত প্রায় ৯০ হাজার ৩৫০ গাছের চারা বিতরণ করা হয়েছে।’ সংগঠনের কার্যক্রমের মাধ্যমে সবুজের ছোঁয়া পেয়েছে চারিদিকে। আমরা মনে করি, এর মাধ্যমে অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানও উৎসাহিত হবে এবং এগিয়ে আসবে পরিবেশ রক্ষায় প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। সেই সাথে তাদের পথ অনুসরণ করবে সমাজের সকল স্তরের মানুষজন। আমরা চাই, গাছের চারা রোপণ করে জীববৈচিত্র্য রক্ষায় আমাদের সকলেরই এগিয়ে আসা উচিত।
বৃক্ষ মায়ের মতো আমাদের আগলে রাখে পরিবেশকে। বৃক্ষ দুর্যোগ ব প্রাকৃতিক সৃষ্ট বিভিন্ন সমস্যা থেকে পরিবেশ রক্ষা করে। যার উদাহরণ আমরা দেখেছি, সিডর, বুলবুল, আইলা, সবশেষে আমফাম। তাছাড়া যুগ যুগ হতে চলেছে, বৃক্ষ খরা, জলোচ্ছ্বাস, ভূমিকম্প, সাইক্লোন প্রভৃতি ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যকে রক্ষা করে আসছে। অতএব, বৃক্ষের প্রতি আমাদের সকলেরই মনোযোগী হওয়া উচিত।
শিক্ষার্থীরা টিফিনের টাকা বাঁচিয়ে পরিবেশ রক্ষায় এগিয়ে এসেছে। সুতরাং আমাদের সকলেরই তাদের থেকে সচেতনতা শিক্ষা গ্রহণ করা উচিত। আমাদের এগিয়ে আসা উচিত পরিবেশ রক্ষায়। তাহলে আমরা আমাদের সবুজ পৃথিবী রক্ষা করতে পারবো।
আমরা খবরের বস্তুনিষ্ঠতায় বিশ্বাসী, সঠিক সংবাদ পরিবেশনই আমাদের বৈশিষ্ট্য
আপডেট সময় : ১১:০২ এএম
২১ নভেম্বর ২০২০ খ্রি. ০৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ০৫ রবিউস সানি ১৪৪২ হিজরি, শনিবার






