
সম্পাদকীয় …
শ্রমিক আহত ও নিহতের ঘটনা অহরহ ঘটেই চলেছে। কাজ করতে গিয়ে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাগুলো শ্রমিকের জীবনে ঘটে যাওয়াটা দুঃখজনক হলেও মালিকদের কিছু যায় আসে না। এসব তাদের ভাবার বিষয় নয়। সুতরাং মৃত্যুঝুঁকি নিয়েই শ্রমিকরা কঠিন কঠিক কাজগুলো করে যাচ্ছে। আমাদের চারিদিক এতো সুন্দর হওয়ার পেছনে শ্রমিকের অবদান অপরিসীম। কায়িক পরিশ্রমের মাধ্যমেই তারা পৃথিবীকে সুন্দর করে গড়ে তুলছে। তাদের শ্রমে ও ঘামেই আমরা চারিদিক সুন্দর বলে উপভোগ করতে পারি।
প্রিয় সময়ে ‘মাদারীপুরে ছয়তলা ভবনে ব্যবহৃত ক্রেন থেকে পড়ে ৩ শ্রমিক আহত’ শিরোনামে প্রকাশিত সংবাদের মাধ্যমে আমরা জানতে পেরেছি দুঃখজনক ঘটনাটি। তারা পরিবারের উপার্জনের প্রধান হাতিয়ার। তাদের পরিবার নির্ভর করছে। তারা কাজ করলেই, তবে পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা খাবার পাবে। মাদারীপুরে নির্মাণাধীন ছয়তলা ভবনে ব্যবহৃত ক্রেন থেকে পড়ে ৩ নির্মাণশ্রমিক আহত হওয়ার মাধ্য দিয়ে পািরবারের ক্ষতি হয়েছে। আমরা জানতে পেরেছি, তাদের মধ্যে দু’জনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

ঘটনাটি ২৬ নভেম্বর ২০২০ দুপুর ১টার দিকে জেলা সদর হাসপাতালের ভেতরে নির্মাণাধীন ছয়তলা ভবনে ঘটনাটি ঘটেছে। ছয়তলা থেকে পড়ার কারণে শরীরের বিভিন্ন স্থান ভেঙে যাওয়ার পাশাপাশি গুরুতর আহত হয়েছে তারা। আর তাদের মধ্যে দু’জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে। সেই ভবনে কাজ করেছে অর্ধশত শ্রমিক। ভবনের কাজের জন্যে বহুল উচ্চতাসম্পন্ন একটি ক্রেন ব্যবহার করা হয়।
অতীতে আমরা দেখেছি, কাজের জন্যে কোনো শ্রমিক আহত হলে তেমন একটা গুরুত্ব দেয় না কর্তৃপক্ষ। সেই পরিবারেরও কোনো ক্ষতিপূরণ দেয়া হয় না। অপরদিকে আহত শ্রমিকের খোঁজ নেয় না কেউই। তখন সেই পরিবারের করুণ অবস্থা চলতে থাকে।
এমনও হয়েছে যে, গরীব অসহায় শ্রমিক যদি মালিকের কাছে গিয়ে সাহায্য প্রার্থনা করে, তখন তাকে বলে দেয়া হয় ‘আল্লাহ্’কে ডাক। এই বলে তাকে বিদায় করে দেয়া হয়। সুতরাং বঞ্চনার শিকার হচ্ছেন শ্রমিকরা দিনের পর দিন। আইনে থাকলেও আহত হলে মালিকেরা ক্ষতিপূরণ দেন না। কেবলমাত্র মারা গেলেই হয়তো কিছু টাকা ক্ষতিপূরণ হিসেবে দেয়া হয় পরিবারকে। আহত শ্রমিকের চিকিৎসার পুরো ক্ষতিপূরণ ও অসুস্থ অবস্থায় মজুরি দেয়ার বিধান আছে। অথচ আইনে ভালো ভালো কথা লেখা থাকলেও সত্যিকারের চিত্রটা উল্টো থেকে যায়।
সত্যিই আমাদের দেশে শ্রমিকের সংখ্যা কত, কত শ্রমিক আহত হন, কতজন ক্ষতিপূরণ পান, এর কোনো সঠিক তথ্য আমাদের জানা নেই। শ্রমিকদের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইন প্রয়োগ ও বাস্তবায়ন দরকার। তাহলে শ্রমিকরা উৎসাহের সাথে কাজ করতে পারবে।
বাস্তবে দেখা গেছে, বেশির ভাগ ক্ষেত্রে দুর্ঘটনার পর পরই মালিক পক্ষ গা ঢাকা দেন। তাছাড়া ঠিক সময়ে মামলা হয় না। আবার মামলা হলেও আসামিদের পুলিশ ধরতে পারে না। এতে শ্রমিকেরা তাদের প্রাপ্য থেকে বঞ্চিত হন।
এমনও অনেক শ্রমি রয়েছেন, যারা গুরুতর আহত হয়ে জীবনের বাকি দিনগুলো হুইলচেয়ারে কাটাতে হচ্ছে। ওরা হয়তো শুধু মালিক পক্ষের প্রতিশ্রতি পেয়েই চলেছেন, কিন্তু প্রতিশ্রুতি পেলেও প্রতিশ্রুতি পূরণের কোনো তোড়জোড় নেই। সেই পরিবারের যেন কী করুণ অবস্থা তা দেখার মতো নয়। অর্ধাহারে, অনাহারে সেই পরিবারগুলো চলতে হচ্ছে।
আহত শ্রমিকদের ক্ষতিপূরণ অপর্যাপ্ত এবং আদালতের মাধ্যমে আদায়ের প্রক্রিয়া জটিল। তাছাড়া ক্ষতিপূরণের বিষয়টি শ্রমিকদের অনেকে জানেন না, যাঁরা জানেন, তাঁরা জটিল প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে অনেক সময় যেতে চান না। আমরা মনে করি, আমাদের দেশে নির্মাণ প্রতিষ্ঠান ও শ্রমিক প্রতিনিধিদের নিয়ে কমিটি থাকা উচিত। তারাই আহত শ্রমিকের বিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। এর মাধ্যমে আহত ও নিহত হয়ে যাওয়া শ্রমিকদের ক্ষতিপূরণের বিষয়ে ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করতে পারবেন। কিন্তু সে রকম ব্যবস্থা আমাদের দেশে হলে শ্রমিকদেরই উপকার হবে।
আমরা খবরের বস্তুনিষ্ঠতায় বিশ্বাসী, সঠিক সংবাদ পরিবেশনই আমাদের বৈশিষ্ট্য
আপডেট সময় : ১২:২৪ এএম
২৭ নভেম্বর ২০২০ খ্রি. ১২ অগ্রহায়ণ ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ১১ রবিউস সানি ১৪৪২ হিজরি, শুক্রবার






