

রাকিবুল হাসান, মনপুরা ভোলা সংবাদদাতা :
ভোলা জেলা থেকে বিছিন্ন দূর্গম উপজেলা মনপুরা।একটি দুর্গম উপজেলা হওয়া সত্বেও এই উপজেলাতে এখনো সংযুক্ত হয়নি সাবমেরিন ক্যাবলের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সংযোগ। রক্ষা হয়নি প্রধানমন্ত্রীর অঙ্গিকার ।তবে বছর কয়েক আগে ওয়েষ্টার্ণ রিনিউএবল এনার্জী (প্রাঃ) লিমিটেড সোলার প্যানেল এর মাধ্যমে হাইব্রিড বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ করেন।

ওয়েষ্টার্ণ রিনিউএবল এনার্জী ( ডব্লিউ আর ই এল -০১)২৭৯.৫ কি.ওয়াট পিক সোলার মিনি গ্রীড বিদ্যুত প্রকল্প ৪ নং দক্ষিন সাকুচিয়া ইউনিয়নে স্থাপন করেন । তবে ওয়েষ্টার্ণ রিনিউএবল এনার্জী(প্রাঃ) লিমিটেড আইন বিধিবহির্ভূত ভাবে গাছ ও বাঁশকে খুঁটি বানিয়ে গ্রাহকের বাড়িতে বিদ্যুৎ সংযোগ দিতে দেখা যাচ্ছে।
সংযোগ দেওয়ার প্রায় ৪ বছর অতিবাহিত হলেও সংস্কার করা হয়নি এসব ঝুঁকিপূর্ণ লাইন। যেকোনো সময় দুর্ঘটনার আংশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী।বর্ষায় মৌসুমে যে কোন সময় বড় ধরনের দূর্ঘটনার ঘটতে পারে। এমন অব্যবস্থাপনার চিত্র দেখা যাচ্ছে উপজেলার দক্ষিণ সাকুচিয়া ইউনিয়নে। পাশাপাশি ওয়েষ্টার্ণ রিনিউএবল এনার্জী (প্রাঃ) লিমিটেড ইউনিট প্রতি ৩০ টাকা, মাসিক সার্ভিস চার্জ ৭০ টাকা, ৫ হাজার টাকা মিটার খরচ নিচ্ছেন।
এতে ভোগান্তিতে আছেন এলাকার ১২ শতাধিক গ্রাহক।নিয়মনীতি না মেনে ধারণ ক্ষমতা বাহিরে মিটার সংযোক দিয়ে গ্রাহকদের সাথে প্রতারণা করছেন এই প্রতিষ্ঠান টি। তাদের ধারণ ক্ষমতা ৯শত মিটার,গ্রাহকদের সংযোগ দিয়েছে ১২শত মিটার।
সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, রাস্তার পাশে গাছে গাছে ঝুলছে বিদ্যুতের তাঁর। কোথাও পাকা খুঁটি নেই, গাছের পাকে পাকে লাইন টানা হয়েছে। অনেক স্থানে জিআই তার দিয়ে গাছের সাথে র্যাক দিয়ে বেঁধে টানা হয়েছে লাইন। বিভিন্ন স্থানে পাকা খুঁটির পরিবর্তে, কাফুলাগাছ, তালগাছ, মেহগনিগাছ ও রেইন্ট্রির সঙ্গে বিদ্যুতের তার দিয়ে লাইন টানা হয়েছে।এছাড়া দক্ষিণ সাকুচিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এর বাসার সামনের পাকা খুঁটি থেকে ২ কিলোমিটার নিয়ে বিভিন্ন বাসায় বিদ্যুৎ সংযোগ দিয়েছে। এর মধ্যে কোনো ধরনের খুঁটি ব্যবহার করা হয়নি। কোথাও মেহগনি গাছে, কোথাও কাঁচা গাছে,কলা গাছ আবার কোথাও রেইনট্রির সঙ্গে তার বেঁধে বাড়িতে বাড়িতে মিটার দিয়ে সংযোগ দেওয়া হয়েছে।এছাড়া এমন চিত্র আরো দেখা যায়,জনতা বাজার সংযোগ সড়ক থেকে জীবন্ত গাছের সাথে বেঁধে খান সাহেবের এর বাসায় পযন্ত সংযোগ আনা হয়েছে। তবে এর মাঝে কোন ধরনের খাম্বা ব্যবহার করা হয়নি। রহমানপুর গ্রামের বাসিন্দা আবদুল কুদ্দুস মোল্লা বলেন, বেশ কয়েক জায়গায় গাছের সঙ্গে ঝুঁকিপূর্ণ বিদ্যুতের সংযোগ রয়েছে।

দক্ষিন সাকুচিয়া ইউনিয়ন পরিষদের উদ্দ্যেক্তা লবঙ্গ চন্দ্র দেবনাথ বলেন,আমার বাসার সামনের দিয়ে ৩ কিলোমিটার বৈদ্যুতিক লাইন সংযোগ দিতে গিয়ে গাছের সাথে বেধে সংযোগের তাঁর নিয়েছে। কিন্তু ৩ বছরেও খুঁটি বসেনি। এখন আমরা খুব ভয়ে আছি বর্ষার প্রবল বাতাসে তাঁর ছিটকে পরে বড় ধরনের দূর্ঘটনার।তবে যে গাছে দিয়ে বিদ্যুত সংযোগ দিয়েছে সেই গাছ এখন অনেক বড় হয়ে গেছে।যে কোন সময় তারঁ ছিটকে পরে বড় ধরণের দৃর্ঘটনা হতে পারে।অনেক বার এই কোম্পানির প্রতিনিধি কে বলেও কোন সমাধান পাইনি।
দক্ষিণ সাকুচিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব অলিউল্লাহ কাজল বলেন,খাম্বা থেকে সর্বোচ্চ ১০০ ফুট দূরত্বে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া যেতে পারে। কিন্তু দক্ষিণ সাকুচিয়া বৈদ্যুতিক খুঁটি ছাড়া অবৈধ লেনদেনের মাধ্যমে কয়েকটি স্থানে অবৈধ সংযোগ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এবং ধারণ ক্ষমতা বাহিরে মিটার সংযোগ দিয়েছেন। এই রমজান মাসে আমার এলাকার মানুষ নামাজ পড়তে পারছেনা। ৩০ টাকা বিদ্যুৎ বিল দিয়েও গরম উপেক্ষা করে নামাজ আদায় করতে হয়।এটা সম্পূর্ণ আমাদের সাথে প্রতারণা করছে এই কোম্পানি।
এই প্রসঙ্গে ওয়েষ্টার্ণ রিনিউএবল এনার্জী(প্রাঃ) লিমিটেড এর প্রজেক্ট ম্যানাজার আকরাম বলেন,গাছ ও বাঁশ দিয়ে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়ার আমাদের বিধান আছে। তাই আমরা এই লাইন দিয়েছি।যদি তার ছিটকে কোন দূর্ঘটনা ঘটে সেটার জন্য অফিস থেকে সকল দায়িত্ব বহন করবে।

তিনি আরো বলেন, গাছ ও বাঁশ দিয়ে জোর করে তো কারো বাড়িতে লাইন দেওয়া হয়নি। তখন অনেকের জোরাজুরি, তদবির করায় এভাবেই লাইনগুলো দেওয়া হয়েছে।
দক্ষিন সাকুচিয়া সহকারী প্লান্ট ম্যানাজার,শানুর আলম ঝলক বলেন,আমি নতুন এসেছি ।তবে গাছ ও বাঁশের খুঁটি এবং এক লাইন দিয়ে বিদ্যুৎ দেওয়ার কোনো বিধান নাই আমি উদ্ধতম কর্মকর্তার সাথে কথা বলে ঝুঁকিপূর্ন বিদ্যুত সংযোগ লাইন মেরামত করার চেষ্টা করবো ।










