

রাকিবুল হাসান, মনপুরা প্রতিনিধি :
আগামী ২৫ জুন চালু হতে যাচ্ছে দক্ষিণাঞ্চল কে রাজধানীর সাথে সংযুক্ত করার পদ্মা সেতু।পদ্মা সেতু চালু হওয়ার সাথে সাথে পাল্টে যাবে বিছিন্ন দূর্গম জনপদের নিদিষ্ট সময় সিমার মাঝে যাতায়াতে ব্যবস্থা।দক্ষিণাঞ্চলে দূর্গম বিছিন্ন দ্বীপ মনপুরা সাথে সড়ক যোগাযোগ হবে বলে আশা করছে অনেকে।স্বপ্ন দেখছে সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে উচ্চবিত্ত মানুষ।

দক্ষিণঞ্চলের এমন একটি জনপদের কথা বলছি; যে জনপদটি জেলা শহর থেকে সম্পূর্ন বিচ্ছিন্ন। ৮০ কিঃমিঃ জেলা শহরের উদ্দেশ্যে সকালে রওয়ানা করলে বিকেলে গিয়ে পৌঁছাতে হয়।নিদিষ্ট সময় মত নৌ পথের যোগাযোগ এর কারণে এই দূর অবস্থা এই জনপদের মানুষের। দক্ষিণে বঙ্গোপসাগরের মোহনায় অবস্থিত। চারদিকে উত্তাল মেঘনা নদী বেষ্টিত একটি দ্বীপ।ভোলা জেলার দ্বীপ উপজেলা মনপুরার কথা।৪ টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত উপজেলাটিতে দেড় লক্ষ মানুষের বসবাস। ১৯৮৩ সালে উপজেলায় উন্নিত হওয়ার পর থেকে ভৌগলিক অবস্থানগত কারণে আধুনিক নানাবিধ সুবিধা থেকে বঞ্চিত রয়ে গেছে এই উপজেলার মানুষ।একবিংশ শতাব্দিতে এসে অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বিদ্যুতের আংশিক উন্নতি হলেও এই উপকূলের মানুষ রয়ে গেছে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন। আধুনিক চাহিদাগুলোর অন্যতম-যোগাযোগ ব্যবস্থা হলেও এই দ্বীপের মানুষের একমাত্র ভরসা নদী পথ। আর সেই নদী পথে স্বাধীনতার ৫০ বছর পেরিয়ে গেলেও হয়নি উল্লেখযোগ্য কোন উন্নয়ন। তবে সেই জনপদ এখন স্বপ্ন বাস্তবায়ন হবে বলে মনে করেন অনেকে।পদ্মাসেতু চালুর হওয়ার পর পরিবর্তন হতে পারে এই জনপদ।
এদিকে মনপুরার সাথে ফেরী যোগাযোগ না থাকায় দীর্ঘদিন বিভিন্ন সমস্যায় ভুগতে হচ্ছে উপজেলাবাসিকে। সরকারি দপ্তর, অফিস-আদালত, চাকরিজীবি, ব্যবসায়ী ও জনসাধারন নানাবিধ ক্ষতির সম্মুখিন হচ্ছেন। ফেরি যোগাযোগ বা যাতায়াতের ব্যবস্থা না থাকায় উপজেলা প্রশাসন ও বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের চিঠিপত্রসহ বিভিন্ন প্রয়োজনিয় ফাইল আদানপ্রদানে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে।এছাড়াও জেলা শহর বা রাজধানী ঢাকার সাথে সরাসরি সড়ক যোগাযোগ না থাকায় বিভিন্ন সমস্যা পোহাচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। উপজেলায় দেশের নামিদামি কোম্পানিসহ সকল কোম্পানির পরিবেশক থাকাসত্বেও কোম্পানির নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে কিনতে হচ্ছে পন্য।কারণ সড়ক পথে এই দ্বীপের সাথে কোন যোগাযোগ না থাকায় মালামালের অনেক পরিমাণ কষ্ঠ বহন করতে হয় ব্যবসায়ীদের।এতে প্রায় সময় ক্রেতা ও বিক্রেতার মধ্যে নেতিবাচক প্রভাবসহ বাকবিতন্ডায় জড়াতে দেখা যাচ্ছে।
একটিমাত্র সরকারি সী-ট্রাকই ভরসা এই দ্বীপের সকল পেশার মানুষের। একই জলযানে যাত্রী ও মালামাল দুটোই বহন করতে হচ্ছে।আধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থার সাথে তাল মিলিয়ে যানবাহন পারাপারের জন্য মনপুরা থেকে ফেরি চালুর দাবি ছিলো দীর্ঘদিনের। ফেরি সংকট বা অজানা কারনে দ্বীপের মানুষের এই স্বপ্ন-স্বপ্নই রয়ে গেছে।বরিশালের দপদপিয়া সেতু, পটুয়ালীর লেবুখালী সেতু, সর্বশেষ পদ্মাসেতু নির্মানের মাধ্যমে মনপুরায় ফেরি চালুর সেই স্বপ্ন ধীরে ধীরে আলোর মুখ দেখাচ্ছে।সাম্প্রতিক গত (২৫শে)মে বুধবার মনপুরা ফেরি ঘাটপরিদর্শনে আসেন বিআইডব্লিউটিসি চেয়ারম্যান আহমদ শামীম আল রাজী ও বিআইডব্লিউটিএ চেয়ারম্যান কমডোর গোলাম সাদেক ।এই রুটে ফেরি চালু হলে খুলে যাবে আধুনিক যোগাযোগের দ্বার। উন্মোচিত হবে নতুন স্বপ্নের দিগন্ত। সৃষ্টি হবে রাজধানী ঢাকার সাথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন এই অবহেলিত দ্বীপের মানুষের অভূতপূর্ব এক মেলবন্ধন। লাগব হবে পারাপারের বিরক্তিকর এই ঝক্কিঝামেলা। কম সময়ে, কম খরচে ঢাকায় গিয়ে কাজ শেষ করে দিনাদিন শান্তির নীড়ে ফিরে আসতে পারবে বিচ্ছিন্ন এই দ্বীপের বাসিন্দারা।
বিভিন্ন চাকরি পরীক্ষার্থীদের সাথে কথা হলে তারা বলেন,মনপুরা থেকে কোন পরীক্ষা বা কাজে ঢাকায় গেলে সর্বনিম্ন ৩দিনের সময়ের প্রয়োজন এখন।অনেক সময় কাল পরীক্ষা মেসেজ আসে বিকাল ৫টায় তখন কিন্তু আর মনপুরা থেকে যেতে পারছি। অনেক চাকরির পরীক্ষা দিতে না পারায় অনেকে চাকরি হারিয়েছি। এখন পদ্মাসেতু চালু হলে মাত্র ৮/৯ ঘন্টায় বিচ্ছিন্ন এই দ্বীপ থেকে রাজধানী ঢাকায় যেতে পারবো।
একই কথা বলেন মনপুরার অনেক ব্যবসায়ী, তারা বলেন এখন যদি একটু ব্যবসা করে আরাম করতে পারি।সকালে মালের বিবরণ দিয়ে দিবো বিকালে মাল দোকানে পৌঁছে যাবে।
কথা হয়, ইলিশ আড়ৎদারদের সাথে তারা বলেন,মনপুরা থেকে কোন সড়ক পথ না থাকায় দিনে দিনে মাছ মোকাম করতে না পেরে অনেক লস গুনতে হচ্ছে। ইলিশ মাছ লঞ্চে করে এক দিন আগে পাঠাতে হয় এতে অনেক সময় মাছ নষ্ট হয়ে ভালো দাম পাই না।এখন পদ্মাসেতু চালু হলে দিনের মাছ দিনে মোকাম করে ব্যবসায় উন্নতি করা যাবে।
অনেক রোগী জানান,ঢাকায় উন্নত মানের ডাক্তার দেখাতে গেলে এখন তিন দিনের সময় প্রয়োজন হয়।আর ডাক্তার দেখানোর পরে কোন পরীক্ষার জন্য অপেক্ষার করলে আরো চলে যায় ২ দিন। তাই আমাদের অর্থনৈতিক অনেক ক্ষতি হচ্ছে ।পদ্মাসেতু চালু হলে দিনে দিনে ডাক্তার দেখি বাসায় ফিরতে পাবো । পদ্মাসেতু চালু হলে পরিবর্তন হয়ে যাবে মনপুরার অর্থনৈতিক চিত্র এমনটা মনে করেন সচেতন মহল।










