

মোঃ জাহাঙ্গীর আলম, গাইবান্ধা প্রতিনিধি
‘সেভেন সিস্টার্স রক্ষায় রংপুর অঞ্চলকে ভারতের অন্তর্ভুক্ত করার গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে পলাশবাড়ীতে বিশ্বের বৃহত্তম কথিত রাম মূর্তি দ্রুত অপসারণের দাবিতে’ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকেলে জেলা শহরের দেশি ভোজ নামে একটি হোটেলের হলরুমে সচেতন নাগরিক ফোরাম গাইবান্ধার আয়োজনে এই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

এতে উপস্থিত ছিলেন সচেতন নাগরিক ফোরামের মুফতি মাহমুদুল কাসেমী, সদস্য সচিব প্রভাষক মাওলানা আব্দুল মাজেদ, হাফেজ মো. আবুল বাসার, সহকারী অধ্যাপক জহুরুল হক সরকার, মুফতি ইদ্রিস আলী, আবু সাঈদ খুদরী কাজীসহ অন্যরা।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, গাইবান্ধা জেলায় হিন্দু-মুসলিমসহ সকল ধর্মের মানুষ সম্প্রীতির সাথে বসবাস করছি। কোনো সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার ইতিহাস আমাদের জানা নেই। হরিদাস নামে এক ভন্ড ধার্মিক প্রতারক যিনি কিছুদিন পুর্বে ময়মনসিংহের ফুলপুরে মুসলিম সেজে মুসলিম এক নারী কে বিয়ে করে। সেই প্রতারক গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে রাম মূর্তি স্থাপন করে যে বিশৃঙ্খলা পরিবেশ তৈরি করেছে। এ নিয়ে কয়েক দিন পূর্বে আমরা জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি দেই।
বক্তারা দাবি করে বলেন, পলাশবাড়ীতে বিশ্বের বৃহৎতম রাম মূর্তি নির্মাণ নিছক ধর্ম পালন নয়, ধর্ম পালনের আড়ালে দেশ বিভক্তির গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ। যা ইতিমধ্যে দেশের ও ভারতের উগ্রবাদী হিন্দু নেতাদের বক্তব্য স্পষ্ট হয়েছে। ভারত সেভেন সিস্টার্স রক্ষায় রংপুর অঞ্চলকে তাদের অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে চায়। বিভিন্ন সময় ভারতের দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের বক্তব্য আমাদের শংকিত করেছে।
সংবাদ সম্মেলনে উত্থাপিত দাবিগুলো হলো, ধর্মের লেবেল ব্যবহার করে সাম্প্রদায়িক উস্কানি প্রদানের লক্ষ্যে বিতর্কিত ও ষড়যন্ত্রভাবে মন্দিরের বাইরে খোলা আকাশের নিচে মূর্তিটি দ্রুত অপসারণ করতে হবে, প্রতারক হরিদাসসহ দেশ বিরোধী ষড়যন্ত্রকারীদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনতে হবে, প্রকল্পের অর্থায়ন নিয়ে তদন্ত, তদন্তে বিদেশি কোনো রাষ্ট্রের সম্পৃত্ততা অভিযোগ প্রমাণিত হলে দ্রæত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ, গাইবান্ধাসহ রংপুর বিভাগের শান্তি শৃঙ্খলা এবং দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ। দাবি বাস্তবায়ন না হলে পরবর্তীতে বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলার হুশিয়ারি দেওয়া হয়।

















