

কুয়াকাটা (পটুয়াখালী) প্রতিনিধিঃ
প্রথম বারের মতো ইভিএম পদ্ধতিতে ভোট গ্রহণে কুয়াকাটার সাগর পারের লতাচাপলী ও ধুলাসার ইউপি নির্বাচনে ধীর গতির অভিযোগ করেছেন ভোটাররা। বেলা ১১টা থেকে পৌনে ১২টা পর্যন্ত লতাচাপলী ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের ১১৭নং আমজেদপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভোট কেন্দ্রে একটি ভুথে পৌনে এক ঘন্টায় ৪টি ভোট গ্রহণ সম্পন্ন হয়। ওই কেন্দ্রের ভোটার হানিফ খানও সালাম হাওলাদার জানিয়েছেন, তারাসহ আরও ২ জন মোট ৪ জন ভোটারকে দুপুর ১১টায় বুথে নিয়েছে। আঙ্গুলের ছাপ না মিলায় একাধিকবার দিতে হয়েছে। সেক্ষেত্রে ওই ৪জন ভোটার পৌনে এক ঘন্টা পর সফলভাবে ভোট প্রদান করতে পেরেছেন।

ওই কেন্দ্রে প্রিজাইডিং অফিসার ও কলাপাড়া উপজেলা সহকারী শিক্ষা অফিসার রিপন কুমার দাস জানান, এখানকার বেশিরভাগ ভোটার শ্রমজীবী এবং স্বল্প শিক্ষিত। যেকারণে তাদের ভোটদান পদ্ধতি সম্পর্কে বুঝতে কিছুটা সময় বেশি লাগছে। একই অবস্থা বিরাজ করছে পাশপাশি দুই ইউনিয়নের অধিকাংশ ভোট কেন্দ্রে।
এছাড়া লতাচাপলী ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের খাজুরা আশ্রয়ন কেন্দ্র সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোট কেন্দ্রে দুইজন বহিরাগত প্রত্যেককে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেড পাঁচ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড দিয়েছে। ধুলাসার ইউনিয়নে ৪জনকে ২২হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমান আদালত
এদিকে সাধারণ ভোটারদের মধ্যে প্রভাবমূক্ত ভোটদান এবং ভোটদান পদ্ধতি নিয়ে নানা শঙ্কা থাকলেও শান্তিপূর্ণ ভোটদানের পরিবেশে দেখে তারা অনেক খুশি। লতাচাপলী ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের ভোটার জেলে ফারুক ভোটদান শেষে জানান, প্রথমে ভোটদান পদ্ধতি বুঝতে তার সময় লেগেছে। তবে প্রভাবমূক্ত ভোট দিতে পেরে তিনি অনেক খুশি। উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং অফিসার মোঃ আব্দুর রশীদ জানান, প্রথমবারের মতো ইভিএম পদ্ধতিতে সকালের দিকে ভোট গ্রহণে একটু বিলম্ব হলেও প্রথম ঘন্টার পর সে সমস্যা নেই বললেই চলে। এছাড়া সুষ্ঠু ভোট গ্রহণে নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী সব রকম ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এখন পর্যন্ত কোথাও কোন সমস্যা দেখা দেয়নি।
উল্লেখ্য, পটুয়াখালী জেলার কলাপাড়া উপজেলার এই দুই ইউনিয়নে নির্বাচনে ১৮টি ওয়ার্ডের ২২ কেন্দ্রে ছয়জন নির্বাহী ও একজন জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেডসহ প্রতিটি ভোট কেন্দ্রে ৫জন পুলিশ সদস্যসহ ১৭ জন আনসার সদস্য রয়েছেন। এছাড়া মাঠে দুইটি র্যাবের টিম, দুই প্লাটুন বিজিবি ও কোস্টগার্ড মোতায়েন রয়েছে। নির্বাচনে ৩১ হাজার ৯থশ ৬৩জন ভোটারের বিপরীতে ১০জন চেয়ারম্যান প্রার্থী, ৬৮জন সাধারণ ইউপি সদস্য প্রার্থী এবং ২৬ জন সংরক্ষিত নারী ইউপি সদস্য পদপ্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।









