

জাকারিয়া জাহিদ,কুয়াকাটা প্রতিনিধিঃ
ঈদুল আযহার পঞ্চম দিনে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের বেলাভূমি সাগরকন্যা কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতে পর্যটক কানায় কানায় পরিপূর্ণ। পদ্মা সেতু খুলে দেওয়ায় কুয়াকাটা এত পর্যটক দেখা যাচ্ছে।পদ্মা সেতুর সুফল ভোগ করছেন দক্ষিণ অঞ্চল সহ পর্যটন কেন্দ্র কুয়াকাটার সকল শ্রেণীর ব্যবসায়ীরা। সমুদ্রের ঢেউয়ের তালে তালে হেসে খেলে নৃত্য করে আনন্দ উপভোগ করছেন পর্যটকরা।

মনে হয় যেন কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত নতুন দিগন্ত ফিরে পেয়েছেন।পরিবার-পরিজন কিংবা প্রিয়জনকে সাথে নিয়ে প্রকৃতির নয়নাভিরাম দৃশ্য উপভোগ করার পাশপাশি সাগর সৈকতে ছাতার নিচে বসে সমুদ্রের উত্তাল ঢেউ অবলোকনের সুযোগ হাতছাড়া করতে চাচ্ছেন না ভ্রমণ পিপাসুরা। পর্যটকদের কুয়াকাটা ভ্রমনের সকল রেকর্ড এবার ছাড়িয়ে যাচ্ছে পদ্মা সেতু চালু হওয়ার ফলে। তাই পর্যটকের পথচারনায় মুখরিত আজ কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতে।
পবিত্র ঈদুল আযহা উপলক্ষে কুয়াকাটা সৈকতের জিরো পয়েন্ট থেকে পূর্ব ও পশ্চিমে মনোমুগ্ধকর ১৮ কিলোমিটার বেলাভূমি দেশি-বিদেশি পর্যটক এ কানায় কানায় পরিপূর্ণ রয়েছে। পর্যটকরা এখানকার নারিকেল বিথী, ফয়েজ মিয়ার বাগান, জাতীয় উদ্যান (ইকোপার্ক), শ্রীমঙ্গল বৌদ্ধ বিহার, সীমা বৌদ্ধ বিহার ঘুরে দেখেন। এ ছাড়া কুয়াকাটার পশ্চিমে সমুদ্র পথে ফাতরার বন, গঙ্গামতি, লাল কাঁকড়ার চর, কাউয়ার চর, লেম্বুর চর, শুটকি পল্লীও ভ্রমণপিপাসুদের আগ্রহের কেন্দ্রে রয়েছে।
খুশির ছোঁয়া দেখা গেছে স্থানীয় পর্যটন ব্যবসায়ীদের মধ্যে। মাছ ফেরায় দোকান, ঝিনুক মার্কেট,আচার ব্যবসায়ী,শুটকি ব্যবসায়ী সহ সব ধরনের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা বেচাকেনায় ব্যস্ত সময় পার করছেন। আচার ব্যবসায়ী জহিরুল ইসলাম বলেন, এবার ঈদুল আযহায় ভালো বেচাকেনা হচ্ছে আমরা ভালো প্রফিট করতে পারছি। পদ্মা সেতু আমাদের জন্য আশীর্বাদ।
ঢাকা থেকে পরিবার পরিজন নিয়ে ঘুরতে আসা মেহেদী হাসান বলেন, পদ্মা সেতু হওয়ার কারণে মাত্র পাঁচ ঘন্টায় এই প্রথম ভেরি বিহীন কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতে এসেছি। আমার পরিবার পরিজন অনেক আনন্দিত এবং কুয়াকাটা এত পর্যটক দেখে অনেক ভালো লাগছে এবং তিনি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে পদ্মা সেতু খুলে দেওয়ার জন্য অন্তরের অন্তস্থল থেকে ধন্যবাদ জানান এবং তার দীর্ঘায়ু কামনা করেন।

কুয়াকাটা হোটেল মোটেল ওনার্স এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মোতালেব শরীফ জানান, প্রতি বছরের ন্যায় এবার ঈদুল আযহার ছুটিতে অনেক পর্যটকের সমাগম দেখা যাচ্ছে। ইতোমধ্যে হোটেল মোটেল ও রিসোর্ট গুলোর শতভাগ ভাগ রুম অগ্রিম বুকিং হয়ে গেছে। অনেক পর্যটকরা রুমের জন্য যোগাযোগ করছেন, রুম দিতে পারছে না। পদ্মা সেতুর জন্যই এত পর্যটক কুয়াকাটায় দেখা যাচ্ছে।
ট্যুরিস্ট পুলিশ কুয়াকাটা রিজিওনের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবুল কালাম আজাদ জানান, আগত পর্যটকদের সেবা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ট্যুরিস্ট পুলিশের পাশপাশি জেলা পুলিশ দায়িত্ব পালন করছে। সব মিলিয়ে নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দে কুয়াকাটা ভ্রমণ করতে পারবে পর্যটকরা।তিনি আরো জানান, অনাকাঙ্খিত ঘটনা এরাতে ফায়ার সার্ভিসের টিম রয়েছে কুয়াকাটা সৈকতে।









