মনপুরায় আবাদ হয়নি আউস প্রণোদনা, লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত না হওয়ার আশঙ্কা

রাকিবুল হাসান, মনপুরা(ভোলা) প্রতিনিধি

সরকার আউশ আবাদে কৃষকদের উদ্বুদ্ধকরণের অংশ হিসেবে ভোলার মনপুরা উপজেলায় ৫শত কৃষকদের মাঝে আউশ প্রণোদনা বিতরণ করেন। এ প্রণোদনার বীজ ও সার প্রকৃত কৃষকদের মাঝে বিতরণ না করা এই উপজেলাতে বাস্তবায়ন হয়নি প্রণোদনা আউশ।

মনপুরা উপজেলা কৃষি অফিসের সঠিক দিক নির্দেশনার অভাব এবং চরম গাফিলতির কারণে এবং প্রণোদনার বীজ ও সার প্রকৃত চাষীদের না দেয়ায় আউশ আবাদ ব্যাহত হয়েছে। চলতি আউশ মৌসুমে প্রণোদনা বীজ ও সার মাঠ পর্যায়ে সঠিকভাবে বিতরণ হয়নি বলে অভিযোগও রয়েছে।উপজেলা পর্যায়ে তালিকা করে যাদের আউশ প্রণোদনার বীজ ও সার দেয়া হয়েছে তাদের কেহু আউশ আবাদ করে নাই।

সরেজমিন উপজেলা ৫ টি ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে মনপুরা কোন প্রান্তিক কৃষক আউশ আবাদ করেন নি। অনেকেই অভিযোগ করেছে উপজেলা কৃষি অফিস প্রণোদনা বীজ ও সার প্রকৃত কৃষকদের মাঝে বিতরণ না করায় মাঠ পর্যায়ে আউশের আবাদ বাস্তবায়ন হয়নি।

দক্ষিন সাকুচিয়ার প্রান্তিক কৃষক মানউদ্দিন অভিযোগ করে বলেন,প্রকৃতি কৃষক এই প্রণোদনা না পাওয়া বাস্তবায়ন করতে পারেন নি আউশ।প্রান্তিক কৃষি আরো বলে কৃষি অফিসের কোন কর্মকর্তা কে মাঠে দেখা যায় না।মাঝে মাঝে দুই এক জন এসে শুধু ছবি তুলি নিয়ে যায়।কৃষকদের জন্য প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হলেও সেখানে জেলে মটর চালক সহ অন্য পেশার মানুষ অন্তর্ভুক্ত থাকেন। তাই আমরা কোন প্রশিক্ষণ পাইনা বাস্তবায়ন ও করতে পারি না।

মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের সাথে কথা বলে আরো জানা গেছে, অতীতে এ উপজেলার জমিতে দেশীয় প্রজাতীর আউশ ধানের আবাদ হতো। কিন্তু কালের বিবর্তনে সে সব ধান আজ হারিয়ে গেছে।এতে এক ফসলি হয়ে পড়ছে মনপুরার আবাদি জমি। শুধু মাত্র আমনের উপর নির্ভর করছে এই উপজেলার আবাদী জমি গুলো ।মনপুরা আউশ ধান এর ভালো ফলন হওয়া সত্ত্বেও বিগত কয়েক বছর ধরে আউশ ধানের ন্যার্য্যমূল্য না পাওয়া কৃষকরা আউশ আবাদ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন বলে দাবী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার। এমতাবস্থায় সরকার আউশের আবাদ বাড়াতে প্রতি বছর লাখ লাখ টাকার ভূর্তুকি দিয়ে আসলেও তা মাঠ পর্যায়ে বাস্তবায়ন না হওয়ায় এ মনপুরা উপজেলায় বর্তমান আউশ আবাদ নেই বললেই চলে।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানায়ায়, চলতি বছর এ উপজেলায় আউশ আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১‘শ হেক্টর জমি।কিন্তু আউশ আবাদ এর সময় গড়িয়ে আমন ধান উৎপাদন এর সময় এসেছে। উপজেলা কোন মাঠে নেই সিকি কনা আউশ আবাদ। সরকার আউশের আবাদ বৃদ্ধিতে কৃষি প্রণোদনার অংশ হিসেবে এই উপজেলা ৫০০ জন কৃষকের মাঝে ৫কেজি উপসি আউশ ধান বীজ বিতরণ করে। আর এ ধান ৫০০ বিঘা জমিতে আবাদ করতে কৃষক প্রতি ২০ কেজি হারে ইউরিয়া, ১০ কেজি হারে ডিএপি ও সমপরিমান এমওপি সার বিতরণ করা হয়।


নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক কর্মকর্তা জানান, আউশ আবাদের তালিকা তৈরীতে তাদের কোনো হাত নেই। এই তালিকা ইউনিয়ন চেয়ারম্যান ও মেম্বাররা করে থাকেন। ফলে প্রকৃত কৃষকরা বঞ্চিত হন বলে মাঠ পর্যায়ে বাস্তবায়ন হয় না।

তবে মনপুরা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা বেশির ভাগ সময় উপস্থিত না থাকায় মাঠ পর্যায়ে কোন তদারতি করছেনা সহকারী ও উপসহকারীরা ।এতে কৃষি পরামর্শ থেকে প্রতিনিয়ত বিতারীত হয়েছেন এই উপজেলার প্রান্তিক কৃষক ।তথ্য সংগ্রহ করতে বেশ কয়েকদিন কৃষি অফিসে গেলে কৃষি অফিস বন্ধ পাওয়া যায় ।

এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আবু হাসনাইন  বলেন, আউশ ধান আবাদে কৃষকদের যথেষ্ট উদ্বুদ্ধ করা হয়ে থাকে। খরা ও জলবায়ুর পরিবর্তন এর কারেণে কৃষক আউশ আবাদ করেনা । আউশের ফলন কমসহ উৎপাদন খরচ না ওঠায় তারা আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছে।

You might like