

মোঃ মাসুদুল আলম অপু, স্বরূপকাঠি প্রতিনিধি : :
স্বরূপকাঠির বালিহারীতে স্বামীর হাতের কব্জি বিচ্ছিন্ন করার ঘটনায় স্ত্রী মুর্শিদাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ আদালতে পাঠিয়েছে।
দুই হাতের কব্জি হারানো জাহারুল ইসলামের বড় বোন পারভীন বাদী হয়ে থানায় মামলা করেছেন।

নেছারাবাদ(স্বরূপকাঠি) থানার ওসি আবীর মোহাম্মদ হোসেন জানান ঘটনার সংবাদ পেয়েই পুলিশ তৎপর হয়ে জাহারুল ইসলামের স্ত্রী মুর্শিদাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বিজ্ঞ আদালতে জবানবন্ধি না দেওয়া পর্যন্ত তার দেওয়া তথ্য প্রকাশ করা যাবে না। তবে পুলিশের কাছে ঘটনার বিষয়ে সে তথ্য দিয়েছে।
অপরদিকে বরিশাল শের এ বাংলা মেডিকেল কলেজে ভর্তি জাহারুল ইসলাম তার মায়ের মোবাইল ফোনের মাধ্যমে প্রতিবেদককে বলেন, ঘটনার সময় রাত সাড়ে ১১ কি ১২ টা হবে। ঘরে ঢুকে ভাত খাই। ঝিংগা তরকারী অত্যান্ত তেতো সামান্য খেয়ে কেমন যেন লাগছিল। এ সময় বিছানায় বসে পড়ি তখন ৩ জন লোক ঘরে ঢুকে। সবাই মুখোশ পড়া। আমার ঘুমের অবস্থা এমন ছিল যে আমার কোনও জ্ঞান ছিল না। পরবর্তীতে শুক্রবার স্বরূপকাঠি হাসপাতালে আমার চাচার ডাকে সামান্য চেতনা আসে। আমার স্ত্রী খুবই দুর্দান্ত মহিলা। তার পক্ষ হয়ে কয়েকজনের নেতৃত্বে ইলুহার এলাকার লোকজন আমাকে মারধর করেছে। এবং প্রায়ই হুমকি দিত। তারা গাঞ্জাখোর দলের লোকজন।
সরেজমিনে জাহারুলের বাড়ী গিয়ে দেখা যায় এলাকায় নিস্তব্দতা বিরাজ করছে। প্রতিবেশি ঘরের নারীরা জানিয়েছেন জাহারুল সমিলে লেবারের কাজ করত। একদিন কাজ করলে তিনদিনেও আর সে পথে যেতনা। সংসারে অভাব অনটন লেগেই রয়েছে।

জাহারুল স্ত্রী মুর্শিদাকে প্রায়ই মারধর করত। কিছুদিন পূর্বে মুর্শিদা বাড়ী ছেড়ে পিতার বাড়ী চলে গিয়েছিল। মুর্শিদার বাবার বাড়ীতে পাওয়া সামান্য জমি বিক্রি করে আনার জন্য চাপ দিত। তারা জানান ঘটনার পর থেকে রাতাবধি পুলিশ বিচ্ছিন্ন করা হাত দুইখানা উদ্ধারের লক্ষে বিভিন্ন ডোবানালায় তল্লাশি চালিয়েছে।

উল্লেখ্য স্বরূপকাঠিতে বৃহস্পতিবার রাতে পারিবারিক কলহে দুই হাতের কব্জি হারান জাহারুল ইসলাম। এঘটনায় স্ত্রী মুর্শিদাকে গ্রেফতার করে আদালতে পাঠিয়েছে পুলিশ। সে পুলিশের কাছে তথ্য দিযেছে। অপর দিকে বরিশাল শের এ বাংলা মেডিকেলে চিকিৎসাধীন জাহারুল ইসলাম।









