ঘূনিঝড় সিত্রাং এর প্রভাবে মনপুরায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি

রাকিবুল হাসান, মনপুরা প্রতিনিধি :

ঘূনিঝড় সিত্রাংয়ের প্রভাবে ভোলার মনপুরা উপজেলায় ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। গাছ পড়ে উপজেলায় বিভিন্ন এলাকায় প্রায় অর্ধ-শতাধিক আধা পাকা বাড়ি-ঘর বিধ্বস্ত হয়েছে।

এছাড়া পানি বৃদ্ধি পেয়ে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ছোট-বড় মাছের ঘেরের মাছ ভেসে গেছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ৫শত ঘরবাড়ি আংশিক ও ৩শত ঘর সম্পূর্ণভাবে বিধ্বস্ত হয়েছে। তবে জোয়ার ও জলোচ্ছ্বাসে উপজেলায় প্রায় ২০টি গ্রাম পানির নিচে প্লাবিত হয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।অমাবস্যার সময় ঘূর্ণিঝড়ের হানায় স্বাভাবিকের চেয়ে ১১৯ সেন্টিমিটার উচ্চতায় জোয়ার প্রবাহিত হয়েছে বলে জানিয়েছেন পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)। জলোচ্ছ্বাস ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে এই উপজেলা কোন হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।তবে উপজেলা উত্তর সাকুচিয়া ইউনিয়নের বেল্লাল মিকার এর ইলিশ শিকারে থাকা ফিশিং ট্রলারটি বঙ্গসাগরে ঝড়ের কবলে পড়ে ডুবে যায়।ট্রালারে থাকা ২০ জেলেকে উদ্ধার করা হয়েছে এখনো নিখোঁজ রয়েছে এক জেলে। এমটাই নিশ্চিত করেন ফিশিং ট্রলার মালিক বেল্লাল মিকার।

অপরদিকে ঘূর্ণীঝড়ের আঘােত ঘর-বাড়ি হারিয়ে ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে কােটি টাকার ওপর ক্ষতিতে নির্বাক হয়ে পড়েছে ব্যবসায়ীরা। যেন সর্বত্রই হাহাকার চলছে।

সোমবার গভীর রাত ১২ টায় মনপুরা উপকূলে আঘাত হানে ঘূর্ণীঝড় সিত্রাং। মঙ্গলবার ভাের রাত ৪ টা পযন্ত এর তীব্রতায় উপজেলা সদর হাজিরহাট বাজার, থানা, পশুহাসপাতাল সহ উপজেলার ৪ টি ইউনিয়নের অধিকাংশ এলাকা মেঘনার পানিতে প্লাবিত হয়।

তাছাড়া ঘূর্ণিঝড় সিত্রাং এর প্রভাবে উপজেলায় বন্যানিয়ন্ত্রন বেড়িবাঁধ, ঘরবাড়ি, ফসল, গাছপালা, কাঁচা-পাকা রাস্তা ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতি সামলে ঘুরে দাঁড়ানোই মানুষের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে।

এছাড়াও উপজেলা ২০ টি পয়েন্টে ৫ কিলোমিটার বন্যানিয়ন্ত্রন বেড়িবাঁধ ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে তথ্য পাওয়া গেছে।

মঙ্গলবার সকাল থেকে বিকাল ৩টা পযন্ত সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, পানিতে প্লাবিত হয়ে রয়েছে বহু এলাকা। এতে পানিবন্দি হয়ে রয়েছে অনেক পরিবার।ক্ষতিগ্রস্ত বেড়ীবাঁধ মেরামত করছে পাউবো। রাস্তা ও ঘরের ওপরে গাছ পড়ে রয়েছে। ব্যবসায়ীরা দােকানপাট খুলে ক্ষয়-ক্ষতির হিসাব সহ মালামাল হেফাজত করছে। কৃষি ও মৎস্য চাষীরা জমি ও পুকুরের কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন। অনেকে ঘরবাড়ি মেরামতের কাজ করতে দেখা গছে।

মনপুরা উপজেলার দক্ষিণ সাকুচিয়া রহমানপুর গ্রামের কৃষক আলমগীর জানান, প্রায় ৩০ বছর ধরে কৃষি কাজে সম্পৃক্ত। কৃষিতেই তার জীবন-জীবিকা। ঘূর্ণিঝড় সিত্রাং এর আঘাতে লন্ডভন্ড হয়েছে তার জীবিকা।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা ইলিয়াছ মিয়া জানান, ঘূর্ণীঝড়ের তান্ডবে প্রবল বাতাসের তীব্রতায় উপজেলার ৩ শত বাড়ি-ঘর সম্পূর্ন ক্ষতি হয়। এছাড়াও ৫ শতাধিক আংশিক বাড়ি-ঘরের ক্ষতি হয় বলে তিনি জানান। তবে ক্ষতির পরিমান আরোও বাড়তে পারে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আবু হাসনাইন জানান,ঘূনিঝড় সিত্রাং এর প্রভাবে উপজেলা ১০০ হেক্টর আমন ও ৫০ হেক্টর সবজির খামারে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।প্রাথমিক প্রতিবেদনে ক্ষয়ক্ষতির চিত্র পাওয়া গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের তালিকা তৈরির কাজ চলছে। কাজ শেষে ক্ষতির প্রকৃত চিত্র পাওয়া যাবে। তালিকা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে। সরকারি সহায়তা পেলে তালিকায় অনুযায়ী স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার সঙ্গে কৃষকদের মাঝে বিতরণের ব্যবস্থা করা হবে।

উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা ভিক্টর বাইন জানান, ঘূনিঝড়ের প্রভাবে নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে বন্যানিয়ন্ত্রন বেড়িবাঁধ অতিক্রম করে উপজেলা লোকায়ত পানি প্রবেশ করে।এতে মনপুরা ২৫০ পুকুর ও ২০ টি মাছের ঘের পানিতে তলিয়ে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত পুকুর মালিক ও ছোট-বড় মাছ চাষিদের তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে। সরকারি সহায়তা পেলে ক্ষতিগ্রস্তদের সাহয্য করা হবে।

এই ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) আশিষ কুমার জানান, মনপুরা উপজেলায় ঘূর্ণিঝড় সিত্রাংয়ের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরুপনে কাজ চলছে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাৎক্ষনিক ১২ মেট্রিক টন চাউলসহ ৮০ বস্তা শুকনো খাবারের প্যাকেট বরাদ্ধ দেওয়া হয়ে।

ক্যাপশন-মনপুরায় ঘূর্ণীঝড়ের আঘাতে সড়কে ও বাড়ির ওপর গাছ পড়ে রয়েছে। এতে চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হছে।

You might like