মধ্যরাতে শেষ হচ্ছে ২২ দিনের মৎস্য অবরোধ : মাছ শিকারে প্রস্তুত উপকূলীয় জেলেরা

জাকারিয়া জাহিদ, কুয়াকাটা প্রতিনিধি :

আজ শুক্রবার (২৮ অক্টোবর ) টানা ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষে মধ্যরাতে গভীর সমুদ্রে মাছ শিকারে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন পটুয়াখালী উপকূলের জেলেরা। মাছ ধরতে ট্রলার মেরামত, নতুন জাল তৈরি ও পুরোনো জাল সেলাইসহ সকল প্রস্তুতিই শেষ করেছেন তারা। তবে নিষেধাজ্ঞা শেষ হতে চললেও এখনও সহায়তার চাল পাননি জেলেরা। এতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মৎস্যজীবীরা।

প্রতি বছর আশ্বিন মাসের পূর্ণিমার শেষের দিকে গভীর সমুদ্র থেকে উপকূলীয় অঞ্চলের নদীর মোহনায় এসে ডিম ছাড়ে মা ইলিশ। তাই ২০০৬ সাল থেকে মা ইলিশ রক্ষায় ২২ দিন অবরোধ দিয়ে আসছে সরকার। এ সময় সকল ধরনের মাছ শিকার, পরিবহন, মজুদ, ক্রয়-বিক্রয় ও বিনিময় নিষিদ্ধ করেছে মৎস্য অধিদফতর। এবার প্রশাসনের তৎপরতা বেশি থাকায় উপকূল জুড়ে মাছ ধরা পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে।

বন্ধের এ সময়টাতে জেলেদের খাদ্য সহায়তা হিসেবে সরকারের পক্ষ থেকে ২০ কেজি চালসহ দেয়া হয় অন্যান্য আর্থিক সহায়তা। কিন্তু পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার সরকারের বরাদ্দকৃত (ভিজিএফ) চাল এখনও পাননি অধিকাংশ জেলে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মা ইলিশের বাধাহীন প্রজনন এবং সকল প্রজাতির মাছের উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য ৬ অক্টোবর থেকে ২৮ অক্টোবর পর্যন্ত মাছ শিকারে ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে মৎস্য অধিদফতর। শুক্রবার (২৮ অক্টোবর )রাত ১২টার পরপরই মৎস্যজীবীরা নেমে পড়বেন রূপালী ইলিশের সন্ধানে।
দেশের অন্যতম মৎস্য বন্দর আলীপুরের জেলে সিদ্দিক, বেল্লাল ও রুহুল আমিন মাঝি বলেন, সরকার ঘোষিত ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা আমরা পালন করেছি। আমরা ইতোমধ্যে ইলিশ ধরার সকল প্রস্তুতিও শেষ করেছি। নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ার অপেক্ষায় আছি।

নৌপুলিশ কুয়াকাটা ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আখতার মোর্শেদ বলেন, গত কয়েক বছরের তুলনায় জেলে ও মৎস্য নেতারা অনেক সচেতন। বেশিরভাগ জেলেই ২২ দিনের অবরোধ সফল করতে আমাদের সহযোগিতা করেছেন।’

কলাপাড়া উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা অপু সাহা বলেন, বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনা ঘটলেও এবারের ২২ দিনের অবরোধ সফল হয়েছে। তবে জেলা পরিষদ নির্বাচন ও ঘূর্ণিঝড় সিত্রাংয়ের কারণে আমরা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সব জায়গায় চাল দিতে পারিনি। আগামী কয়েকদিনের মধ্যে উপজেলার জেলেদের কাছে চাল পৌঁছে দিতে পারবো বলে আশা করছি।

You might like