বুড়িগঙ্গা রক্ষায় কী ব্যবস্থা?

সম্পাদকীয়

ঢাকা বুড়িগঙ্গা নদীর তীরে।-বাক্যটি ছোট বেলা থেকেই আমরা পড়ে আসছি। এমনকি ইংরেজিতেও অনুবাদ করেছি। এ কথাটি আমরা সকলেই বিশ্বাস ও স্বীকার করবো। এটা ভাবতেই ভালো লাগে যে, ঢাকা রাজধানী একটি নদীর তীরে অবস্থিত। নদী হলো মায়ের মতো। জড়িয়ে রাখে মাতৃস্নেহে; ঢাকা শহরকে। কিন্তু মাকে যেভাবে আঘাত করা হচ্ছে দিনের পর দিন; তাতে মায়ের কাছ থেকে কেমন পরিচর্যা আশা করা যায়! এখন শুধু প্রশ্ন যে, বুড়িগঙ্গা নদী কতটুকুই বা ঢাকা শহরকে স্বাস্থ্যসম্মতভাবে উপকার করছে? হ্যাঁ, অনেকভাবেই উপকার করছে; কিন্তু উপকারি নদীকে আমরা কতোটুকুই বা যত্ন নিতে পারছে!

গত ৩১ অক্টোবর ২০২৪ নয়াদিগন্তে ‘বুড়িগঙ্গা দূষণে দায়ী ২৫১টি অপরিশোধিত পয়োনিষ্কাশন সংযোগ!’ শিরোমে সংবাদটি আমাদের নজরে আসে। সংবাদটি পড়ে আমরা হতাশ হয়েছি। পাঠকমাত্রই কষ্ট পেয়েছেন নদীর এহেন অবস্থা জেনে। সংবাদমাধ্যমে আমরা জানতে পারলাম যে, দেশের সবচেয়ে দূষিত নদীগুলোর অন্যতম বুড়িগঙ্গা। এটির মাত্র ছয় কিলোমিটারের মধ্যে ২৫১টি পাইপলাইনের মাধ্যমে সরাসরি অপরিশোধিত বর্জ্য এসে মিশছে। এ নদীর দূষণের ৩০ থেকে ৪০ ভাগ হচ্ছে এসব পাইপলাইনের মধ্যে দিয়ে।

অতীতেও ঐসব পাইপলাইন সম্পর্কে সতর্ক করা হয়েছিলো বা সংবাদ প্রকাশিত হয়েছিলো। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয়নি। প্রতিদিনই অপরিশোধিত বর্জ্য ফেলা হচ্ছে বুড়িগঙ্গা নদীতে। আমরা আরো জেনেছি যে, রিভার অ্যান্ড ডেল্টা রিসার্চ সেন্টার (আরডিআরসি) পরিচালিত ‘ঢাকা নদীর দূষণ পরিস্থিতি’ শীর্ষক গবেষণায় বাম তীরে (পুরান ঢাকা) ১৩৭টি এবং ডান তীরে (কেরানীগঞ্জের দিকে) ১১৪টি পয়োনিষ্কাশন লাইন পাওয়া গেছে। সম্প্রতি মাঠপর্যায়ে তদন্তের মাধ্যমে পয়োনিষ্কাশনের সংযোগগুলো চিহ্নিত করা হয়েছে।

এখন যদি বাস্তবায়ন করা যায় তাহলেই আমরা নিশ্চিত যে, বুড়িগঙ্গা যৌবন ফিরে পাবে। এতে খুব বেশি সরকারকে অর্থ খরচ করতে হবে বলে মনে করি না। অপরদিকে ঐসব পাইপগুলো ব্যবহারকারীরাও যদি সচেতন হয় তাহলে বড়ই উপকার পাওয়া যাবে। এটা স্পষ্ট যে, যদি ২৫১টি পয়োনিষ্কাশন সংযোগ বন্ধ করা যায়, তাহলে বুড়িগঙ্গা নদীর ৩০ থেকে ৪০ ভাগ দূষণ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে। আবার শুধুমাত্র এসবই বুড়িগঙ্গা দূষণ দায়ী নয়! আরো দায়ী রয়েছে। বুড়িগঙ্গা নদী দূষণের প্রাথমিক উৎস অপরিশোধিত পয়োবর্জ্য নিষ্কাশন, শিল্প বর্জ্য, বর্জ্য ফেলার পয়েন্ট এবং নৌ-যান থেকে নির্গত বর্জ্য। অতএব, সবদিক চিন্তা করেই আমাদের এগিয়ে যেতে হবে। কেননা পয়োনিষ্কাশন নিয়ন্ত্রণ না করলে নদীর পানি কখনোই পরিষ্কার বা ব্যবহারযোগ্য হবে বলে মনে করি না।

সংবাদ মাধ্যমে আমরা আরো জানতে পেরেছি যে, শিল্পকারখানা থেকে অপরিশোধিত বর্জ্য ফেলা হচ্ছে ৯৩টি স্থানে। এর মধ্যে বাম তীরে ৩৫টি এবং ডান তীরে ৫৮টি পয়েন্ট রয়েছে। গবেষণায় আরো দেখা গেছে, নিকটবর্তী নদীগুলোতে অতিরিক্ত দূষণের উৎস চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে তুরাগ নদীর সাথে ৯৯টি এবং বালু নদীর সাথে ১০টি অপরিশোধিত বর্জ্য সংযোগ এবং তুরাগ নদীতে ১৩১টি, টঙ্গী খালে ৫১টি ও বালুতে ৩২টি বর্জ্য ফেলার সংযোগ পাওয়া গেছে। বুড়িগঙ্গায় যে পরিমাণ পানি প্রবাহ হয়, তার ৯০ ভাগ সরবরাহ করে তুরাগ নদী।

গাজীপুরসহ তুরাগ নদীর বিভিন্ন স্থানে দূষিত হচ্ছে। আমরা বুড়িগঙ্গাকে প্রাকৃতিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে বুড়িগঙ্গা ও তুরাগ নদীর তীরে অপরিশোধিত পয়োনিষ্কাশন ও বর্জ্য ফেলা বন্ধ করতে একটি সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নের জন্যে সরকারের প্রতি আহŸান জানাই।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) মতে, বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত নদীগুলোর মধ্যে একটি বুড়িগঙ্গা। প্রতিদিন শহরের ৬০ হাজার ঘনমিটারেরও বেশি বিষাক্ত বর্জ্য এ নদীর পানিতে ফেলা হয়।

এ নদীকে রক্ষার জন্যে এখনই সময়। অন্যথায় পরিস্থিতি আরো ভয়াবহ পর্যায়ে চলে যাবে। একটু সচেতনতা ও সদিচ্ছাই পারে নদীকে রক্ষা করতে। তাছাড়া সরকারের পাশাপাশি বিভিন্ন এনজিও প্রতিষ্ঠানগুলো যদি এ নদীকে রক্ষায় এগিয়ে আসে তাহলে বাস্তবায়ন করা সহজ হবে। আমাদের প্রত্যাশা, বুড়িগঙ্গা নদী বেঁচে থাকুক। তাহলে ঢাকা শহর বেঁচে যাবে। অন্যথায় দূষণ অবস্থায় ঢাকা ও ঢাকার মানুষের বেঁচে থাকা মৃত্যুর শামিল। আমাদের নতুন প্রজন্ম বুড়িগঙ্গা নদীকে যেনো ভালোবাসতে পারে; তারা যেন দুর্গন্ধ পেতে পেতে সুন্দর ‘বুড়িগঙ্গা’ নামক নদীকে অপছন্দ না করে। আমরা দেখতে পেলাম, বুড়িগঙ্গার বর্তমান করুণ পরিস্থিতি; বুড়িগঙ্গা রক্ষায় কী ব্যবস্থা (?) করা যায় সে বিষয়ে পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।

বৃহস্পতিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৪

স্ক্যাবিস বা চুলকানি থেকে রক্ষা পেতে কী করবেন?

ডায়াবেটিস প্রতিকার ও প্রতিরোধে শক্তিশালী ঔষধ

শ্বেতী রোগের কারণ, লক্ষ্মণ ও চিকিৎসা

যৌন রোগের কারণ ও প্রতিকার জেনে নিন

শ্বেতীর সাদা দাগ দূর করার উপায় কি?

You might like