তবুও বাজারে পলিথিন

সম্পাদকীয়

সমস্যাটা কোথায়? এ প্রশ্নটি বোদ্ধা মহল করছেন পলিথিন বিষয়ে। কেননা নিষিদ্ধ হওয়ার পরেও বাজারে পলিথিন আগের মতোই ব্যবহার হচ্ছে। কোনো কোনো মানুষ আমলেই নিচ্ছে না বিষয়টিকে। আবার কেউ কেউ পলিথিন নিষিদ্ধ হয়েছে সেটা জানেও না। আবার কেউ কেউ কেয়ারই করছে না। কেউ কেউ জেনেও ইচ্ছামতোই আগের মতোই পলিথিন ব্যবহার করে চলেছে। অথচ সরকার থেকে এ পলিথিন ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে মনে হচ্ছে ‘বিকল্প লাগবে, না হয় শুধু বিড়ম্বনাই বাড়বে’ এমন বিষয়টি বোঝা যায়। শহরে তো রয়েছেই, গ্রামের বাজারগুলোতেও পলিথিনে সয়লাব। আবার কাঁচাবাজারে নিষিদ্ধ করার পরও দেদারছে পলিথিনের ব্যবহার চলছে; ক্রেতা-বিক্রেতাদের কারও এ নিয়ে কোনো ধরনের বাছবিচার চোখে পড়ছে না। বাজারে এসে বিভিন্ন সবজি কিনছেন; কিন্তু হাতে কোনো ব্যাগ নেই। বাজারের ব্যাগ না থাকায় বিক্রেতা তাকে পলিথিনে করেই দিলেন। আর নির্দ্ধিধায় বাজার করে বাড়িতে ফিরছেন। উদ্দেশ্যহীনভাবে বাজারে আসা এবং পলিথিন ভরে বাজার করা অভ্যাস হয়ে গেছে। হঠাৎ পলিথিন মানুষ যেন মেনেই নিতে পারছে না। আবার জরিমানা করলেও সেটা যথেষ্ট হবে বলে মনে হচ্ছে না; সাধারণ মানুষের জন্যে বিকল্প চিন্তা করা দরকার; অন্যথায় বিড়ম্বনাই হবে মানুষের।

আমরা জানি, পরিবেশের সুরক্ষায় দু’যুগ আগেও পলিথিন নিষিদ্ধ করা হয়েছিলো। তবে তা যেন ভুলেই গেছে মানুষ। অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্বে আসার পর ১ অক্টোবর থেকে সুপারশপে পলিথিন ব্যাগ নিষিদ্ধ করা হয়। পাশাপাশি ১ নভেম্বর থেকে কাঁচাবাজারগুলোতে নিষেধাজ্ঞা দিয়ে অভিযানের কথা জানানো হয়। একই সঙ্গে পলিথিন ও পলিপ্রোপাইলিন শপিং ব্যাগ উৎপাদন, মজুদ, পরিবহন, বিপণন ও ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়। এর বিরুদ্ধে অভিযানও নেমেছে পরিবেশ মন্ত্রণালয়।

পলিথিন জব্দের পাশাপাশি জরিমানাও করা হচ্ছে। তবুও নিষেধাজ্ঞার তিনদিন পর বিকল্প না থাকার অজুহাতে বাজারের পাশাপাশি স্থানীয় ছোট কাঁচাবাজারগুলোতেও পলিথিনে পণ্য দেয়া হচ্ছে আগের মতোই। তবে সুপারশপে পলিথিন ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা আসার এক মাস পর সেখানে অনেকটাই পরিবর্তন চোখে পড়েছে; কিন্তু গ্রামের বাজারগুলোতে তেমন একটা পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে না।

তবে কোনো কোনো স্থানে সচেতন মহলে পলিথিনের বদলে এখন সেখানে কাগজের ঠোঙায় পণ্য দেওয়া হচ্ছে; বিক্রি হচ্ছে কাপড় বা পাটের ব্যাগ। ক্রেতারা বাধ্য হয়ে সেসব ব্যাগ কিনছেন কিংবা বাসা থেকে ব্যাগ নিয়ে আসছেন। চার দেয়ালের সুপারশপে এমন পরিবর্তন আনা সম্ভব হলেও কাঁচাবাজারগুলোর পরিস্থিতি পাল্টানো বেশ কঠিন হবে বলে মনে করছেন ক্রেতা-বিক্রেতারা। আর বাজারে গ্রাহক তো পলিথিন ছাড়া মাল নিতে চায় না-এমন অভিযোগ বিক্রেতাদের। এটা আমরা বুঝতে পারছি যে, অনেকটা গোপনে পলিথিনের বেচাকেনা হচ্ছে; অন্যথায় কোথা থেকে এতো পলিথিন আসছে। তাই কাচাবাজার হতে শুরু করে মাছের বাজারেও পলিথিন ব্যবহার হতে দেখা যাচ্ছে। তবে আশার কথা, আগের চেয়ে পলিথিনের ব্যবহার কমতে দেখেছি; আশা করি আরও কমে আসবে।

আসলে পলিথিন যে কত ক্ষতি সেটা মানুষের বোঝা উচিত। আমরা অপ্রয়োজনেও কিন্তু পলিথিন নেই। একটা বাজারের ব্যাগেই কিন্তু সব একসাথে রেখে বাসায় নিয়ে আলাদা করে রাখা যায়। আমরা অত্যন্ত আনন্দিত যে, নিষিদ্ধ পলিথিন মজুদ ও বাজারজাতের বিরুদ্ধে আগের ঘোষণা অনুযায়ী ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান শুরু করেছে। তবে এ অভিযান যেন গ্রামের বাজারগুলোতেও করা হয়। আমরা জানি, সারা দেশে পলিথিন কারখানায় অভিযান চালিয়ে ‘১ হাজার ৭০০ কেজি’ পলিথিন জব্দ করেছে পরিবেশ অধিদপ্তর।

আমরা বাজারে এখনো পলিথিন দেখতে পাচ্ছি; যা’ অত্যন্ত দুঃখজনক। সরকারিভাবে নিষিদ্ধের পরও অসচেতন মহল পলিথিন ব্যবহার করছে। তাছাড়া পলিথিনের বিকল্প না থাকায় মানুষ পলিথিন ব্যবহার করতে বাধ্য হচ্ছে। কেননা দীর্ঘদিনের অভ্যাস মানুষ ত্যাগ করতে পারছে না; কিন্তু পরিবেশের কথা চিন্তা করে আমাদের পলিথিনের ব্যবহারের অভ্যাস ত্যাগ করতে হবে।

মঙ্গলবার, ১২ নভেম্বর ২০২৪২৭ কার্তিক ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

স্ক্যাবিস বা চুলকানি থেকে রক্ষা পেতে কী করবেন?

ডায়াবেটিস প্রতিকার ও প্রতিরোধে শক্তিশালী ঔষধ

শ্বেতী রোগের কারণ, লক্ষ্মণ ও চিকিৎসা

যৌন রোগের কারণ ও প্রতিকার জেনে নিন

শ্বেতীর সাদা দাগ দূর করার উপায় কি?

You might like