আসছে শীত : গরিবদের জন্যে গরম জামা-কাপড় কিনে দিতে আপনার ইচ্ছাই যথেষ্ট

সম্পাদকীয়

কেউ কেউ একটু কেঁপে কেঁপে গোসল করে পুকুর থেকে ফিরছে। ঠাণ্ডা ঠাণ্ডা লাগছে, ত্বক শুষ্ক হচ্ছে; বোঝা যাচ্ছে আসছে শীত। মধ্যরাত থেকে শীত একটু বেশিই অনুভূত হচ্ছে। বাড়ির দুয়ারে কড়া নাড়ছে শীতকাল। কখনো কখনো শুষ্ক বাতাসের তীব্রতা দেখা যাচ্ছে। আমরা জানি, এ বাতাস মানুষের শরীরে বেশি প্রভাব ফেলে ত্বকে, খসখসে হয়ে ওঠে ত্বক; ঠোঁট, হাত ও পায়ের গোড়ালিও ফাটা ফাটা ভাব দেখা যাচ্ছে। কেউ কেউ খেজুরের রসের জন্যে প্রস্তুতি নিচ্ছে। শীতের জন্যে প্রস্তুতি নিচ্ছি আমরা সকলেই। শীতের হাত থেকে রক্ষা পেতে মানুষ গরম জামা-কাপড় রোদে শুকাচ্ছে!

শীতের সময় ফোম-ভিত্তিক অর্থাৎ ফেনাযুক্ত ক্লিনজার ব্যবহার করে; অবশ্য এটা এড়িয়ে চলা উচিত। তার পরিবর্তে স্টেরাইল অ্যালকোহলের সঙ্গে সিটাইল সমৃদ্ধ একটি ক্লিনজার ব্যবহার করা যেতে পারে। এগুলো ত্বক যেমন পরিষ্কার করে; তেমনি ত্বককে হাইড্রেটেডও করে। ত্বকের আর্দ্রতা বজায় রাখার পাশাপাশি ত্বকের তৈলাক্ত ভাবকে কখনও মুছে দেয় না। মৃদু, ময়েশ্চারাইজিং লেখা ক্লিনজারগুলি এই সময় ব্যবহার করুন।

প্রতিবছরই শীতের মৌসুমের আগমন আমাদের জীবনে একটি বিশেষ পরিবর্তন নিয়ে আসে। বর্ষার রিমঝিম কিংবা গরমের প্রখরতাশেষে যখন ঠাণ্ডা বাতাস বয়ে যায়, তখন আমাদের জীবনযাত্রা, খাদ্যাভ্যাস এবং পোশাকের দিকে নজর দেয়া প্রয়োজন। শীতের আগমনকে স্বাগত জানাতে নিজেদের প্রস্তুত রাখা জরুরী।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শীতের শুরুতে আমাদের সবচেয়ে প্রথমে যেটি করতে হবে তা হলো উষ্ণ জামাকাপড়ের ব্যবস্থা করা। সোয়েটার, স্কার্ফ, টুপি, মোজা এবং হাতের গøাভস খুবই গুরুত্বপূর্ণ। উষ্ণ জামাকাপড় পরে বাইরে বের হলে ঠাণ্ডা থেকে সুরক্ষিত থাকা যায় এবং শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে। তাছাড়া শীতকালীন খাবার আমাদের শরীরকে গরম রাখতে সাহায্য করে। গরম স্যুপ, স্টু, এবং শাকসবজি দিয়ে তৈরি পদের পাশাপাশি শুকনো ফল এবং বাদাম খান। এই খাবারগুলো শুধু শরীরকে উষ্ণ রাখে না, বরং রোগ প্রতিরোধেও সাহায্য করে।

কেননা শীতকালে সর্দি, কাশি, এবং ফ্লুর মতো রোগের প্রবণতা বেড়ে যায়। সঠিক সময়ে ফ্লু ভ্যাকসিন নেয়া উচিত। নিয়মিত ঘুম এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন নিশ্চিত করা, যেমন সঠিক খাদ্যাভ্যাস এবং ব্যায়াম, রোগ প্রতিরোধের জন্য খুবই কার্যকর। আবার শীতকালে ত্বক শুষ্ক হয়ে যেতে পারে, তাই ত্বককে আর্দ্র রাখতে ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করুন।

পাশাপাশি গরম পানি পান করা উচিত। এটি শরীরের আর্দ্রতা বজায় রাখতে সাহায্য করে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় যে, বাড়িতে তাপমাত্রা বজায় রাখতে হিটার ব্যবহার করুন এবং জানালাগুলি সঠিকভাবে বন্ধ রাখুন। ঠাণ্ডা বাতাস যাতে ভেতরে প্রবেশ করতে না পারে সেদিকে খেয়াল রাখুন। অপরদিকে শীতকালীন আবহাওয়ায় বাড়ির পরিচ্ছন্নতা রক্ষা করা গুরুত্বপূর্ণ। ধূলা এবং ময়লা দূর করার জন্য নিয়মিত ঘর পরিষ্কার করুন এবং রোদে জামাকাপড় শুকান। এটি স্বাস্থ্যকর পরিবেশ বজায় রাখতে সহায়ক।

তাছাড়া আনন্দময় মুহূর্ত কাটাতে পারি সবসময়ের জন্যে। শীতকালে পরিবার ও বন্ধুদের সাথে সময় কাটানো আনন্দদায়ক। গরম ককটেল বা কফি তৈরি করুন এবং একসাথে বসে শীতের আবহ উপভোগ করুন। এটি সম্পর্কের বন্ধনকে আরও শক্তিশালী করে। সে সাথে শরীরকে সক্রিয় রাখতে নিয়মিত ব্যায়াম করুন। হাঁটা, যোগ ব্যায়াম বা অন্য কোন ব্যায়াম আপনার স্বাস্থ্য বজায় রাখতে সাহায্য করবে এবং শীতকালীন অলসতা কাটাতে সাহায্য করবে।

শীতের মৌসুম আমাদের জন্য নতুন সুযোগ ও আনন্দ নিয়ে আসে। সঠিক প্রস্তুতির মাধ্যমে এই সময়কে আরও উপভোগ্য এবং স্মরণীয় করে তোলা সম্ভব। তাই, শীত আসছে, প্রস্তুত হওয়া এবং এ সুন্দর মৌসুমের আনন্দ আমাদের গ্রহণ করা উচিত। তবে এসময় আগের বছরের অনেক গরম জামা-কাপড় আমাদের কাজে না লাগতে পারে, সেগুলো আমরা গরীবদের দিয়ে দিতে পারি।

তাহলে তারাও শীতের হাত থেকে রক্ষা পাবে। আমাদের চারিপাশে অনেক গরীব লোক রয়েছে, যারা পরিবারের জন্যে গরম জামা-কাপড় কিনতে পারে না। আবার কারো কারো আর্থিক অবস্থা ভালো থাকায় তাদের একাধিক পোশাকও রয়েছে; অথচ তাদের এতো দরকার নাই। চাইলেই তারা গরিবদের জন্যে গরম জামা-কাপড় কিনে দিতে পারে। প্রয়োজন শুধু শুধু একটু ইচ্ছাশক্তি জাগিয়ে তোলা।

বুধবার, ১৩ নভেম্বর ২০২৪
২৮ কার্তিক ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

স্ক্যাবিস বা চুলকানি থেকে রক্ষা পেতে কী করবেন?

ডায়াবেটিস প্রতিকার ও প্রতিরোধে শক্তিশালী ঔষধ

শ্বেতী রোগের কারণ, লক্ষ্মণ ও চিকিৎসা

যৌন রোগের কারণ ও প্রতিকার জেনে নিন

শ্বেতীর সাদা দাগ দূর করার উপায় কি?

You might like