আটুলিয়ায় কৃষকের আড়াই বিঘা সরিষা কেঁটে নিয়ে গেছে দুর্বত্ত চক্র কামারুল খবিরুল বাহিনীর সদস্যরা

বিশেষ প্রতিবেদক :

যশোর জেলার ভারতীয় সীমানা ঘেঁষা গঙ্গানন্দপুর ইউনিয়ন। ঝিকরগাছা উপজেলার এই এলাকার মানুষ ভাল নেই। গ্রামে গ্রামে পুরুষ ঘরছাড়া। কৃষকের জমির ফসল কেঁটে নিয়ে যাচ্ছে দুর্বত্তরা।

অভিযোগ উঠেছে প্রকাশ্যে দিবালোকে এই ইউনিয়নের আটুলিয়া গ্রামের বজলে ডাক্তারের ছেলে তরিকুল ইসলামের আড়াই বিঘা জমির সরিষা কেঁটে নিয়ে গেছে দুর্বত্তরা।

বুধবার সকাল থেকে রুহুল আমিন নুনুর ছেলে খবির, রফিকুল ইসলাম বুড়োর ছেলে বাবুল, আয়ুবের ছেলে জসিম, শাহজাহানের ছেলে মাসুদসহ ২৫/৩০ দুর্বত্ত সবার চোখের সামনে তরিকুলের জমির সব সর্ষে কেঁটে নিয়ে যায়।

ঐ এলাকার সাধারণ মানুষ বলেছেন, কোন মানুষ নিরাপদ নয়। রাতে বাড়ি বাড়ি বাহিনীর সদস্যরা যাচ্ছে আর চাঁদা ধরছে। আদায় করছে। জানা যায় এরা নিজেদের বিএনপি দাবি করছে। তবে ইউনিয়ন বিএনপির নেতারা বলেছেন ওরা চিন্নিত মাদক কারবারি ও সন্ত্রাসী।

খোঁজ নিতে জানা যায়, আটুলিয়ার আব্দুর রহমান নুনুর তিন ছেলে, কামরুল, আনারুল ও খবিরুল সন্ত্রাসী চক্রটির পরিচালক। এদের সাথে আছে আটুলিয়ার আব্দুল ফকিরের মেয়ে আম্বি। বাহিনিটি চালায় ঝিকরগাছা উপজেলার মাগুরা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি জাহিদ। কায়েমকোলা গোলদারপাড়ার জাহিদ বিএনপি নেত্রী সাবেরা নাজমুল মুন্নীর কাছের লোক হিসাবে পরিচিত।

এর আগেই জমি দখল, একের পর এক চাঁদাবাজি, সাধারণ মানুষকে অযথা মারধোর করছে চিন্নিত একটি চক্র। ইউনিয়নের গঙ্গানন্দপুর, গোয়ালহাটি, আটুলিয়া, শ্রীচন্দ্রপুর, গুলবাকপুর, পাশের চৌগাছা উপজেলার ধুলিয়ানিসহ তাবৎ এলাকায় এখন ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে অসামাজিক এই চাঁদাবাজ মাদক কারবারি চক্র।

বুড়োর ছেলে বাবুল, শাহাজানের ছেলে মাসুদ ও নুনুর ছেলে খবির গত ২৪ ডিসেম্বর আবু খায়েরের ছেলে রাকিবের নিকট হতে মোবাইল ছিনতাই করার চেষ্টা করে, মোবাইল নিতে না পেরে রাকিবকে বেদম মার-পিট করে রাস্তায় ফেলে রেখে চলে যায়। গ্রামের সৈয়দ আলীর ছেলে রফিকুলের নকট হতে দুইবার চাদা নিয়েছে। এই চক্ররাই মাস দেড়েক আাগে ধুলিয়ানী গ্রামের এক মালোকে বেধড়ক পিটিয়ে আহত করে।
৩০ ডিসেম্বর গুলবাগপুর গ্রামের ফজরের ছেলে ট্রাক্টর চালক ও বিএনপির কর্মী মোঃ জামারুলকে এই একই চক্র প্রচন্ড মারপিট করে আহত করে ফেলে রেখে যায়।

এই সব বিষয়ে থানায় মোবাইল এর মাধ্যমে অভিযোগ করা হলেও থানা হতে কোন ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি, সেজন্য এই চক্রটি এখন আরও বেপরোয়া।

আটুলিয়া গ্রামের অতি সাধারণ খেটে খাওয়া ঝামেলামুক্ত মানুষ। এরা সাত সকালে মাঠে চলে যায় তারপর জমিতে চাষাবাদ করি। ২/১ দিন গ্রামের হাট বাজারে দোকানে স্বল্প সময় চা খায়।

অতি সম্প্রতি এই গ্রামে ধারাবাহিক চাঁদাবাজি শুরু হয়েছে। এক বার দিয়েও মুক্তি মিলছে না। বার বার চাঁদা ধার্য করে আদায় করছে এই চক্রের সদস্যরা। চাঁদা দেওয়ার পরেও বাড়ি থেকে ধরে নিয়ে যেয়ে মারধোর করা হচ্ছে নিরীহ গ্রামবাসীকে। পিস্তল, শর্টগানসহ প্রায় ৩০/৩৫ জন এক সাথে হামলা করে গ্রামে এরা তান্ডব সৃষ্টি করছে।

একই সাথে প্রকাশ্যে ঔ চক্রের সদস্যরা অবৈধ মাদক দ্রব্য ফেন্সিডিল, ইয়াবা ট্যাবলেট, গাঁজা, মদ বিক্রি করছে। এক কথায় আটুলিয়াসহ আসেপাশের কয়েকটি গ্রাম এখন চলাচলের সন্পূর্ণ অনিরাপদ। নারী, পুরুষ, কিশোর কিশোরী বা বয়োবৃদ্ধ কারো এখানে নিরাপত্তা নেই।

গঙ্গানন্দপুরের চারজন এবং আটুলিয়ার ২০/২৫ জনের একটি মাদক কারবারি ও চাঁদাবাজ চক্র সাধ্যরণ গ্রামবাসীকে অস্ত্রের মুখে জীম্মি করে নিয়মিত চাঁদা আদায় করছে। না দিলে বাড়ি থেকে ধরে এনে মারধর করে তাঁদের কাছ থেকে স্ট্যাম্প এ আগে স্বাক্ষর পরে লেখালেখি করা হচ্ছে।

চাঁদা দিয়েও মারধর ও অহেতুক হেনস্থার ভয়ে অনেকেই গ্রাম থেকে জীবন রক্ষায় অন্যত্র চলে গেছেন। আটুলিয়া গ্রামের বাসিন্দা যারা চাঁদা দিতে বাধ্য হয়েছেন তারা হলেন, ১) তছির মিয়া, পিতা মৃত লুৎফর রহমান ২) মালেক পিতা মৃত গুজু * মালেক চাঁদা দিয়ে সাত দিন পরে ভয়ে স্ট্রোক করে মারা যায়।৩) ময়না, পিতা আনজার ৪) আবু খায়ের, পিতা রওশন ৫) হান্নান, পিতা নজরুল ৬) ইসলাম, পিতা বাহার আলী ৭) নবীছদ্দি, পিতা ইসলাম ৮) জাইদুল, পিতা হোসেন আলী ৯) মোমিনুর, পিতা খলিলুর।

সন্ত্রাসী, চাঁদাবজরা গ্রামের বজলে ডাক্তারের ছেলে তরিকুল ইসলামের লিজ জমি জোর করে জবর দখল করেছিল। এখন পৃথক জমির সরিষা কেঁটে নিয়ে গেছে।

এই চাঁদাবাজ চক্র খলিলুরের ছেলে আমিনুর কে ধরে মারধর করে স্ট্যাম্প করে নিয়েছে। এই চক্র মাদ্রাসা শিক্ষক শাহিনের কাছে চাঁদা দাবি করেছে। না দিলে তাকে মেরে ফেলার হুমকি দিয়েছে।

এই অসামাজিক চাঁদাবাজ মাদক কারবারি সন্ত্রাসী চক্রটির নেতৃত্ব দিচ্ছে গঙ্গানন্দপুরের মাঠুয়া পাড়ার নসু। তার সেকেন্ড ইন কমান্ড আজিজ। এছাড়া আটুলিয়ার চার ইনচার্জ হচ্ছে বাবুল, দুই ভাই আনারুল ও কামারুল। এছাড়া নারী শাখার প্রধান হচ্ছে, আম্বি। আর কয়েক উপদেষ্টা হচ্ছে জহুরুল পিং আইতা গঙ্গানন্দপুরের ছেলে আইতার ছেলে জহরুল। এদের কাছে আগ্নেয়াস্ত্র পিস্তল, বন্দুক, গাছিদা হাসুয়া আছে। আরো কয়েকজন হচ্ছে গঙ্গানন্দপুরের আদম, মৃত বাবর আলীর ছেলে কামারুল, ছুটিপুরের আবু বককারের ছেলে লাল্টু, সাহাদত হোসেন বড় খোকার ছেলে সালাম। অতিয়ারের ছেলে ইয়া।

চক্রের আরো সদস্য, ১) নসু পিং মৃত রমজান আলী বাহিনী প্রধান গ্রাম গঙ্গানন্দপুর মাটুয়া পাড়া ২) আজিজ পিতা বশির মাস্টার মাটুয়া পাড়া ( আজিজ ঝিকরগাছায় ছিল। প্রতিদিন দুটো ফেনসিডিল লাগে) ৩):হালিম মৃত আনচ্ছার ধর্মতোলাতে থাকতো ৪) আলী হোসেন পিতা মৃত ইসার আলী ৫) আনারুল, পিতা মৃত আব্দুর রহমান নুনু, গ্রাম আটুলিয়া ৬) কামারুল, পিতা মৃত আব্দুর রহমান নুনু, সাং আটুলিয়া ৭) খবিরুল, পিতা মৃত আব্দুর রহমান নুনু, আটুলিয়া ৮) বাবুল, পিতা রফিকুল বুড়ো ৯) লতা, পিতা আব্দুল ফকির, ১০) এরশাদ, পিতা রফি মেম্বার ১১) শহিদুল, পিতা মিজা ১২) মাসুদ, পিতা শাহাজান ১৩) সাহাবুর, সারু হক ১৪) ইমন, পিতা আনিছুর ১৫) আশিকুর, পিতা আসাদুল ১৬) জসিম, পিতা আয়ুব হোসেন ১৭) কাসেম, পিতা জোহর ভুক্তভুগি এসব মানুষ জনতাকে নিরাপদে বাপ্ দাদার ভীটায় বসবাস করতে দিতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন।

প্রকাশ : শুক্র বার, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৫

সোরিয়াসিস হলে কী করবেন?

স্ক্যাবিস বা চুলকানি থেকে রক্ষা পেতে কী করবেন?

ডায়াবেটিস প্রতিকার ও প্রতিরোধে শক্তিশালী ঔষধ

শ্বেতী রোগের কারণ, লক্ষ্মণ ও চিকিৎসা

যৌন রোগের কারণ ও প্রতিকার জেনে নিন

চর্মরোগ দাউদ একজিমা বিখাউজের কারণ ও প্রতিকার জেনে নিন

চর্মরোগ দাউদ একজিমা বিখাউজের কারণ ও প্রতিকার জেনে নিন

You might like