

স্নেহা তাসনীম :
বর্তমান তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর বিশ্বে ব্লকচেইন (Blockchain) একটি বহুল আলোচিত শব্দ। মূলত ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে এই প্রযুক্তি জনপ্রিয়তা পেলেও, আজ এটি আর শুধু ডিজিটাল মুদ্রার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। এটি এখন একটি বিপ্লবাত্মক প্রযুক্তি হিসেবে পরিচিত, যা লেনদেন, তথ্য সংরক্ষণ ও যাচাইয়ের এক নিরাপদ ও স্বচ্ছ উপায় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।ব্লকচেইন হলো একটি বিকেন্দ্রীভূত ডিজিটাল খাতা (distributed digital ledger), যেখানে তথ্য ব্লকের (Block) আকারে সংরক্ষিত হয় এবং একটির সঙ্গে অন্যটির শৃঙ্খলাবদ্ধ সংযোগ থাকে (Chain)। প্রতিটি ব্লক একবার তৈরি হলে তা পরিবর্তন বা মুছে ফেলা প্রায় অসম্ভব।

এই প্রযুক্তি কোনো একক কেন্দ্রীয় সার্ভারের ওপর নির্ভর করে না—বরং এটি বিশ্বব্যাপী অসংখ্য কম্পিউটারে বিতরণ করা হয়। ফলে একে হ্যাক করা বা জালিয়াতি করা অত্যন্ত কঠিন।ব্লকচেইনের সবচেয়ে আলোচিত প্রয়োগ হলো বিটকয়েন ও অন্যান্য ক্রিপ্টোকারেন্সি। এখানে প্রতিটি লেনদেন একটি ব্লকে রেকর্ড হয় এবং সেটি সবার কাছে দৃশ্যমান থাকে। মধ্যস্থতাকারী ছাড়াই এক ব্যক্তি অন্য ব্যক্তির কাছে অর্থ স্থানান্তর করতে পারে, ফলে খরচ কমে ও লেনদেন দ্রুত হয়।এছাড়া ব্লকচেইন প্রযুক্তি ব্যাংকিং খাতে স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা এনেছে। অনলাইন লেনদেন, আন্তর্জাতিক অর্থপ্রেরণ, স্মার্ট চুক্তি (smart contracts)—সব ক্ষেত্রেই এর ব্যবহার বাড়ছে। স্মার্ট কনট্রাক্ট হলো এমন এক চুক্তি, যা পূর্বনির্ধারিত শর্ত পূরণ হলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে কার্যকর হয়। এতে তৃতীয় পক্ষের প্রয়োজন পড়ে না এবং প্রতারণার সুযোগ থাকে না।ব্লকচেইনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রয়োগ হচ্ছে সরকারি নথিপত্র সংরক্ষণে।
জমির মালিকানা, জাতীয় পরিচয়পত্র, ভোটার তালিকা কিংবা পাসপোর্ট তথ্য—এসব যদি ব্লকচেইনের মাধ্যমে সংরক্ষিত হয়, তবে জালিয়াতি ও কারচুপি অনেকাংশেই রোধ করা সম্ভব। কিছু দেশ ইতিমধ্যেই এই প্রযুক্তি দিয়ে ভোটিং সিস্টেম পরীক্ষামূলকভাবে চালু করেছে।স্বাস্থ্যখাতে রোগীর ইতিহাস, প্রেসক্রিপশন, ডায়াগনোসিস রিপোর্ট ইত্যাদি ব্লকচেইনে সংরক্ষণ করলে তা পরিবর্তনের সুযোগ থাকে না এবং যে কোনো সময় ডাক্তার তা যাচাই করতে পারেন। শিক্ষাক্ষেত্রেও ডিগ্রি, সনদপত্র ইত্যাদি ডিজিটালভাবে সংরক্ষণের মাধ্যমে ভুয়া সার্টিফিকেট তৈরি রোধ করা সম্ভব।ব্লকচেইনের অন্যতম বড় সুবিধা হলো—স্বচ্ছতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা। প্রতিটি তথ্য সর্বসমক্ষে দৃশ্যমান হওয়ায় কেউ চাইলেও গোপনে তা পরিবর্তন করতে পারে না। আবার, বিকেন্দ্রীকরণ প্রযুক্তির কারণে একটি কেন্দ্রে আক্রমণ করে গোটা সিস্টেম ধ্বংস করার সুযোগ থাকে না।
তবে সব প্রযুক্তির মতো ব্লকচেইনকেও চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হচ্ছে। এর একটি বড় সমস্যা হলো—প্রচুর বিদ্যুৎ খরচ ও কম্পিউটিং শক্তির প্রয়োজন, বিশেষত প্রুফ-অব-ওয়ার্ক ভিত্তিক ব্লকচেইনে। তাছাড়া এই প্রযুক্তি এখনো অনেকের কাছে জটিল ও দুর্বোধ্য, ফলে সাধারণ ব্যবহারে বিস্তৃতি পেতে সময় লাগছে।
ব্লকচেইন কেবল একটি প্রযুক্তি নয়, এটি ভবিষ্যতের নিরাপদ, স্বচ্ছ ও নির্ভরযোগ্য ডিজিটাল অবকাঠামোর ভিত্তি। সরকার, বেসরকারি খাত ও নাগরিকদের এই প্রযুক্তির যথাযথ ব্যবহার ও গ্রহণযোগ্যতা নিশ্চিত করতে উদ্যোগ নিতে হবে। সঠিক নীতিমালা, জনসচেতনতা ও গবেষণার মাধ্যমে ব্লকচেইন হতে পারে আগামীর প্রযুক্তিনির্ভর সমাজ গঠনের মজবুত ভিত।
স্নেহা তাসনীম, শিক্ষার্থী, চাঁদপুর সরকারি মহিলা কলেজ।
বৃহস্পতিবার, ১৫ মে ২০২৫
স্ক্যাবিস বা চুলকানি থেকে রক্ষা পেতে কী করবেন?
ডায়াবেটিস প্রতিকার ও প্রতিরোধে শক্তিশালী ঔষধ
শ্বেতী রোগের কারণ, লক্ষ্মণ ও চিকিৎসা
যৌন রোগের কারণ ও প্রতিকার জেনে নিন
চর্মরোগ দাউদ একজিমা বিখাউজের কারণ ও প্রতিকার জেনে নিন
চর্মরোগ দাউদ একজিমা বিখাউজের কারণ ও প্রতিকার জেনে নিন











