
পুরুষ কি কাঁদে?
ক্ষুদীরাম দাস
অবাক নারী প্রশ্ন ছুঁড়ে, “পুরুষ কি কাঁদে কভু?”
অশীতিপর বৃদ্ধ হাসে, “কাঁদে সে নিরবধি, শুনো তবে সবি প্রভু!”

পুরুষ কাঁদে, যখন প্রিয়তমা করে ঘর অন্য নামে,
হৃদয় ভাঙে নিঃশব্দে, জ্বলে পুড়ে সে দাহে।
কাঁদে সে পিতা, যখন কন্যা হয় পরের ঘরের বধূ,
কলিজা ছেঁড়া ধনটি যখন কাঁদে শশুরবাড়িতে অবহেলা শুধু।
পুরুষ কাঁদে, সন্তান যদি না হয় মানুষ গড়া,
অভাবের তাড়নায় যখন প্রিয়জনের মুখে হাসি না ফোটে ধরা।
জীবিকার টানে জন্মভ‚মি ছেড়ে প্রবাসে যখন রয়,
একাকিত্ব আর অসহায়ত্বে বুকটা ফেটে যায়।
কিন্তু পুরুষ তার অশ্রæ কাউকে দেখতে দেয় না সহজে,
সে কাঁদে আঁধারের অতল গহŸরে, যখন সে একা খোঁজে।
বালিশের কোণে মাথা রেখে কাঁদে নিশিদিন,
তার অশ্রæ বের হয় না নয়ন থেকে, হৃদয় করে লীন।
সেই অশ্রæ হয় দীর্ঘশ্বাস, কখনো নিশ্চল নীরবতা,
চোখের জলে নয়, চামড়ায় ভাঁজে ফুটে ওঠে জীবনের কথা।
ভেতরটা কেঁপে ওঠে তার, চুলদাড়ি সব পাকে,
পুরুষের কান্না শুধু পুরুষই বোঝে, ভেতরে ভেতরে থাকে।
এতটুকু বলে বৃদ্ধ পুরুষ কেঁদে ওঠেন নিজে,
“হ্যাঁ, এভাবেই পুরুষ কাঁদে, কাঁদতে থাকে মিছে।”
রোববার, ১৬ নভেম্বর ২০২৫














