নতুন কর্মস্থলে ভালো থাকবেন প্রিয় দিদার ভাই

সজীব খান :

চাঁদপুর সদর উপজেলা পরিষদের সিএ মোঃ দিদার হোসেন দীর্ঘ প্রায় ১৩বছর সততা ও নিষ্ঠার সাথে থেকে  চাঁদপুরে চাকরি করেছেন, মানুষের হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছেন, ভালোবাসা দিয়েছেন  ভালোবাসা নিয়েছেন, একজন উদার মনি সরকারি আমলা হিসেবে আপনার জনতার সেবার মাঝে নিজেকে বিলিয়ে দিয়েছিলেন।

সরকারি চাকরির বিধি মতে বদলি হওয়াটা অনিবার্য, কিন্তু এ বদলি হওয়ার মাঝেও কিছু স্মৃতি আটকে থাকে হৃদয় মাঝে,চলার পথে কাজের ক্ষেত্রে, কখন হয়তো বাকবিতর্ক মনমালিন্য হওয়াটা স্বাভাবিক, একটা চেয়ারে যখন বসে দায়িত্ব পালন করা হয়,   তখন সবার হয়তো উপকার করা সম্ভব হয় না। এটাই বাস্তব, বাস্তব সত্য।

আমার এই দীর্ঘ সংবাদ জগতে প্রতিদিনই আমি সদর উপজেলা পরিষদের সিএ দিদার হোসেনের রুমে গিয়ে অনেকটা সময় অতিবাহিত করা ছিল আমার নিয়মিত রুটিন,  তার বদলির বিষয়টা যখন জানতে পারলাম, তখন যেন মায়ার জালে নিজেকে আরও বেশি আটকে রাখলাম, এতটা বছর যার কক্ষে গিয়ে বসে  পত্রিকা দেখা থেকে শুরু করে রং চা খাওয়া পর্যন্ত ছিল নিয়মিত, সে লোকটা বদলি।

চাঁদপুর সদর উপজেলার একজন দক্ষ সিএ চাকরি জনিত বিদায় নিয়ে হাইমচর উপজেলায় যোগদান করবেন, তার মেধাশ্রম দিয়ে চাঁদপুরের মত হাইমচর উপজেলার মানুষের কল্যাণে হয়তো নিজেকে নিয়োজিত রাখবেন, সেখানে মানুষের হৃদয়ে হয়তো ধীরে ধীরে স্থান করে নিবেন, কিন্তু আপনার শূন্যতা হয়তো থেকে যাবে আজন্ম।

আমার এ লেখা পড়ে আপনার হয়তো অনেকে ধারণা করবেন, দিদার থেকে আমি  অনেক সুবিধা নিয়েছি, কিন্তু বুকে হাত দিয়ে বলি শুধু মিষ্টি হাসি আর ভালবাসা ছাড়া কোন কিছুই তার থেকে আমি সুবিধা নেইনি নেওয়ার চেষ্টাও করিনি।

দিদার হোসেন দীর্ঘ সময়ে চাঁদপুরের আপামর জনগনের সেবা করেছেন, উপকারে এসেছেন। তার বদলি হওয়াটা সত্যি হৃদয়টা ধক্কল মেরে হৃদয় বিদায়ক হয়ে পড়লাম, মনে হয়েছে আমি যেন কি হারিয়ে ফেলেছি, আমি একজন মাঠ পর্যায়ের সংবাদ কর্মী, এই সংবাদকর্মী হিসেবে  তার সাথে আমার পরিচয়। দীর্ঘ সংবাদ জগতে আমি সরকারি অনেক কর্মকর্তাকে আসতে যেতে দেখেছি, বিদায় সংবর্ধনায় গিয়েছি, কখনো এভাবে হৃদয় ভেঙ্গে যায়নি, সরকারি চাকরিতে একজন কর্মকর্তা আসবে, যাবে এটাই নিয়তির নিয়ম। সরকারি চাকরি বদলি অনিবার্য।

তারপরও কিছু সম্পর্কের কারণে কিছু লিখতে হয়, বলতে হয়, দিদার হোসেন চাঁদপুরে দায়িত্ব পালনকালে আমার মনে হয়না তারা ধারা কারো কোন কারো ক্ষতি হয়েছে।
সদর উপজেলা সিএ হওয়ার কারণে উপজেলার চৌদ্দটি ইউনিয়নের  জনপ্রতিনিধি রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, সমাজসেবক, আপামর জনতা সবাই তার কাছে আসতেন, হাসিমুখে সবারই সেবা দিয়েছেন, কথা বলে বুঝিয়ে দিয়েছেন।

চাঁদপুরে গণমাধ্যম কর্মীদের সাথে  সব সময় সুসম্পর্ক রেখেছেন, কোন সংবাদ কর্মীর সাথে আমার মনে হয়না বাকবিতর্ক হয়েছে, উপজেলা প্রশাসন যেই এসেছে, তার সাথে ও সুসম্পর্ক রেখে তিনি দায়িত্ব পালন করেছে, একজন দক্ষ সরকারি কর্মকর্তা আসলে এমনটাই হয় উচিত আমি মনে করি।
আমার দেখায একজন সৎ আদর্শবান সরকারি কর্মকর্তা তিনি।

সবাই ওনার প্রশংসাই সব সময় করতেন। একজন ভালো লোকের প্রস্থানে কিছুটা হলে ও হৃদয় অশ্রুসিক্ত  হবে, এটাই বাস্তব, বাস্তব জীবন। কোন সরকারি কর্মকর্তাই যাওয়ার সময় হাসি মুখে বিদায় নেয়নি, কিছুটা হলেও হৃদয় অশ্রুসিক্ত  হয়ে বিদায় নেয়, কারণ দীর্ঘ সময়ের সহকর্মীসহ পরিচিত শুভাকাঙ্ক্ষীদের ছেড়ে যেতে হয়। প্রিয় দিদার ভাইয়ের বিদায় আমি অশ্রুসিক্ত হয়েছি

ভালো একজন মানুষকে নিয়ে না লিখলে মনে হয় নিজেকে যেন একজন অপরাধী,  তাই এই সংক্ষিপ্ত লেখা।  আমি কোন পক্ষপাতিত্ব করছি না দালালিও করছি না, একজন গণমাধ্যমকর্মী হিসেবে মাঠ পর্যায়ের সবাই তা বলবে তার সম্পর্কে।

পূর্বের কর্মস্থলের মত নতুন কর্মস্থলেও আপনার সুনাম বয়ে আসবর এটাই প্রত্যাশা করছি, ভালো থাকবেন সব সময় প্রিয় দিদার ভাই।

 

মঙ্গলবার, ১৮ নভেম্বর ২০২৫

You might like