

সম্পাদকীয়:
প্রিয় সময়ে ‘ ট্রাভেল এজেন্সি আইন পরিবর্তনের জন্য মানববন্ধন’ পাঠকদের জন্যে চমৎকৃত। কেননা এ দাবি উপযুক্ত সময়ের দাবি বটে। প্রকাশিত সংবাদের মাধ্যমে আমরা জানতে পেরেছি। সম্প্রতি রাজশাহী শহরে ট্রাভেল এজেন্সি নিবন্ধন ও নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত খসড়া আইনের কিছু ধারা পরিবর্তনের দাবিতে যে মানববন্ধন কর্মসূচী পালিত হলো, তা’ আমাদের দেশের ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার সূত্রপাত করলো। বৃহত্তর রাজশাহী অঞ্চলের শতাধিক ট্রাভেল এজেন্সি মালিকের স্বতঃস্ফ‚র্ত অংশগ্রহণ প্রমাণ করে যে খসড়া আইনে প্রস্তাবিত কিছু নিয়মাবলীর কারণে এ শিল্পে একটি বড় ধরণের উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।

বক্তাদের মূল আপত্তির জায়গা হলো খসড়া আইনে প্রস্তাবিত ১০ লাখ টাকার জামানত এবং বিটুবি (বিজনেস টু বিজনেস) ব্যবসা নিষিদ্ধের ধারা। দেশের ট্রাভেল এজেন্সিগুলোর বেশিরভাগই ছোট বা মাঝারি আকারের প্রতিষ্ঠান। এদের অনেকের পক্ষে এতো বড় অঙ্কের জামানত, অর্থাৎ ১০ লাখ টাকা, এককালীন জমার ব্যবস্থা করা রীতিমতো অসম্ভব। এ ধরণের বাধ্যতামূলক জামানত ছোট ট্রাভেল এজেন্সিগুলোকে বন্ধ করে দিতে বাধ্য করবে এবং নতুন যারা এ শিল্পে আসতে চাইছে, তাদের জন্যে প্রবেশদ্বার বন্ধ করে দেবে। এর ফলস্বরূপ, দেশজুড়ে এ খাতে কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং অর্থনৈতিক গতিশীলতা দুটোই হোঁচট খাবে। এটি স্পষ্টতই নতুন উদ্যোক্তা তৈরির সম্ভাবনাকে উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে দেবে।
তাছাড়া, বিটুবি ব্যবসা, অর্থাৎ এক এজেন্সির অন্য এজেন্সির কাছে টিকিট বিক্রি করা, ট্রাভেল এজেন্সি ব্যবসার একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। অনেক ছোট এজেন্সি আছে যারা সরাসরি এয়ারলাইন্স থেকে টিকিট পায় না বা এতোটা পুঁজি নেই যে তারা বড় পরিসরে টিকিট কিনে রাখবে। এরাই বড় এজেন্সিগুলো থেকে টিকিট কিনে থাকে। এ ব্যবস্থা ট্রাভেল শিল্পে একটি সহযোগী ও সমন্বিত পরিবেশ বজায় রাখে। বিটুবি নিষিদ্ধ হলে ছোট এজেন্সিগুলো তাদের ব্যবসায়িক কার্যক্রম চালিয়ে যেতে পারবে না। কারণ গ্রাহকদের কাছে পৌঁছানোর জন্যে তাদের বিকল্পপথগুলো বন্ধ হয়ে যাবে। এর ফলে, বড় এজেন্সিগুলোর একচেটিয়া আধিপত্য তৈরি হবার সম্ভাবনা বাড়বে, যা’ মুক্তবাজার অর্থনীতির পরিপন্থী।
পর্যটন শিল্পে বাংলাদেশ ক্রমশ উন্নতি লাভ করছে। অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক ভ্রমণ বাড়ছে। এমন একটা সময়ে, সরকারের উচিত ছিলো এমন একটি আইন তৈরি করা যা’ এ শিল্পের বিকাশে আরো বেশি সহায়তা করবে, আরো বেশি মানুষকে এই ব্যবসায় আসার জন্যে উৎসাহিত করবে। কিন্তু এ খসড়া আইনের বিতর্কিত ধারাগুলো ঠিক তার উল্টো ফল বয়ে আনবে। ব্যবসার লাইসেন্স পেতে এতো বড় অংকের জামানতের শর্ত জুড়ে দেয়া একটি প্রকারের প্রতিবন্ধকতা তৈরি করলো, যা’ ছোট এবং মাঝারি ব্যবসায়ী বন্ধুদের জন্যে কোনোভাবেই সহায়ক হতে পারে না।
গ্রেটার রাজশাহী অ্যাসোসিয়েশন অব ট্রাভেল এজেন্সিস (রাটা)-এর নেতৃত্ববৃন্দ মানববন্ধনে যে দাবিগুলো তুলে ধরলেন, সেগুলোকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা অত্যন্ত জরুরী। সরকার যদি এ শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখতে চায় এবং ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’ গড়তে হলে সকল স্তরের উদ্যোক্তাদের কাজে লাগাতে চায়, তবে এ বিতর্কিত ধারাগুলো অবশ্যই সংশোধন করা উচিত। ছোট ট্রাভেল এজেন্সিগুলো বন্ধ হয়ে গেলে, শুধু তারা না, তাদের ওপর নির্ভরশীল হাজারো পরিবার সংকটে পড়বে। তাই, সরকারের প্রতি আমাদের আবেদন, দ্রæততার সঙ্গে এই খসড়া আইনের ত্রæটিপূর্ণ ধারাগুলো যাচাই করা হোক এবং সকল পক্ষের জন্যে একটি যৌক্তিক ও সহায়ক আইন প্রণয়ন করা হোক। এতে ট্রাভেল এজেন্সিগুলোও লাভবান হবে এবং দেশের পর্যটন শিল্পও সমৃদ্ধির পথে আরো এক ধাপ এগিয়ে যাবে বলে আমরা মনে করি।
১৯ নভেম্বর ২০২৫














